বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আমার জন্য এই বনভোজন ছিল অন্য রকমের। আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিলাম আমার খুদে শিক্ষার্থীদের দেখার জন্য। এই সাস্টিয়ান কমিউনিটিতে সবার আগ্রহে স্বাধীনতা দিবসে শুরু করেছিলাম সম্পূর্ণ অনলাইন বাংলা স্কুল, বর্ণমালা! যাতে শুরুতে শিক্ষার্থী ছিল ৩০–এর কাছাকাছি! বয়স ৭ থেকে ১৮ বছর! শুরুতে ২ গ্রুপে ক্লাস নিতাম! আমি স্বেচ্ছাসেবক হিসেবেই ছিলাম। কয়েক মাসের মধ্যে অনেকেই নানা সমস্যায় আর নিয়মিত থাকতে পারেনি। কিন্তু অনেকেই টিকে গেল! ক্লাস এখন একটি গ্রুপেই হয়, জন ১২ শিক্ষার্থী এখনো পুর উদ্যমে শিখে যাচ্ছে বাংলা ভাষার বর্ণমালা আর মজার মজার শব্দ, সাথে কিছু ছড়া!

default-image

এবার কিছু মজার অভিজ্ঞতা বলি, কোনো এক রোববার ছিল বাবা দিবস এবং ওই সপ্তাহের বাড়ির কাজ ছিল নিজের বাবার জন্য কার্ড বানানো। সবাই খুব উৎসাহে কার্ড বানিয়ে এনেছে! তাদের মধ্যে একটি কার্ড ছিল বেশ রঙিন, সেখানে বড় হরফে বাংলায় লেখা বাবা, যার ভেতরে আবার ৩৪টি ভাষায় বাবা লেখা ছিল! আরেকটি কার্ড ছিল সাদা–কালো, দাগ টানা খাতায় আড়াআড়িভাবে লেখা। এতে কিছু বেলুন আর নকশা এমনভাবে করা হয়েছে যা দেখলেই সুখী একটা ভাব স্পষ্ট বোঝা যায়! সবারগুলো দেখার পর এই দুটি কার্ডের নকশাকারকে বলেছিলাম ব্যাখ্যা করতে কেন তারা এভাবে ডিজাইন করছে! প্রথমজন বলেছে, তার কাছে বাবা হচ্ছে সর্বজনীন, সবকিছুতেই পাওয়া যায় এমন! দ্বিতীয়জন বলেছিল, বাবা এমন যার সাথে কোনো কিছু শেয়ার করতে কিছুই ভাবতে হয় না!

default-image

আমাদের ইউকের এই নতুন প্রজন্ম যে মমতা নিয়ে বাংলা শিখতে এখনো লেগে আছে, তা প্রমাণ করে এদের মাঝে আছে সাহস ও সহিষ্ণুতার এক অপার্থিব মেলবন্ধন, যাকে ইংরেজিতে বলে ‘Grit’, যা কিনা এখন বিবেচনা করা হচ্ছে সফলদের সফলতার পেছনের অন্যতম কারণ হিসেবে! এরা একদিন আকাশ ছোঁবে, সেই আকাশে থাকবে বাংলার নদীর কথা, মৌমাছিদের কাজের লোক হওয়ার কাহিনি আর স্বপ্ন দিয়ে তৈরি, আর স্মৃতি দিয়ে ঘেরা এক টুকরা বাংলাদেশ!

মো. মাহবুব হাসান, পিএইচডি গবেষক, কিংস কলেজ লন্ডন

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন