default-image

যথাযথ মর্যাদা ও গুরুত্বসহ নানা আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস পালন করেছে জাপানের বাংলাদেশ দূতাবাস। আজ (২৬ মার্চ) মঙ্গলবার দিবসের প্রথম ভাগে রাজধানী টোকিওর দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুরু হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। পরে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত ও বাংলাদেশের সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করা হয়। এ ছাড়া জাপানের স্থানীয় পত্রিকায় দিবসটি উপলক্ষে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় দুপুরে টোকিওর এক হোটেলে এ দিবস উপলক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ড. তোশিকো আবে। আরও উপস্থিত ছিলেন জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লীগের মহাসচিব ও দেশটির ভূমি, অবকাঠামো, যোগাযোগ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী ইচিরো সুকুদা, ডেপুটি চিফ কেবিনেট সেক্রেটারি ইয়াসুতোশি নিশিমুরা, অলিম্পিক ও প্যারা-অলিম্পিক ২০২০ সংক্রান্ত মন্ত্রী ইয়োশিতাকে সাকুরাদা এবং পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী মিনোরু কিউচি। এ ছাড়া দেশটির উচ্চপর্যায়ের নেতা, সংসদ সদস্য, দেশটিতে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, ব্যবসায়িক নেতা এবং প্রবাসী বাংলাদেশি প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

default-image

অনুষ্ঠানে ভায়োলিনের সুরে জাপান ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। অতিথিদের নিয়ে কেক কেটে রাষ্ট্রদূত সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শুরু করেন।

রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা তাঁর শুভেচ্ছা বক্তব্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং দেশটির সম্রাট আকিহিতো ও প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি জাপান-বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন ও বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগিতার জন্য জাপান সরকার ও জনগণের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

default-image

রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা ও বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভাবনা উল্লেখ করে জাপানি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বাংলাদেশকে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও শোষণমুক্ত সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গৃহীত রূপকল্প ২০২১ ও রূপকল্প ২০৪১কে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন মডেল হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকার নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ড. তোশিকো আবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাপান সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানান। তিনি তাঁর বক্তব্যে জাপান-বাংলাদেশের বন্ধুত্বের কথা উল্লেখ এবং রোহিঙ্গা সমস্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকা ও নেতৃত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা করেন দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক দিন দিন আরও গভীর হবে।

default-image

এ ছাড়া ইচিরো সুকুদা জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লীগের সভাপতি উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী তারো আসোর শুভেচ্ছা বাণী পাঠ করে শোনান।

default-image

আগত অতিথিদের বাংলাদেশি বিভিন্ন ধরনের উপহার প্রদান করা হয় এবং বাংলাদেশি খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। বিজ্ঞপ্তি

বিজ্ঞাপন
দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন