টরন্টোয় উদীচীর লোক উৎসবে শিকড়ে ফেরার আহ্বান

বিজ্ঞাপন
default-image

বাংলাদেশ থেকে অনেক দূরে উত্তর আমেরিকার কেন্দ্রস্থল টরন্টোতে একে একে পরিবেশিত হলো বাঙালির আপন আত্মার অনুরণন। মনে হলো প্রবাসে নয়, আমরা যেন বসে আছি দেশের কোথাও।

‘ফিরে চল মাটির টানে’ স্লোগান নিয়ে গত শনিবার (৯ নভেম্বর) হিমাঙ্কের নিচের শীতলতা মাখা সন্ধ্যায় বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী কানাডা সংসদের উদ্যোগে টরন্টোয় তৃতীয় লোক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

লোক উৎসবের মধ্যমণি ছিলেন বাংলা লোকসংগীতের প্রবাদপ্রতিম শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়। তাঁর সেই চিরচেনা কায়দায় বুক চিতিয়ে গলা উঁচিয়ে দর্শক-শ্রোতাদের জন্য গা গরম করা গণসংগীত ও লোকসংগীতের ডালি নিয়ে পার করেন একটি অমলিন সন্ধ্যা।

শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায় স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের গান থেকে শুরু করে সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিপ্লবী গান, বিভিন্ন উদ্দীপনামূলক গণসংগীত ও লোকসংগীত পরিবেশন করেন।

default-image

এ ছাড়া তিনি সংগীত পরিবেশনের পাশাপাশি নিজের সংগীতজীবন গড়ে ওঠা, মুক্তিযুদ্ধের সময় শিল্পীদের ভূমিকা, দেশের বিভিন্ন সংকটজনক সময়ে সাংস্কৃতিক কর্মীদের ভূমিকা, উদীচী ও সত্যেন সেনের বাঙালি সংস্কৃতি ও লোকসংগীত রক্ষায় ভূমিকার কথা, দেশে সাংস্কৃতিক কাজে শিল্পী কলিম শরাফী ও ভাষা আন্দোলনের কর্মী জামিল চৌধুরীর কথা, লোকসংগীতের প্রতি তাঁর নিজের দায়িত্ব পালন সম্পর্কে উৎসাহমূলক বক্তব্য দেন।

রথীন্দ্রনাথ রায় অভিবাসীদের বাঙালির পৃথক আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার জন্য শিকড়ে ফেরার এবং আবহমান বাঙালির সাংস্কৃতিক সত্তা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত রাখার জন্য উদীচীকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

কানাডা উদীচীর তৃতীয় লোক উৎসবের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব ছিল বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে আন্তর্জাতিক লোকসংগীতশিল্পীদের পরিবেশনা। এই অনুষ্ঠানে কিউবা ও ইকুয়েডরের লোকসংগীত ও বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে মঞ্চ মাতিয়ে তোলে কানাডার আদিবাসী লোকসংগীতশিল্পীদের একটি দল।

উদীচীর শিল্পী ও শিশু–কিশোরদের পরিবেশনায় লোকসংগীত, লোকনৃত্য ও অন্যান্য পরিবেশনার সঙ্গে সঙ্গে এই উৎসবে একাধিক মনকাড়া পর্ব ছিল, যার মধ্যে একগুচ্ছ লালনসংগীত নিয়ে বিশেষ পরিবেশনায় ছিলেন শিল্পী সারাহ বিল্লাহ।

default-image

টরন্টোর বাঙালিপাড়ার কেন্দ্রস্থলের সন্নিকটে কার্ডিনাল নিউম্যান ক্যাথলিক হাইস্কুলে অনুষ্ঠিত হয় তৃতীয় লোক উৎসব। শুরু হয় বিকেল সাড়ে ৫টায়। আর শেষ হয় রাত ১২টায়।

অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন উদীচীর কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য আজিজুল মালিক। কানাডা সংসদের পক্ষে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক মিনারা বেগম। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সভাপতি সুভাষ দাশ।

শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়ের সঙ্গে এবং উদীচীর সমবেত সংগীতে যন্ত্রানুষঙ্গে ছিলেন কি–বোর্ডে জাহিদ হোসেন, তবলায় শিল্পী তানজির আলম ও সজীব চৌধুরী, ড্রামসে সৌরভ ধ্রুব ও দোতারায় জাহিদুল আলম। অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন ওমর হায়াত।

default-image

উদীচীর শিল্পীরা বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার লোকসংগীত পরিবেশন করেন। সমবেত সংগীত পরিবেশনা ও একক গানে অংশ নিয়েছেন স্নিগ্ধা চৌধুরী, পাপড়ি গোস্বামী, মুক্তি প্রসাদ, হাসমত আরা চৌধুরী, রোকেয়া পারভিন, ভ্যালেন্তানা ভৌমিক, ঊর্মি দাশ, অদিতি জহির, চিত্রা দেব, সুনীতি দাশ, প্রশান্ত সরদার, চঞ্চলা বিশ্বাস, ওমর হায়াত, কাজী জহির, সজীব চৌধুরী ও সুভাষ দাশ।

নৃত্য পরিবেশন করেন শিপ্রা চৌধুরীর আনন্দধারা ড্যান্স একাডেমির শিক্ষার্থী অঙ্কিতা সাহা, অন্বিতা সাহা, আরিশা জামান, তনুশ্রী সাহা, স্মিতা বসাক ও সিলভি রায়। অন্য একটি একক নাচে অংশ নিয়েছে শিশু শিল্পী সুকন্যা চৌধুরী।

মঞ্চ সজ্জায় ছিলেন শিল্পী জয় দাশ, শিল্পী অভিজিৎ পাল ও আরিফ হোসেন। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন আজিজুল মালিক, সৌমেন সাহা, স্বপন বিশ্বাস, সোলায়মান তালুত, রেজা অনিরুদ্ধ ও স্বপন সরকার। শব্দ ও আলোক নিয়ন্ত্রণে ছিলেন সুমন সরকার।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন