বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

বইটির নামকরণের ঘটনা এবং কারণগুলো বেশ কৌতূহলউদ্দীপক। ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার এক প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ১৯৯৪ সালের ২২ এপ্রিল মাহমুদ জাকের জাপানের সাইতামা শহরের একটি ইউনিভার্সিটিতে এক বছরের ভাষা শিক্ষা কোর্সে জাপান আসেন। জাপানে প্রবেশের প্রথম দিন তাঁর বড় ভাইয়ের বাসায় (টোকিওর ইতাবাশিকুতে) উঠেন। উল্লেখ্য, জাপানে তখন বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের শ্রমিক অর্থ সাশ্রয়ের জন্য কঠিন মানবেতর জীবন যাপন করতেন। এর কারণ, সেই সময় তাঁর বড় ভাইয়ের বাসায় গোসলখানা ও টয়লেটের ব্যবস্থা ছিল না। ক্লান্ত জাকের গোসল করতে চাইলে তাঁর বড় ভাই তাঁকে পাশের জাপানের আদি সংস্কৃতির পাবলিক কোয়েন গোসলখানায় নিয়ে যান। জাপানিজদের পাবলিক বাথে প্রবেশ করে বিবস্ত্র হয়ে গোসলের সংস্কৃতি হাজার বছরের পুরোনো। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা জাকের জীবনে প্রথম এটা দেখে হতবাক হয়ে মানসিকভাবে ধাক্কা খান। কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে জাকের নিজের দীর্ঘদিনের লালিত সংস্কৃতি এবং আমিত্বকে বিসর্জন দিয়ে গাইতে থাকে (দড়ি ছিঁড়া পরাণ কাইড়া কইরা সর্বনাশ আমার পাগলাঘোড়ারে কই থেইকা কই লইয়া যাস) এই বলে কাঁদতে কাঁদতে গোসলখানায় প্রবেশ করেন। গোসলখানার পানির সঙ্গে জাকেরের দুই চোখের অশ্রু একাকার হয়ে মিশে যায়..!! জাকের নিজেকে নিজে বলে নাচতে নেমে ঘোমটা দিয়ে কি লাভ..?? শেখার জন্য এসেছি জীবনে সবকিছুই শিখতে হবে। এ বলে জাকের তাঁর গোসল শেষ করেন।

default-image

ডায়েরি লেখা জাকেরের নিয়মিত অভ্যাস ছিল। জাপানের কঠিন সংগ্রামী দৈনন্দিন জীবনে সেটা আরও প্রবল হয়ে উঠে। জাকের আঘাতে আঘাতে অনেক শক্ত হয়ে উঠেন। মানিয়ে নেন নিজের ভাগ্য এবং কঠিন বাস্তবতাকে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, খণ্ডকালীন চাকরিসহ জাকের সফলতার সঙ্গে এগিয়ে যেতে থাকেন। জাপানের সরকারি গণমাধ্যম এনএইচকে (NHK) টেলিভিশন আয়োজিত জাপানি ভাষায় বিদেশি ছাত্রদের বিতর্ক প্রতিযোগিতায় জাকের ১৫০টি দেশের ছাত্রদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেন। সে সঙ্গে সফলভাবে চার বছর স্কলারশিপ পেয়ে ইউনিভার্সিটি জীবন শেষ করেন। শিক্ষাজীবন শেষে জাপান ইমিগ্রেশনে দোভাষী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন জাকের।

default-image

ওসাকা এলাকার সুইতা শহরের মেয়র বইটির সফট কপি পড়ে বিমোহিত হন। মেয়র মাহমুদ জাকেরকে পরিবারসহ আমন্ত্রণ জানান মেয়র অফিসে। তিনি বইয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বইয়ে লিখিতভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মেয়র, যা পরের মুদ্রনে বইয়ের শেষের কলামে সংযুক্ত রয়েছে। মাহমুদ জাকের এখন জাপানের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বইটির প্রকাশনী উৎসব আগামী মে মাসের ২১ তারিখ অনুষ্ঠিত হবে। ওসাকার সুইতা শহরের মেয়রের উপস্থিতিতে জাকেরের প্রিয় তিনজন প্রবাসী বাংলাদেশি উক্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এমন গৌরবময় অনুষ্ঠানে আমাদের বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত থাকবেন কি না, এমন প্রশ্ন করলে জাকের মাহমুদ হাসতে হাসতে বললেন, এই সামান্য কাজে উনি কি শরিক হবেন, তবে ওনাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে....!!

জাকেরের বড় ভাই বাকের মাহমুদ আমার জাপানের পুরো ৩০ বছরের প্রবাস জীবনের বন্ধু। আমরা একসঙ্গে পত্রিকা প্রকাশ থেকে নানা সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি আছি। জাকেরকে আমি প্রথম থেকে চিনি এবং বড় ভাইয়ের বন্ধু হিসেবে চিরকাল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা পেয়েছি। প্রকাশনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকব বলে আশা রাখি।

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন