বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

করোনার বিধিনিষেধ কিছুটা হালকা হতেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাংলাদেশ সমিতি ই.ভি হামবুর্গ এ অচলায়তন ভাঙার প্রয়াস নেয়। সংগঠনটির আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরা নগরীর প্রাণকেন্দ্রে হামার পার্কের সবুজের বুকে এসে সমবেত হন। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরদের বাংলা ভাষার কলকাকলিতে যে কারও মনে হবে এ যেন জার্মানির বুকে ক্ষণিকের বাংলাদেশ!

মুখরোচক নানান রকমের গ্রিল করা খাবারের সঙ্গে গল্প, আড্ডায় জমে ওঠে হামার পার্ক প্রাঙ্গণ। উপস্থিত শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার থিম ছিল বাংলাদেশ। প্রবাসী মা–বাবার সন্তানদের জন্ম ও বেড়ে ওঠা জার্মানিতে। তাদের অনেকেই বাংলা সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার সুযোগ পায়নি। কেউ কেউ বাংলা ভাষায় ভালো করে কথাও বলতে পারে না। কিন্তু তাদের ধমনিতে মিশে আছে বাংলাদেশের শোণিত-প্রাণ। এমনই ছোট ছোট শিশুর রংপেনসিলের কোমল ছোঁয়ায় উঠে আসে নয়নাভিরাম বাংলাদেশের নানান দৃশ্যপট। নারী-পুরুষদের বিভিন্ন স্পোর্টস ইভেন্ট ছিল টান টান উত্তেজনায় ভরা।

বিপুল করতালি ও ভালোবাসার মাধ্যমে বরণ করে নেওয়া হয় বাংলাদেশ সমিতি ই.ভির নবগঠিত কার্যনির্বাহী কমিটিকে।

default-image

গল্প-কথায় সময় যে কখন ফুরিয়ে যায়, সেদিকে কারও যেন হুঁশ ছিল না। সুয্যিমামা মাথার ওপর থেকে পশ্চিম দিগন্তে হেলে পড়তে শুরু করেছিল। ততক্ষণে আনন্দমেলার শেষের বাঁশি বাজতে শুরু করেছে।

অনুষ্ঠানের শেষাংশে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘দলমত, জাতি-ধর্ম, পদ-পদবিনির্বিশেষে আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয় আমরা বাংলাদেশি। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ সমিতি প্রবাসীদের কল্যাণে তার কাজের ধারা অব্যাহত রাখবে।’

হামবুর্গে বসবাসরত প্রবীণতম বাংলাদেশি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব আলম বলেন, এখানকার প্রবাসীদের সবাইকে একটি মঞ্চে এনে সমবেত করার প্রয়াস নিয়েছে বাংলাদেশ সমিতি। এ ধরনের উদ্যোগের কারণে এই দূরদেশেও বাংলাদেশের সংস্কৃতির চর্চা অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়েছে। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক ইসমে আজম, বীর মুক্তিযাদ্ধা আতিকুর রহমান, ফরিদ আলম, আদনান আবদুল হাই, জুলফিকার হায়দার, মাহফুজুল হক, রবিউল হক, মোজ্জাম্মেল ফারুক, মতিউর রহমানসহ অন্যরা। আনন্দমেলায় প্রায় ২০০ প্রবাসী বাংলাদেশি অংশ নেন।

default-image

বাংলাদেশ সমিতি ই.ভি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭২ সালে, স্বাধীনতার দিন কয়েক পরই। সংগঠনটি জার্মানিতে সরকারিভাবে নিবন্ধিত।

*লেখক: ভাইস প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ সমিতি ই.ভি হামবুর্গ, জার্মানি

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন