default-image

কয়েক দিন আগের ঘটনা৷ বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান খেলা। আমেরিকায় ইন্টারনেট লাইভ টিভি চ্যানেলের সামনে বসে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে প্রিয় দল বাংলাদেশের খেলা দেখবেই এশা-আবীর। ওরা দু ভাইবোন। আবীর ৮ গ্রেড এবং এশা ৫ গ্রেডে পড়ে। পরদিন বুধবার সকাল সাতটায় স্কুলবাস ধরতে হবে। তবুও ওদের এক কথা, ‘দেখব বাংলাদেশের খেলা।’
সাধারণত আমেরিকায় সকালে স্কুল ও অফিসগামী লোকজন রাত আটটার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়েন। টিভি চ্যানেলের সামনে বসে এশা প্রিয় দল বাংলাদেশকে উদ্দেশ করে বলল, ‘ঘুমাবার আগে হলেও অন্তত ১০০ রান করে যা প্লিজ।’ ক্রিকেট সম্পর্কে আবীর বুঝলেও এশা তেমন বুঝে না। এরা বাংলাদেশ ছেড়েছে ২ বছর ৮ মাস আগে। এশা ক্রিকেট না বুঝলেও লাল-সবুজ মানে বাংলাদেশ, সেটা বুঝে বেশ। এশাকে প্রশ্ন করা হলো, ‘কেন তুমি বাংলাদেশ দলের ক্রিকেট দেখছো?’ সে বলল, ‘আই উইল বি পার্ট অব বাংলাদেশ ইভেন দে উইন অর লস, আই বিলিভ মাই কান্ট্রি৷’ অপরদিকে ক্রিকেট–অনভূতি জানাতে গিয়ে আবীর বলল, ‘আই ফিল হ্যাপি বিকজ আই অ্যাম ওয়াচিং মাই কান্ট্রি প্লে৷’

default-image


বাংলাদেশি খেলোয়াড়েরা ৪-৬ ছক্কা মারলে চেয়ার থেকে লাফ দিয়ে উঠছিল ওরা। সে কি আনন্দ—অন্য রকম অনুভূতি! আমি একজন বাবা হয়ে সেদিন খুব কাছে থেকে বাংলাদেশ দেখেছি। আবীরের চোখে ঘুম আসে আর চোখে পানি দেয়। ৩ উইকেট চলে যাওয়ার পর আবীর খুব টেনশনে পড়ে যায়। এশা বারবার বলছে, ‘বাবা সাকিব কখন আসবে? শুনেছি ও নাকি ওয়ার্ল্ড ফেমাস।’ সাকিবকে দেখে আর ঘুম নেই চোখে দুজনের। সাকিব-মুশফিক ব্যাটিংয়ে। এবার ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ! সত্যি বাংলাদেশকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। অভিনন্দন বাংলাদেশ। আবীর-এশা তোমার সঙ্গে থাকবে আজীবন।
দৈবক্রমে গিন্নির পারিবারিক সূত্রে ইমিগ্রান্ট হয়ে জুলাই, ২০১২ সালে আমি এদের নিয়ে আমেরিকায় আসি। স্বপ্ন একটাই, ওদের পড়ালেখা। এরা দুজনই চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী স্কুল সেন্ট মেরিস ও সেন্ট প্লাসিডস স্কুলে প্রাইমারি লেভেল শেষ করেছিল।

default-image

জীবনের ৪০ বছর পার করেছি বাংলার মাটিতে। জন্ম চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানার ধনিয়ালাপাড়ায়। বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামে। প্রবাসজীবন কাটছে যার পর নেই কষ্ট করে। তবুও চলছে জীবন জীবনের নিয়মে। সংক্ষিপ্ত পর্যবেক্ষণে বলা যায়, এখানে (আমেরিকায় ) নানা জাতের মানুষের সহাবস্থান। বাস্তবতা হলো—কাজ। হতাশ হওয়ার মতো যথেষ্ট উপকরণ থাকলেও ওপরে ওঠার অন্তহীন সিঁড়িও (সুযোগ) রয়েছে। আমেরিকায় আসার আগে দৈনিক পূবর্কোণ–এর শ্রদ্ধেয় সম্পাদক তসলিম উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম৷ তিনি আমাকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘বয়স কত চলছে তোমার?’ উত্তর শুনে তিনি বললেন, ‘তাহলে তুমি ১০ বছর কাজে লাগাতে পারবে। যদিও আমেরিকানরা বয়সকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয়।’ আমি অর্থনীতি বুঝি না, তবে সাদা চোখে দেখে বুঝতে কষ্ট হয় না, আমেরিকার অর্থনৈতিক অবস্থা বর্তমানে ভারসাম্যপূর্ণ। ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান তো পুঁজিবাদী সমাজে চোখে পড়ার মতো। কেন এত ওপরে চিন্তা করলাম জানি না। তবে দোষ কিসের। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, ‘আমেরিকার জনগণ আমাকে প্রশ্ন করেন, তুমি (ওবামা) কার জন্য?’ তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, ‘আওয়ার ইকোনমি ওয়ার্কার্স ফর এভরি ওয়ার্কিং আমেরিকান।’
যাক, এত কষ্ট সেদিন আমার কাছে কিছুই মনে হয়নি। যখন দেখলাম আমার দেশ, আমার সঙ্গে আছে৷ জ্বলে ওঠো বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন
দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন