default-image

ট্রাম্পকে আমরা যতই গালাগালি করি না কেন, নিজের লোকদের কাছে তাঁর যথেষ্ট চাহিদা আছে। লোকে ভাবেন, তাঁর মতো লোককে কেন ভোট দেন? বিশেষ করে শিক্ষিত শ্রেণির লোকেরা? যেকোনো সভ্য দেশে যাঁরা চৌদ্দ শিকের পেছনে থাকেন, এমন নেতারা আমাদের দেশেই তো নির্বাচিত হয়ে সাংসদ হন, তা–ই না? এখানেও ঘটনা একই। যে যাঁর স্বার্থ দেখেন। ভোটের গণতান্ত্রিক রাজনীতি সর্বক্ষেত্রে এই সমস্যায় জর্জরিত।

থাকি টেক্সাসে, রেড স্টেট বলে খোদাই করা আছে এর নাম। এর মধ্যে থাকি যে নেইবারহুডে, বেশির ভাগই শ্বেতাঙ্গ। ধরে নেওয়া যেতে পারে বেশির ভাগই ট্রাম্পের সাপোর্টার। বাস্তবেও অনেককেই দেখলাম প্রকাশ্যে ট্রাম্পের জন্য ভোট চেয়ে বাড়ির সামনে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রেখেছেন। আসলে ট্রাম্প–সাপোর্টার না বলে বলা ভালো ‘রিপাবলিকান’। এই দল থেকে যদি একটা ছাগলকেও দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়, তাঁরা সেটাকেই ভোট দেবেন। এর পেছনে কিছু কারণ আছে। সেগুলো নিচে তুলে ধরছি। তাহলে তাঁদের মানসিকতা বুঝতে সুবিধা হবে।

বিজ্ঞাপন

১.

যেকোনো জাতি নিজের স্বার্থ আগে দেখে। শ্বেতাঙ্গরাও তাঁদের স্বার্থই দেখেন। তাঁদের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে ইমিগ্র্যান্টরা এসে তাঁদের চাকরি নিয়ে নিচ্ছেন। আমেরিকানরা বেকার বসে থাকছেন আর বিদেশিরা এসে তাঁদেরই দেশে তাঁদেরই চাকরি খেয়ে ফেলছেন। ঘটনায় সত্যতা ব্যাপক। যেমন এক জেনারেশন আগেও আমেরিকায় হাইস্কুল সার্টিফিকেট কিংবা কলেজে অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রি (দুই বছরে ষাট ক্রেডিট আওয়ার্স) নিয়েই লোকে ভালো ভালো চাকরিতে ঢুকে যেতে পারতেন। তারপরে অফিসেই কাজ করতে করতে কাজ শিখতেন, প্রমোশন পেয়ে পেয়ে সামনে এগোতেন এবং ভালো একটা পদবিতে পৌঁছে অবসরে যেতেন। যাঁদের উচ্চশিক্ষার শখ ছিল, তিনিই কেবল সেদিকে পা বাড়াতেন। বলে রাখি, এ দেশে উচ্চশিক্ষা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

সিটিজেনদেরই প্রতি সেমিস্টারে ১২ ক্রেডিটের পেছনে ৫ থেকে ১০ হাজার ডলার খরচ চলে যায়। বিদেশি ছাত্রছাত্রী হলে এর চার গুণ খরচ হয়। পুরো চার–পাঁচ বছরের পড়াশোনা শেষ করতে করতে তাই হাজার হাজার ডলার স্টুডেন্ট লোন–দেনা জমে যায়। ভালো স্কলারশিপ না পেলে ওই পথে তাই অনেকেই যেতে চান না।

আমার সঙ্গে একজন সাদা মেয়ে পড়ত। সে বলত, তার মায়ের কোনো কলেজ ডিগ্রি (ব্যাচেলর্স ডিগ্রি) নেই, তবু তিনি কাজ করেন এটিঅ্যান্ডটিতে (আমাদের দেশে মোবাইল ফোন কোম্পানির মতো)। শুধু তা–ই না, তাঁকে অফিসেও যেতে হয় না, বাড়িতে বসেই কাজ করেন এবং বছরে ৯০ হাজার ডলার আয় করেন। টেক্সাসে ৮–৯ বছর আগে এক নারীর ৯০ হাজার ডলার বার্ষিক আয় বিশাল কিছু। এ রকম উদাহরণ ভূরি ভূরি। আমি যে অফিসে কাজ করি, সেখানেও অন্যান্য ডিপার্টমেন্টে এমন অনেকেই আছেন।

হাইস্কুল পাস করে ছোটখাটো চাকরি করে শিখে শিখে ম্যানেজার হয়ে বসে আছেন। কিন্তু গত কয়েক দশকে যা হয়েছে তা হচ্ছে, বিদেশ থেকে (ভারত-চায়না ও অন্যান্য) লোকজন মাস্টার্স ডিগ্রি নিয়ে এ দেশে আসছেন, অথবা এ দেশে এসে মাস্টার্স-পিএইচডি করছেন। পড়ালেখার পাশাপাশি কাজে–কর্মেও প্রমাণ দিচ্ছেন তাঁরা যোগ্য। ফলে উচ্চপদে তাঁরা চাকরি নিয়ে নিচ্ছেন। বেতনের ব্যাপারে সাদাদের (এ দেশে বেড়ে ওঠা পোলাপান) ডিমান্ড একটু বেশি থাকে। ভারত, বাংলাদেশ বা চীনাদের সেটাও নেই। সবাই যা পান, তা পেলেই আলহামদুলিল্লাহ। ফলে দেখা যাচ্ছে, এখন সাদাদেরও বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি নিতে হচ্ছে। পরিশ্রম করতে হচ্ছে! বেতনে/ বেনিফিটে ছাড় দিতে হচ্ছে ইত্যাদি।

আমেরিকান মেডিকেল স্কুলে পড়তে হলে আগে আপনাকে চার বছরের ডিগ্রি নিতে হবে। সেখানে ভালো রেজাল্ট থাকলে তাহলে আপনি এমক্যাট পরীক্ষা দিতে পারবেন। সেখানে ভালো স্কোর পেলে মেডিকেল স্কুলে চান্স পাবেন। তারপরে আরও কয়েক বছর হাড়ভাঙা পড়াশোনা। তারপরে ইন্টার্নশিপ/ রেসিডেন্সি ইত্যাদি ইত্যাদি। কয়েক লাখ ডলার জমা হয় লোনের খাতায়। এদিকে দেখা যাচ্ছে, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, চীন থেকে লোকজন মেডিকেল পড়াশোনা করে একটি পরীক্ষা দিয়ে পাস করে লাইসেন্স পেয়ে যাচ্ছেন। কোনো লোন নেই। একজন আমেরিকান ডাক্তার যে বেতন চাইবেন, তাঁর তা না পেলেও চলবে। আবার তিনি যেটাতে রাজি হবেন, ওটাতে আমেরিকান ডাক্তারের পোষাবে না। সব ক্ষেত্রেই এই ক্রাইসিস চলছে এখন। বিদেশি কর্মীদের ওপর বিরক্ত হয়েই অনেকে রিপাবলিকান পার্টিকে সাপোর্ট করেন।

২.

ইমিগ্র্যান্টদের বিরুদ্ধে সাদাদের একটি বড় অভিযোগ হচ্ছে, অনেক দেশের অনেক অপরাধী এ দেশে অনুপ্রবেশ করছে। এর মধ্যে সিরিয়াল কিলার, সিরিয়াল রেপিস্ট থেকে শুরু করে ছিঁচকে চোর পর্যন্ত সবই আছে। এক শর মধ্যে সংখ্যায় হয়তো এক হবে, কিন্তু ওই এককেই রিপাবলিকান পার্টি এমনভাবে প্রমোট করছে যে সাধারণ মানুষের কাছে মনে হচ্ছে ওই একই আসলে নিরানব্বই। এক সাদা নারীকে তাঁর ঘাস কাটার কর্মচারী রেপ করে খুন করেছিলেন। ব্যাকগ্রাউন্ড চেকে পাওয়া গেছে, তিনি অবৈধ এবং মেক্সিকোতে অপরাধের রেকর্ড ছিল। মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই ঘটনাকে রিপাবলিকানরা যে কতবার দেখিয়ে প্রচার করেছিলেন, গুনতেও ভুলে গেছি।

মেক্সিকান গ্যাং, কিউবান গ্যাং, ইতালিয়ান গ্যাং ইত্যাদি তো আছেই। ড্রাগস ব্যবসা করছে, স্কুলের ছেলেমেয়েদের টার্গেট করছে, সবই তো সত্য। সেক্স ট্রাফিকিংয়েও এরা জড়িত। সঙ্গে ইমিগ্র্যান্টদের ব্যাপারে যুক্ত করেছে প্রোপাগান্ডা। ইমিগ্র্যান্টরা নিজের দেশে খেতে পারেন না, উদ্বাস্তু হয়ে থাকেন, তাই এ দেশে এসে অশান্তি সৃষ্টি করেছেন।
আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের আমাদের দেশেই কেউ দেখতে পারে না, আমেরিকানদের দোষ দেবেন কেন? ঘটনা তো একই।

বিজ্ঞাপন

৩.

ট্রাম্প এসে কর্মী ভিসার ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছেন। তাঁর কথা হচ্ছে, আগে আমেরিকান হায়ার করা হবে, তারপরে যদি না পাওয়া যায় তবেই বিদেশিদের ভিসা দিয়ে আনতে পারবে। সাধারণ মার্কিনিদের কাছে কাজটি কেন জনপ্রিয় হবে না, সেটা কেউ ব্যাখ্যা করতে পারবেন? যেখানে চাকরির ক্ষেত্রে তাঁরা দেখছেন দলে দলে ‘বিদেশি’ এসে চাকরি নিয়ে নিচ্ছেন।

৪.

ট্রাম্প ওপেনলি ইসলামিস্টদের বিরোধী এবং আমাদের মুসলিম ভাইয়েরাও যা তা করে বেড়াচ্ছেন। ভিয়েনার শুটিংই লেটেস্ট উদাহরণ। আপনি যতই গলা ফাটান দেড় বিলিয়ন মুসলমানের মধ্যে পয়েন্ট জিরো জিরো ওয়ান পার্সেন্টও জঙ্গি না, ভিয়েনায় গোলাগুলিতে নিহত চার আর ক্রাইস্টচার্চের হামলায় নিহত ৫১ বা লাসভেগাসেই বন্দুক হামলায় অর্ধশতাধিক নিহত হয়েছিল কিংবা যত স্কুল শুটিংয়ের উদাহরণই দিন না কেন, সাধারণ আমেরিকানের চোখে ‘মুসলিমস আর টেররিস্টস’ হিসেবে প্রোপাগান্ডা চালানো হয়েছে এবং এর পেছনে মুসলমানদেরও দায় আছে। ভিয়েনার শুটাররা বা প্যারিসের হামলাকারীরা ‘জয় জিসাস ক্রাইস্ট’ বলছেন না। কাজেই এইটা আশাও করবেন না যে সাদারা আপনাতেই সব বুঝে ফেলবেন অথবা ইন্টারনেট ঘাঁটাঘাঁটি করে সত্য উদঘাটন করবেন। তাঁরা তা–ই বিশ্বাস করবেন, যা তাঁদের দেখানো হবে। আপনি যদি শান্তির ধর্মের অনুসারী হন, বেশি বেশি করে শান্তিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে অংশ নিন।

কামাবেন এখানে, বাঁচবেন এখানে, জনসেবা করবেন বাংলাদেশে, তাহলে তাঁদের সমাজে আপনার উপস্থিতি তাঁরা বুঝবেন কীভাবে? আপনাকে অবশ্যই জনসেবার একাংশ এই সমাজেও ব্যবহার করতে হবে।

তেমনই রিপাবলিকানদের বিশ্বাস, ট্রাম্প চীনের বিরুদ্ধে, ভারতের বিরুদ্ধে, লাতিনদের বিরুদ্ধে; তিনি কেবল আমেরিকানদের পক্ষে। রেসিজম নিজের সঙ্গে না ঘটলে কেউ উপলব্ধি করেন না। কাজেই সাদারা অনেকেই বোঝেন না ট্রাম্পের বর্ণবাদ।

default-image

৫.

ডেমোক্র্যাটরা সোশ্যাল সার্ভিস দিতে গিয়ে ট্যাক্স বাড়িয়ে দেয়, রিপাবলিকানরা কমায়। লোকজন এইটা দেখেন না, তাঁর টাকায় গরিব মানুষ চিকিৎসা পাচ্ছেন; তাঁরা দেখেন মাসিক পে–চেকে কত টাকা এর। ১০০, ২০০ ডলার বাড়তি আসা অনেকের জন্যই অনেক বিগডিল। বিজনেস যাঁরা করেন, তাঁদের জন্য তো কথাই নেই।

৬.

ডেমোক্র্যাটরা উদারনীতিতে বিশ্বাসী এবং রিপাবলিকানরা রক্ষণশীল। উদারনীতি আমাদের জন্য ভালো। যেমন, যে যার ধর্মচর্চা করবে অথবা করবে না ইত্যাদি। গোল বাধে এখানেই যে ডেমোক্র্যাটরা গর্ভপাতের পক্ষে, যেখানে রিপাবলিকানরা সরাসরি ভ্রূণহত্যাকে শিশু হত্যা হিসেবে বিবেচনা করে। মায়ের প্রাণ বাঁচাতে গর্ভপাত করানো এক ঘটনা, কিন্তু ফিগার নষ্ট হয়ে যাবে কিংবা আমি এখনো তৈরি না ইত্যাদি বাহানায় শিশু হত্যার সমর্থক ওরা নয়। ডেমোক্র্যাটদের বিশ্বাস, ‘আমার শরীর, তাই ভ্রূণ রাখা বা না রাখা আমার অধিকার।’ ব্যাস, লেগে যায় কনফ্লিক্ট।

আমি নিজেও গর্ভপাতের বিরুদ্ধে। আমার কথা হচ্ছে, যে মুহূর্তে মায়ের পেটে শিশুর হার্টবিট শুরু হয়ে যায়, সেই মুহূর্তেই তার বাঁচার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। তাকে নষ্ট করা মানব হত্যার শামিল। এতটাও উদার হইনি যে হাসিমুখে শিশু হত্যা মেনে নেব।

সমকামীদের ব্যাপারেও ডেমোক্র্যাটরা উদার। এ দেশে ওদের বিয়ের আইনও পাস হয়েছে ডেমোক্র্যাটদের কারণেই। কনজারভেটিভ রিপাবলিকানদের মধ্যে হোমোফোবিয়া তীব্রভাবে কাজ করে। ওদের বিশ্বাস, সমকামীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা পেলে ওদের ছেলেমেয়েরাও সমকামিতার দিকে ঝুঁকবে। জেফরি ডামার নামের এক কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার ছিল এ দেশে। তার বাবার কাছে ‘সন্তান সিরিয়াল কিলার’, এ পরিচয়ের চেয়েও লজ্জার বিষয় এই ছিল যে সে ছিল সমকামী। তাহলেই বোঝোন একে কোন পর্যায়ের পাপ ও লজ্জার বিষয় হিসেবে ওরা গণ্য করে।

এখন এ দেশে সমকামীসহ যেকোনো মাইনরিটি গ্রুপের (কালোদের ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার বা ইহুদিদের কোনো অধিকার) অধিকার প্রতিষ্ঠা পাওয়াটা আমাদের মুসলমানদের জন্যও জরুরি। কারণ, আমরাও মাইনরিটি গ্রুপ। ওদেরটা প্রতিষ্ঠা পাওয়া মানে আমাদেরও বেসিক অধিকার প্রতিষ্ঠা পাওয়া।

৭.

মেক্সিকানদের ধরে ধরে যখন সীমান্তের ওপারে জোর করে পাঠানো হয়, তখন তাঁরা নির্বিকারভাবে বলেন, ‘ওরা তো অবৈধ বেআইনিভাবে আমাদের দেশে থাকছিল। ওদের কারণেই আমাদের সিটিজেনরা চাকরি পাচ্ছিল না।’ কথা ঠিক, বৈধ কাগজপত্রহীন কোনো মেক্সিকানকে দিয়ে আপনি অর্ধেক পয়সায় কাজ করিয়ে ফেলতে পারবেন, যেখানে কাগজপত্রওয়ালা আমেরিকানকে মিনিমাম ওয়েজ দিতেই হবে। যে কারণে ছোটখাটো চাকরিগুলো অবৈধ লোকজন নিয়ে নেন।

৮.

বন্দুক প্রেমও একটি নিয়ামক। সাধারণ টেক্সানদের বাড়িতে বাড়িতে বন্দুক থাকে। সাউথের প্রায় প্রতিটা রাজ্যেই এক অবস্থা। দোনলা পাখি মারার বন্দুক না, মিলিটারি এসল্ট রাইফেলের কথা বলছি। শিকারের কাজে ছাড়াও এমনিতেও রাখে ওরা। গাড়িতে অস্ত্র নিয়ে চলাফেরা করে। বন্দুকের কারণে নিজের ছেলেমেয়ের সঙ্গেও ঝগড়া করে কথাবার্তা বন্ধ করে দেন লোকজন। এই অবস্থায় একটা গুজব চালু আছে যে ডেমোক্র্যাটরা অস্ত্র কেড়ে নেবে। যা আসলে ভিত্তিহীন। NRA মোটা অঙ্কের টাকা দুই পক্ষকেই দেয়। ওদের কেউই ঘাঁটাবে না। সবই পলিটিকস। কিন্তু ডেমোক্র্যাটদের এই গুজবের কারণেও ভোট কম আসে।

এ রকম আরও বহু কারণ আছে। অনেক বড় কারণ আছে, অনেক ছোট কারণও আছে। সবাই ধরে নেয়, রিপাবলিকানরা রেসিস্ট। আসলে রেসিজম ব্যাপারটা ওদের অনেকেই বোঝে না, অতি স্বাভাবিকভাবেই নেয়। যেমন আমাদের দেশে রং ফরসা করার মতো পণ্য বিক্রি হয়। অতি নির্বিকারভাবে আমরা বিয়ের সময়ে ফরসা ছেলে/মেয়ে খুঁজি। সদ্য জন্ম নেওয়া সন্তানের গায়ের চামড়ার ঔজ্জ্বল্যের ওপর আমাদের খুশির ঔজ্জ্বল্য নির্ভর করে। মোটা/ চিকন/ খাটো/লম্বা মানুষদের নির্বিকারভাবেই হেনস্থা করি। অতটুকুন একটা দেশ, সেখানেও এলাকায় এলাকায় আমরা বিভাগ/ বিভেদ তৈরি করে বসে আছি। তেমনই রিপাবলিকানদেরও মতিগতি এক!

তা লেখাটি পড়ে অনেকেই কনফিউজড হতে পারেন। অনেকেই ভাবতে পারেন, রিপাবলিকানদের প্রোপাগান্ডা চালালাম না তো? না ভাই, আমি ডেমোক্র্যাটকে ভোট দিয়েছি এবং নিজের স্বার্থের কারণেই দিয়েছি। একজন ‘ইমিগ্র্যান্ট’ ‘বাংলাদেশি’ ‘মুসলিম’ হিসেবে আমার হাতে কোনো অপশন নেই। রিপাবলিকান সমর্থকদের সম্পর্কে একটি হালকা ধারণা দিতেই কিছু বিষয় তুলে ধরলাম। ইলেকশনের পরেই পোস্ট করছি, যাতে কেউ এই লেখার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ওদের ভোট দিয়ে না বসেন।

একটি ব্যাপার মাথায় রাখবেন। পৃথিবীর বুকে আমেরিকাই একমাত্র দেশ, যারা এর সিটিজেনদের রক্ত সম্পর্কের আত্মীয়দের (চেইন ইমিগ্রেশন) আনার সুযোগ দেয়। আশির দশকে আমার চাচা এসেছিলেন, তিনি সিটিজেন হয়ে তাঁর ভাইবোনদের জন্য আবেদন করেছিলেন বলেই আমরা এসেছি। আমার মা সিটিজেন হয়ে এখন মামা–খালাদের জন্য আবেদন করেছেন, তাঁদের ডাক আসার অপেক্ষায় আছি। এই সুযোগ অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড কেউই দেয় না। আমি আমার বোনকে এ দেশে আনতে পারব, কিন্তু আমার বোন আমাকে অস্ট্রেলিয়ায় নিতে পারবে না। রিপাবলিকানরা বহু বছর ধরেই এই আইন বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে। কোন দিন বন্ধ করে দেবে, কেউ জানে না। ডিভি ভিসা বাংলাদেশের কোটা বহু বছর আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। কাজেই কোনো ইমিগ্র্যান্ট ভোটারের কেবল এই একটি বিষয় হলেও বিবেচনায় নিয়ে ভোটের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0