বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ছয় কোটির বেশি ভোটার অধ্যুষিত জার্মানিতে এবারের নির্বাচনে মোট ৪৭টি দল ও গ্রুপ অংশগ্রহণ করেছে। কিন্তু ধারণা করা যাচ্ছে, বর্তমান পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোই পুনরায় নির্বাচিত হয়ে আসবে। অর্থাৎ, বর্তমান পার্লামেন্টে সিডিইউ, সিএসইউ, এসপিডি, গ্রিন পার্টি, এফডিপি, এএফডি, লিংকে—এই দলগুলোই আবার বুন্দেসটাগে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করবে।

উল্লেখ্য, জার্মান চ্যান্সেলর কিন্তু জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত নন। তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হতে হয়। এতগুলো দল সংসদ নির্বাচনে অংশ নিলেও পার্লামেন্টে বা বুন্দেসটাগে কেন হাতেগোনা কটা দল, এমন প্রশ্ন আসাটি স্বাভাবিক। তার একমাত্র কারণ, জার্মান ভোটপদ্ধতি। ৫৯৮ আসনবিশিষ্ট জার্মান পার্লামেন্টে অন্তর্ভুক্তির অন্যতম শর্ত হলো যে দল বা গ্রুপ পুরো দেশে প্রাপ্ত বৈধ দ্বিতীয় ভোটের কমপক্ষে ৫ শতাংশ বা তার অধিক ভোট পাবে, শুধু সেই দলই পার্লামেন্টে প্রতিনিধি পাঠাতে পারবে।

সরকার গঠনের জন্য কমপক্ষে ৩০০ আসন বা সদস্যের ভোটের প্রয়োজন হয়। পুরো দেশে সংসদীয় এলাকা ২৯৯টি।

ভোটকেন্দ্রে একজন ভোটারকে দুটি ব্যালেট পেপার সরবরাহ করা হয়। প্রথম ব্যালেটে ভোটার তাঁর পছন্দের ও প্রথম ভোটটি প্রয়োগ করেন তার সংসদীয় এলাকার প্রার্থীকে।

এসব প্রার্থী সরাসরি নির্বাচিত বা ডিরেক্ট ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত। অন্য ব্যালেটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই ভোটার তাঁর দ্বিতীয় ভোটার তাঁর দ্বিতীয় ভোটটি কোনো রাজনৈতিক দলকে দেন। আর এই দ্বিতীয় ভোটের মাধ্যমেই নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারিত হয়।

৬ সেপ্টেম্বর আইএনএসএ পরিচালিত জরিপে প্রাপ্ত ভোটের হার, দলীয় রং নিম্নে বর্ণিত হলো:
দল সম্ভাব্য প্রাপ্ত ভোটের হার আদর্শিক কারণে দলের রং
এসপিডি ২৬% লাল
সিডিইউ/ সিএসইউ ২০.৫% কালো
গ্রিন ১৫.৫% সবুজ
এফডিপি ১২.৫% হলুদ
এএফডি ১১% নীল
লিংকে ৬.৫% গোলাপি
বুন্দেসটাগে বিভিন্ন দলের যে কোয়ালিশনস সরকার গঠিত হয়, তাদের নিম্নলিখিত নামে অভিহিত করা হয়। নিম্নে পার্লামেন্টে সম্ভাব্য কোয়ালিশনসের নাম ও দলের রং যোগ করে শতাংশ দেখানো হলো:


১. কেনিয়া কোয়ালিশন: লাল+কালো+সবুজ=৬৮%, ২. এমপেল কোয়া: লাল+সবুজ+হলুদ=৫৭%, ৩. ডয়েচল্যান্ড কোয়া: লাল+কালো+হলুদ=৬২%, ৪. জ্যামাইক কোয়া: কালো+সবুজ+হলুদ=৫৫%, ৫. লাল+সবুজ=গোলাপি=৫২%, ৬. লাল+কালো=৫০%।

জার্মান পার্লামেন্টারি ইতিহাসে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেনি। এবারের নির্বাচনে তিনের কোয়ালিশন সরকারের সম্ভাবনাই বেশি দেখা যাচ্ছে। জার্মান গণতন্ত্রের সৌন্দর্য তাদের সরকারের স্থায়িত্ব। বর্তমান সরকারের ১৬ বছর চলছে। আগামী সরকারও কমপক্ষে ১২, ১৬ বা ২০ বছর দেশ শাসন করবে, এটাই সম্ভাব্য।

তবে লক্ষণীয় বিষয়, এত কোয়ালিশন সম্ভাবনার মধ্যেও এএফডির কোনো স্থান হয়নি। কারণ, দলটি চরম বর্ণবাদী ও নব্য হিটলারের অনুসারীরা এখানে জড়ো হয়েছেন। ফলে সরকারের কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে তাঁদের রাজনৈতিক কার্যক্রম।

লেখক: জার্মান গ্র্যাজুয়েট এবং জাবির ভাষা শিক্ষাকেন্দ্রের খণ্ডকালীন জার্মান ভাষা শিক্ষক।

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন