বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইয়ানেজ পোকলুকার জানান, ‘বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী সাময়িক সময়ের জন্য স্লোভেনিয়ায় জনসন অ্যান্ড জনসনে করোনা টিকার প্রয়োগ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে টিকা গ্রহণের পর কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার প্রভাবে ২২ বছর বয়সী এ তরুণীর মৃত্যু হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো আমরা পুরোপুরিভাবে নিশ্চিত নই। তাই সামগ্রিক বিষয়ে অধিকতর তদন্তের প্রয়োজন।’

গ্রীষ্মের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে স্লোভেনিয়াসহ আশপাশের দেশগুলোতে ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনার নতুন ধরন ডেলটার প্রভাবে দেশটিতে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে আর্থিক লোকসান ও জনজীবনের স্থবিরতার কথা চিন্তা করে এ মুহূর্তে স্লোভেনিয়ার সরকার বিধিনিষেধের মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চাইছে না। বরং সরকারের পক্ষ থেকে দেশটিতে বসবাসরত প্রাপ্তবয়স্ক সব নাগরিককে টিকার আওতায় আনার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অন্যান্য দেশের মতো স্লোভেনিয়াও ধীরে ধীরে সর্বত্র গ্রিন পাস বাধ্যতামূলক করার পথে হাঁটছে। বিশেষত বার, রেস্টুরেন্ট, কফি শপ, পোস্ট অফিস ও ব্যাংকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রবেশের ক্ষেত্রে গ্রিন পাস কিংবা ৪৮ ঘণ্টা পূর্বের কোভিড নেগেটিভ সনদের প্রয়োজন হয়। স্লোভেনিয়াতে এখন পর্যন্ত (২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) মোট ১ লাখ ২০ হাজার মানুষকে এ টিকা দেওয়া হয়েছে। এর আগেও দেশটিতে এ টিকা গ্রহণের পর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার প্রভাবে মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।
কয়েক সপ্তাহ আগে জনসন অ্যান্ড জনসন উদ্ভাবিত এক ডোজের টিকা নেওয়ার পর ২০ বছর বয়সী একজনের মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ ও রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনার শিকার হন। পরে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এ ছাড়াও এ টিকা গ্রহণকারী আরও এক তরুণীর মধ্যে শারীরিক জটিলতা দেখা যায়, যদিও বর্তমানে তিনি সুস্থ্য আছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। পৃথিবীর অন্যান্য অনেক দেশে বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে এ টিকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তবে স্লোভেনিয়া মুষ্টিমেয় কয়েকটি দেশের মধ্যে একটি, যেখানে ১৮ বছরের অধিক বয়সী যেকোনো নাগরিক জনসন অ্যান্ড জনসনের করোনা টিকা নিতে পারতেন। যদিও গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে এ টিকাকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

এর আগে গত মার্চ মাসে রক্ত জমাট বাঁধার আশঙ্কায় স্লোভেনিয়ার সরকার অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা প্রয়োগ স্থগিত করেছিল। অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও জনসন অ্যান্ড জনসন উভয় টিকার ভাইরাল ভেক্টর ফর্মুলায় তৈরি।

স্লোভেনিয়া সরকারের টিকা কার্যক্রম প্রকল্পের প্রধান উপদেষ্টা বোয়ানা বিওভিচ বলেছেন, ‘জনসন অ্যান্ড জনসনের এক ডোজের করোনা টিকার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে আমাদের আরও এক সপ্তাহ গবেষণার প্রয়োজন। এরপর হয়তোবা আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারব, আদতে আমাদের এ টিকার প্রয়োগ পুরোপুরিভাবে বন্ধ করা উচিত কি না। তবে বর্তমানে আমরা ফাইজার ও বায়োএনটেক এবং মডার্না উদ্ভাবিত এমআরএনএ টিকার সাহায্যে পুরো টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে চাই।’
*লেখক: রাকিব হাসান রাফি, শিক্ষার্থী, ইউনিভার্সিটি অব নোভা গোরিছা, স্লোভেনিয়া।

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন