default-image

কানাডার টরন্টোয় প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বাংলাদেশ-কানাডা বাণিজ্য ফোরাম-২০১৯’। টরন্টোর বাংলাদেশ কনস্যুলেট ও ওন্টারিও চেম্বার অব কমার্সের (ওসিসি) যৌথ ব্যবস্থাপনায় গতকাল স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) এ ফোরাম অনুষ্ঠিত হয়।

বাণিজ্য ফোরামে বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এমপি ১৯ সদস্যের বাংলাদেশ বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। কানাডার সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর এই প্রথম দুই দেশের মধ্যে এ ধরনের একটি বাণিজ্য ফোরাম অনুষ্ঠিত হলো।

ফোরামে উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী নেতা ও দুই দেশের সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বক্তব্য, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ–সংক্রান্ত উপস্থাপনা, দুটি বিষয়ভিত্তিক প্যানেল আলোচনা, সমাপনী বক্তব্য ও গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।

default-image

প্রথম প্যানেলের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘কীভাবে কানাডা বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ করতে পারে’। এ পর্ব বাংলাদেশ সফটওয়্যার ও তথ্য সেবা সংগঠনের (বেসিস) সভাপতি সৈয়দ সাদাত আলমাস কবির সঞ্চালনা করেন। দ্বিতীয় প্যানেলের আলোচ্য বিষয় ছিল ‘কীভাবে বাংলাদেশ কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ করতে পারে’। এই প্যানেল আলোচনা সঞ্চালনা করেন ওসিসি প্রেসিডেন্ট রকো রসি।

বাণিজ্য ফোরামে এফবিসিসিআই ও ওসিসির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। যা উভয় দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিহাসে প্রথম। এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম ও ওসিসি সভাপতি রকো রসি নিজ নিজ চেম্বারের পক্ষে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন।

ফোরামের সম্মানিত অতিথি ওন্টারিও প্রদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও বাণিজ্যমন্ত্রী ভিক্টর ফেডালি তার বক্তব্যে বাংলাদেশের সঙ্গে নিবিড় অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ওন্টারিওর অগ্রাধিকার হলো উদার অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি। বাংলাদেশ যার অবারিত সুযোগ গ্রহণ করতে পারে।

default-image

ভিক্টর ফেডালি আরও বলেন, দুই শীর্ষ চেম্বারের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর একটি অভূতপূর্ব ঘটনা। যা দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ককে দৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ ১০ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির দ্বারপ্রান্তে। তিনি বলেন, এ ফোরামের উদ্দেশ্য হলো উভয় দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সেতুবন্ধন স্থাপন করা। যাতে তারা একে অপরের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পর্কিত তথ্য আদান প্রদান করতে পারে ও তুলনামূলক সুবিধাজনক খাতগুলো চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়।

টিপু মুনশি আশা প্রকাশ করেন, প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ বাণিজ্য ফোরাম বাংলাদেশ–কানাডা বাণিজ্য সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। মিশন উদ্বোধনের মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে সফলভাবে এই ফোরাম আয়োজনের জন্য তিনি টরন্টোর বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে ও ভবিষ্যতে অন্য প্রদেশেও অনুরূপ বাণিজ্য ফোরাম আয়োজন করা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তার সর্বতো সহায়তার আশ্বাস দেন।

টরন্টোয় বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল নাঈম উদ্দিন আহমেদ তাঁর স্বাগত বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক কূটনীতি–সংক্রান্ত নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট টরন্টো তার যাত্রা শুরুর মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে এ ধরনের একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যা দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অবদান রাখবে।

default-image

ওসিসি সভাপতি রকো রসি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ ও কানাডা উভয় দেশ একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ক্রমশ অগতানুগতিক পণ্যসামগ্রী কানাডার বাজারে রপ্তানি করতে সক্ষম হচ্ছে। রকো রসি বিগত এক দশকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের উল্লেখ করে বলেন, আজ একটি সফল বদ্বীপের সাফল্যগাথা কানাডার ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরা হলো।

বাণিজ্য ফোরামটি বাংলাদেশ ও কানাডার খাতভিত্তিক আলোচনা শেষে এ উপসংহারে উপনীত হয়, বৈশ্বিক সরবরাহ সংযোগ, উচ্চমূল্যের পোশাকসামগ্রী, হালকা প্রযুক্তিপণ্য, ওষুধসামগ্রী, ডিজিটাল সেবা, পাটপণ্যের শিল্পভিত্তিক ব্যবহার, সামুদ্রিক মৎস্য, হিমায়িত খাদ্য, পরিবহন ও যোগাযোগ, উচ্চশিক্ষা, কর্মভিত্তিক শিক্ষা, তৃতীয় ধাপের স্বাস্থ্যসেবা ইত্যাদি খাতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির অপার সম্ভাবনা রয়েছে।

দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মিজানুর রহমান তাঁর বক্তব্যে আশা প্রকাশ করেন, এ ফোরাম আগামী বছরগুলোতেও অব্যাহত থাকবে এবং দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত বাণিজ্য প্রতিনিধি বিনিময় হবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব তপন কান্তি ঘোষ, বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ খুরশীদ ওয়াহাব, ওন্টারিও চেম্বার অব কমার্সের সহসভাপতি লুই ডিপামা, ঢাকার কানাডিয়ান হাইকমিশনের কাউন্সেলর করিন পেট্রিসর, বিজিএমইএর সহসভাপতি মসিউল আলম (সজল), কেনচেম বাংলাদেশেরের সভাপতি মাসুদুর রহমান প্রমুখ ফোরামে প্যানেল সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।

এ ছাড়া ‘বাংলাদেশ-কানাডা বাণিজ্য ফোরাম-২০১৯’-এ কানাডার বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহী, কানাডিয়ান ব্যবসায়ী, বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান, শিল্পপতি, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ নির্বাহী ও বাংলাদেশি কানাডিয়ান ব্যবসায়ীসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তি

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0