বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আমি বুসানে থাকি। বুসান প্রাকৃতিকভাবেই অনন্য একটি শহর। দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যস্ততম পোর্ট সিটিটিতে অনেকগুলো সুন্দর সুন্দর সি-বিচ রয়েছে। হেয়ুন্দে তার মধ্যে অন্যতম। অত্যন্ত কাঙ্ক্ষিত এ ছুটির সময় আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম এ সময়ে একটা স্বল্প পরিচিত আইল্যান্ড ভ্রমণের! পরিকল্পনা অনুযায়ী চুংডাং বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মিজান ও তাঁর পরিবার, ড. বাবু, মাহবুব সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম কোরিয়ার তংইয়ং সিটির গিয়াংসান বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্ট–ডক্টরাল গবেষক ড. পি কে রায়ের বাসায় ভ্রমণের। দেড় লক্ষাধিক জনসংখ্যার এই ছোট্ট সিটিটি কোরিয়ার দক্ষিণ–পশ্চিমে অবস্থিত। সমুদ্র পরিবেষ্টিত এ পোর্ট সিটিটি অনেকগুলো আইসোলেটেড দ্বীপের সঙ্গে সংযুক্ত। তংইয়ং ইউনেসকো ঘোষিত ‘ক্রিয়েটিভ সিটি অব মিউজিক’–এর মর্যাদাপ্রাপ্ত এবং সমুদ্রের পরিষ্কার ও নীলাভ জলরাশি একে অনন্য করে তুলেছে।
তংইয়ং সিটি থেকে আমাদের বহুল কাঙ্ক্ষিত দ্বীপ বিজিনদো দ্বীপ ফেরিতে যেতে হয়।

default-image

চারদিকে নীলাভ জলরাশির মাঝখান দিয়ে ছুটে চলছে আমাদের ফেরি। রহস্যময় দ্বীপটি ‘৪’ আকৃতির! এর মধ্যকার ছোট্ট একটি ল্যান্ডস্কেপ বিভক্ত করে রেখেছে। অবাক করার বিষয় হলো পশ্চিমের সি-বিচ রুপালি বালুতে পরিপূর্ণ ও শান্ত শীতল জলরাশির, অন্যদিকে ল্যান্ডস্কেপের অন্যদিকেই পূর্ব দিকের সি-বিচ, পুরোটাই পাথুরে, কিছুটা উষ্ণ জলরাশির ও শক্তিশালী ঢেউ একে পুরো বিপরীতমুখী করে রেখেছে অন্যটি থেকে। প্রকৃতি কতই না বিচিত্র!!

কোরিয়ায় এ পর্যন্ত অনেক পর্যটন স্পটে ঘুরেছি। প্রতিটি জায়গাকে এদের নাগরিকেরা নিজেদের মতো করে নেয়। আর তাই তো কোথাও ময়লা পাবেন না। আমরাও খেয়েদেয়ে নিজেদের সঙ্গে রাখা ব্যাগে করে সব ব্যবহার করা বোতল ও প্যাকেট নিয়ে ফিরতি ফেরি ধরার জন্য রওনা দিলাম।

default-image

পরের দিনে আমাদের টার্গেট ছিল ‘ডারা পার্ক’ ভ্রমণের। এ পার্কের সর্বোচ্চ বিন্দু থেকে সমুদ্রের নীলাভ জলরাশির মধ্যে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়। আমাদের পুরো ভ্রমণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল আনায়া। ছোট্ট এই পরিটি তার আদুরে সব কর্মকাণ্ড দিয়ে সর্বদা মাতিয়ে রেখেছিল আমাদের। তংইয়ং ভ্রমণ শেষে সবাই আবারও ছুটে চললাম নিজেদের শহরের দিকে আবার কর্মব্যস্ত জীবনের সন্ধানে!

বিকাশ রায় গবেষক, বুসান, দক্ষিণ কোরিয়া

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন