default-image

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অব কানাডা (চুয়াক) আবার দেখিয়ে দিল, জানিয়ে দিল, আমরা সক্ষম এবং আধুনিক একটা সংগঠন। এই সংগঠন সময়ের সঙ্গে, যুগের সঙ্গে, পরিবেশ-পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খেয়ে চলতে শিখেছে। মহামারি করোনার বিষাক্ত ছোবলে পুরো বিশ্ব যেখানে আজ ক্ষতবিক্ষত, পরাভূত, সেখানে ‘চুয়াক (cuaac)’ সাহসী সৈনিক। ক্রমাগত সাফল্যের উপচে পড়া ঝুড়িতে আরও একটি কৃতিত্বের জয়মালা যুক্ত  হলো।

বর্তমান ২০১৮-২০২০ কার্যকরী কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় এই মহামারিতে প্রযুক্তির ব্যবহার করে কীভাবে সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব নতুন কমিটির কাছে হস্তান্তর করা যায়, সেই লক্ষ্যে কার্যকরী কমিটি, উপদেষ্টা কমিটি ও আঞ্চলিক প্রতিনিধি তিন কমিটির এক যৌথ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় ৪ এপ্রিল বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচনের দিন ধার্য করা হয়। যথারীতি সার্চ কমিটির মাধ্যমে সমর পালকে প্রধান নির্বাচন কমিশনের এবং ফরিদ উদ্দিন খান সিদ্দিকী ও মনিরুল ইসলামকে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত করে একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। নির্বাচন কমিশন যথারীতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। ২৩ ও ২৪ মার্চের প্রেসিডেন্ট, সাধারণ সম্পাদক ও ট্রেজারার পদের নমিনেশন জমা দেওয়া এবং মার্চের ২৬ তারিখ প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় নির্ধারণ করে।

৪ এপ্রিল বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচনের দিন তিন পর্বে বিভক্ত ছিল সভা। প্রথম পর্বে ছিল উদ্বোধনী ও সাধারণ আলোচনা সভা। বিগত বছরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং ছাত্রছাত্রী যাঁরা মৃত্যুবরণ করেছেন, তাঁদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতার মধ্য অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বের সূচনা হয়। এর পরপরই  দুই দেশের জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়। শুরুতেই সংগঠনের বর্তমান সভাপতি বাহাউদ্দিন বাহার সবাইকে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য ধন্যবাদ জানান। সেই সঙ্গে সংগঠনকে এই পর্যায়ে নিয়ে আসার পেছনে সবার সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করার জন্য সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তাপস ভট্টাচার্যকে অনুরোধ করেন। এই পর্বে আলোচনায় অংশ নেন কানাডায় বসবাসরত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং ছাত্রছাত্রীরা। যাঁরা আলোচনা করেন, তাঁরা হলেন উপদেষ্টা পরিষদের যথাক্রমে ড. সদরুল হক, ড. শাহাদাত হোসেন খান, ড. সুজিৎ দত্ত, ড. সাইফুল্লাহ চৌধুরী, ড. কাঞ্চন পুরোহিত, আশীষ বড়ুয়া, প্রতিষ্ঠাতা সদস্যসচিব সব্যসাচী চক্রবর্তী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিনয় মজুমদার, হেমিল্টন প্রতিনিধি এমাদ চৌধুরী, পিটারবোরো প্রতিনিধি মোজাম্মেল হক। আরও বক্তব্য দেন তানভী হক, খোরশেদ আলম খান, কামরুল আলম চৌধুরী, সারওয়ার জামান, আনোয়ার সাদাত, হুমায়ুন কবির, হাসান তারিক চৌধুরী ধুর্জুটি ছন্দ, কাজী আবদুল বাসিত, ইয়াছিনুল চৌধুরী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অব কানাডার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া। বক্তব্যে সবাই চুয়াকের ধারাবাহিক উন্নতির ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এর জন্য বর্তমান কমিটির নেতাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব ছিল সাংগঠনিক পর্ব। চা বিরতির পর দুপুর ১২টায় শুরু এ পর্বের। গত কমিটির  ২৯ জনের ফ্যান্টাস্টিক টিম মেম্বার, উপদেষ্টা কমিটির সম্মানিত সদস্য এবং আঞ্চলিক প্রতিনিধিদের সবার সঙ্গে শেষবারের মতো পরিচিত করান হয় এবং সেই সঙ্গে বিগত ২ বছর তাঁদের অবদান ও কঠোর পরিশ্রমের জন্য আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়। এই পর্বে সাধারণ সম্পাদক তাপস ভট্টাচার্য তাঁর বার্ষিক প্রতিবেদন সবার সামনে উপস্থাপন করেন। তাঁর বক্তব্যে সংগঠনের বিশেষ প্রাপ্তিগুলোর কথা তুলে ধরেন। অনেক মাইলফলকের মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারকে কোভিড চিকিৎসা উপযোগী করার জন্য ১০ লাখ টাকার অনুদান উল্লেখযোগ্য এবং সবার প্রশংসা অর্জন করে। এর পরপরই বার্ষিক আর্থিক বিবরণী প্রদানের সময়। ২০১৮-২০২০ সালের আর্থিক বিবরণী উপস্থাপন করেন অর্থ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন। ২০ হাজার ডলারের বিশাল অর্থ সাশ্রয় সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এই প্রথমবারের মতো অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সর্বোচ্চ অর্থ সংগ্রহের এবং মানবিক খাতে সর্বোচ্চ অনুদানের মাইলফলক অর্জিত হয়। সাধারণ সম্পাদক ও অর্থ সম্পাদক উপস্থিত অনেকের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। পরে সবার সম্মতিতে দুই বিবরণী অনুমোদিত হয়। এই পর্বের শেষে সংগঠনের সভাপতি বাহাউদ্দিন বাহার ২০১৮-২০২০ সালের কার্যকরী কমিটির বিলুপ্তি ঘোষণা করেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

৩০ মিনিটের লাঞ্চ বিরতির পর বেলা ২টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠানের তৃতীয় ও শেষ পর্ব শুরু হয়। এই পর্ব ছিল নির্বাচন পর্ব। পরিচালনায় ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার সমর পাল এবং অন্য দুজন নির্বাচন কমিশনার ফরিদ উদ্দিন খান সিদ্দিকী ও মনিরুল ইসলাম। তাঁদের সূচনা বক্তব্যের পরপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অব কানাডা ইনক-এর ২০২১-২০২৩ সালের কার্যকরী কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং ট্রেজারের নাম ঘোষণা করেন। এবার শুধু একটি প্যানেলের মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। সেহেতু প্রার্থিতার সব যোগ্যতা পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই করে সভাপতি পদে এ এম এম তোহা, সাধারণ সম্পাদক পদে সাজ্জাদ হোসেন এবং বিশ্বজিত পালকে অর্থ সম্পাদক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করেন। নবনির্বাচিতদের স্বাগত জানান যথাক্রমে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া, ড. সাইফুল্লাহ চৌধুরী, সুধান কুমার রায়, নাজমুল মুন্সী, সব্যসাচী চক্রবর্তী, ওয়াটারলু প্রতিনিধি কাজী তোফায়েল আহমেদ, মোশারফ হোসেন ও আরও অনেকে।
শেষে সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দীর্ঘ ৬ ঘণ্টার এক প্রাণবন্ত অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন অনুষ্ঠানের সভাপতি বাহাউদ্দিন বাহার। বিজপ্তি

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন