default-image

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারকে করোনা চিকিৎসায় উপযোগী করার জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অব কানাডা ইনক (CUAAC) ১০ লাখ টাকা প্রদান করেছে।

পে–অর্ডারের মাধ্যমে এ টাকা দেওয়া হয়েছে বলে সিইউএএসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

সিইউএএসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের এই দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে কানাডায় বসবাসরত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষকদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অব কানাডা ইনকের (CUAAC) সদস্যদেশের জন্য কিছু একটা করার অভিপ্রায়ে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেয়। কোনো এক বিকেলে সংগঠনের সভাপতি বাহাউদ্দিন বাহার, সাধারণ সম্পাদক তাপস ভট্টাচার্য, সংগঠনের একনিষ্ঠ কর্মী নাজমুল মুন্সী, কার্যকরী কমিটির সদস্য সুধান কুমার রায় এবং সংগঠনের আজীবন সদস্য আজিম উদ্দিন শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে বসে যান আলোচনায়। আলোচনা হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারকে করোনা চিকিৎসায় উপযোগী করার জন্য কিছু করা যায় কি না। দেরি নয়, নাজমুল মুন্সিকে দায়িত্ব দেওয়া হয় ভাইস চ্যান্সেলরের সঙ্গে যোগাযোগ করার। ওই দিনই তিনি কথা বলেন ভিসির সঙ্গে। ভিসি ড. শিরীন আক্তার এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী এবং অত্যন্ত মানবিক উদ্যোগ বলে আখ্যায়িত করেন এবং এ সহায়তার প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানান।

default-image

সিইউএএসি সব সময় আমরাতে বিশ্বাসী, আমিতে নয়। তাই যেকোনো সিদ্ধান্ত কার্যকরী কমিটিতে আলোচনা করেই নেওয়া হয়। এখানেও ব্যতিক্রম হয়নি। কার্যকরী কমিটির ভার্চ্যুয়াল জরুরি সভায় সব সদস্য সর্বসম্মতিক্রমে আন্তরিকভাবে এ প্রস্তাবকে সমর্থন করেন। বৈঠকেই কমিটির সদস্যদের থেকে প্রায় ৬ হাজার ডলারের (প্রায় ৪ লাখ টাকা) প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়। লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয় ১০ লাখ টাকা। পরের দিন সবাইকে কমিটির সিদ্ধান্ত ই–মেইলে জানানো হয়। সেই সঙ্গে ফোনে সবার সঙ্গে যোগাযোগ করার লক্ষ্যে একটা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন নাসিমা বেগম, শরীফা কামাল, তেহজীনা এমদাদ, কানিজ ফাতেমা, সমর পাল, আ ম ম তোহা, আনোয়ার সাদাত, স্বপন কুমার নাথ, মোহাম্মদ আজম, হাসান তারিক চৌধুরী, তানভী রেয়াজি আলম, বিশ্বজিৎ পাল, রফিকুল ইসলাম, বাহাউদ্দিন বাহার, তাপস ভট্টাচার্য ও সাজ্জাদ হোসেন। সবার সম্মিলিত ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মাত্র ৭ দিনের মধ্যেই ১০ লাখ টাকা সংগৃহীত হয়। নাজমুল মুন্সি চবি মেডিকেল সেন্টার উন্নয়ন প্রজেক্টের আহ্বায়ক ড. মুনীর উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একই সঙ্গে বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থানরত উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য চবির সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক সাব্বির চৌধুরীকে সংগঠনের পক্ষ থেকে দায়িত্ব অর্পণ করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য। অধ্যাপক সাব্বির চৌধুরী দ্রুততম সময়ে ১০ লাখ টাকার পে–অর্ডার বিশ্ববিদ্যালয় ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দেন। বিশ্ববিদ্যালয় সহকারী হিসাব নিয়ামক তাঁর প্রাপ্তি স্বীকারপত্র সই করেন ও ড. মুনীর উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলে টাকা হস্তান্তরের ব্যাপারে নিশ্চিত করেন। এই দুর্যোগময় পরিস্থিতিতেও যেভাবে আন্তরিকতার সঙ্গে সহায়তা করেছেন, এ জন্য অধ্যাপক সাব্বির চৌধুরীকে সংগঠনের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।

এই দুঃসময়ে মহতী উদ্যোগকে সার্থক করার জন্য যাঁরা সহযোগিতা করেছেন, বিশেষ করে সাবেক শিক্ষকমণ্ডলী, কার্যকরী কমিটির সব সদস্য, আজীবন সদস্য, সাধারণ সদস্য, উপদেষ্টামণ্ডলী, আঞ্চলিক প্রতিনিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের ধন্যবাদ জানানো হয় সিইউএএসির পক্ষ থেকে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0