বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আয়োজকেরা দীর্ঘদিন একনিষ্ঠভাবে, বিশেষ করে গ্রিসের মানোলাদাসহ বিভিন্ন গ্রামে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে কয়েক বছর কাজ করে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছেন। গ্রিসের প্রবাসী অধিকার পরিষদের আমন্ত্রণে শিক্ষক ও নির্মাতা কুকরেজা এই প্রদর্শনীতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

প্রবাসী অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শেখ গিয়াস জানান, তাদের দীর্ঘ পরিশ্রমের ফসল এ প্রদর্শনী। বিশ্ববাসীকে গ্রিসের অনিয়মিত বাংলাদেশি অভিবাসীদের জীবনযাত্রা ও দুঃখের কথা তুলে ধরাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।

মানবসেবা, প্রবাসীকল্যাণ ও আশার আলো নামকরণের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয় বিভিন্ন পেশায় কর্মরত অনিয়মিত অভিবাসীদের। গ্রিসে ‘অবৈধ’ অনিয়মিত অভিবাসীশ্রমিক হিসেবে তাঁদের জীবনযাত্রার কঠিন পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছে আয়োজকেরা। এ প্রদর্শনীর আগে রীনা কুকরেজা গ্রিসের গ্রামে থাকা অনিয়মিত বাংলাদেশিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে আসছিলেন। প্রবাসী বাংলাদেশিরা ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত রীনা কুকরেজার কাছে বিভিন্ন উপায়ে বা মাধ্যমে ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে পাঠাতেন। ইতিমধ্যে গ্রিসে অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান বৃদ্ধি পাওয়ায় রীনা কুকরেজা সরাসরি তাদের কর্মকাণ্ড দেখার সুযোগ করে উঠতে পারেননি।

প্রদর্শনীতে প্রবাসীদের বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেছেন তাঁদের অমানবেতর জীবনের করুণ দিকগুলো। তাঁরা বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা আমাদের কণ্ঠস্বর গ্রিসের মূল সমাজকে জানানোর জন্য অংশগ্রহণ করছি। আমাদের সম্পর্কে স্থানীয় মানুষের ধারণা এবং দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে চাই।’

প্রবাসীরা আরও জানান, গ্রিসে অনিয়মিত অবস্থায় কাজ করা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি এবং অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদানের লক্ষ্যে নিজেদের পরিস্থতি তুলে ধরতে তাঁরা এই প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছেন। কৃষিশ্রমিকদের অধিকার শুধু গ্রিসে নয়, বিশ্বের সর্বত্র প্রাপ্য।

গ্রিসের বাংলাদেশি কমিউনিটিসহ সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে এ ব্যতিক্রমী প্রদর্শনী। প্রথম দিন থেকেই সেখানে ভিড় জমিয়েছেন বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, এনজিও, প্রবাসী অধিকার সংগঠন ও অভিবাসন সংশ্লিষ্ট নেতারা।

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন