default-image

তুষার নিয়ে আমার অনেক বছরের আদিখ্যেতা, সেই কোরিয়ার কর্মজীবন থেকেই। আমি তুষারময় দেশে ছিলাম, নিয়তি আবার তুষারে সঁপেছে। প্রকৃতির এত বিশুদ্ধ মিল হৃদয় নাড়া দেয়। নতুন দেশ দেখতে আকর্ষণীয় হলেও মনটা ঘোরে কোরিয়া ও বাংলাদেশে। যেমনটি বলছিলাম, কোরিয়ার তুষারপাতের মাত্রা ভিন্ন, কিন্তু সৌন্দর্য অভিন্ন। দিনের পর দিন তুষার দেখতে দেখতে অদ্ভুত মায়ায় জড়িয়েছি। পুরো দেশ লকডাউনে। এর মধ্যে ব্যাপক তুষারপাতে জার্মানির জনজীবন বিপর্যস্ত।

তুষারঝড়ে রাস্তায় উঁচু বরফ জমেছে। মানুষ ঘরের ভেতর আটকা। রাজ্য সরকার বরফ সরাচ্ছে, মানুষের বের হওয়ার তেমন জো নেই। কিন্তু এত কিছুর পরও জার্মানিরা তুষার উপভোগ করছে অবিশ্বাস্য রকমে। কিন্তু কোরিয়ার মতো পাহাড় নেই, আছে তুষার। তুষারে পথিকের পথচলায় ছন্দ বাড়িয়েছে।

ইউরোপের শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ জার্মানি বর্তমানে করোনার ছোবলে বিপর্যস্ত শুধু নয়, একই সঙ্গে ১৪ ফেব্রুয়ারি (ভালোবাসা দিবস) পর্যন্ত লকডাউন। স্বাধীন, মুক্তচিন্তার দেশটিতে করোনার কারণে সরকার নানা বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইউরোপের কয়েকটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ রেখেছে। বেকারত্ব বৃদ্ধি, করোনার প্রাদুর্ভাব—সবকিছু মিলিয়ে আঙ্গেলা ম্যার্কেলের সরকার কঠিন এক চ্যালেঞ্জের মুখে।

বিজ্ঞাপন

জরুরি প্রয়োজনে লোকজনের বের হওয়ার অনুমতি আছে, কিন্তু আতঙ্ক, আশঙ্কা, ভয়, করোনার নতুন মিউটেশন নেটিজেনও ফরেনারদের ভাবিয়ে তুলেছে। এত সমস্যা ছাপিয়ে তুষারপাত উপভোগ করছেন সবাই। জার্মানিতে আসার পর থেকে আমি নিজেও লকডাউনের কবলে। অনলাইনে ক্লাস করা, একান্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়া ছাড়া তেমন কাজ নেই। কিসের অপেক্ষায় যেন দিন গুনছি।

অপেক্ষা, অবশেষে এল সেই দিন, সেই মুহূর্ত। নতুন করে তুষার দেখা। তুষারপ্রেমে মেতে উঠেছি জার্মান শিশুদের সঙ্গে। তুষারের স্পর্শ দীর্ঘ দুই মাসের গুমোট মুছে শরীর শিহরিত হয়ে ওঠে আনন্দে। শরীরজুড়ে তুষারের সেই স্পর্শ অনন্ত হৃদয় জাগিয়ে উঠল। তুষারের শুভ্রতা, বাতাস—সব যেন বদলে দিল। তুষারের স্পর্শে পূর্ণতার ছোঁয়া পুরো হৃদয়ে, ফিরে এল নবপ্রাণচাঞ্চল্য। তুষার পড়ছে, নীরবে-নিভৃতে, নিঃশব্দে।

default-image

কয়েক দিন ধরে নর্দান জার্মানির ব্রেমেনে অঝোরধারায় তুষারপাত হয়েছে, এখন কনকনে বরফঠান্ডা বাতাস বইছে। বলা চলে, নর্দান জার্মানিতে গত দুই মাসে ৮ থেকে ৯ দিন ভালোভাবে সূর্য উদয় হয়েছে। অধিকাংশ সময় মেঘলা পরিবেশ, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়েছে। কয়েক দিন ধরে তুষারে অনেক ঘুরেছি, ভিজেছি, উপভোগ করেছি। মনে মনে বলেছি, আগামীর পৃথিবী হোক তুষারের মতো শুভ্র, বিমুগ্ধ, স্বচ্ছ, ধবধবে, নির্মল। করোনামুক্ত পৃথিবী হোক, মানুষের পদভারে মুখর হোক প্রতিটি শহর, বন্দর। জয়গান হোক পৃথিবীর। তুষার দেখতে অনিন্দ্যসুন্দর। তুষার দেখতেই মন কাড়ে, এটি যেমন সত্য; তেমনি বরফে ঢাকা পরিবেশ, ঠান্ডা বাতাস জীবনযাত্রা অনেকটাই লকডাউন করে দেয়। যেমনটা করোনায় করেছে।

বিজ্ঞাপন
দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন