দক্ষিণ আফ্রিকার অমিক্রন নিয়ে বিশ্ব মিডিয়ায় যে ভয়ের মিছিল শুরু হয়েছিল, কর্তৃপক্ষের মতে, সে তুলনায় গত কয়েক দিনে আক্রান্তের সংখ্যা বিবেচনায় দেশটির করোনা পরিস্থিতিতে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে দেশটিতে দৈনিক আড়াই হাজারের কমবেশি আক্রান্তের ঘটনা ঘটছিল। তখন অমিক্রন নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, এটি তেমন ভয়ংকর নয়, তবে চিকিৎসক দল সজাগ দৃষ্টি রেখেছে।

দেশটির সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রিচার্ড লেসেলস অমিক্রন নিয়ে তাঁদের সম্মিলিত প্রাথমিক মন্তব্যে বলেছিলেন, আক্রান্তের সংখ্যার তুলনায় রোগীদের শরীরে তেমন কোনো ভয়ংকর অবনতি দেখা যায়নি। তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল করোনার নতুন ধরন অমিক্রনের গতিবিধির ওপর লক্ষ রাখছে। বর্তমানে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শারীরিকভাবে তেমন কোনো বড় সমস্যা হচ্ছে না। কেউ কেউ বাড়িতে থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক চলে সুস্থ হয়ে যাচ্ছেন। এর বাইরে যাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকেছেন, তাঁদের আইসিইউ ব্যবহার করতে হচ্ছে না। তার আগেই তাঁরা সেরে উঠেছেন।

মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের চেয়ারপারসন অ্যাঞ্জেলিক কোয়েটজি বলেন, এখন পর্যন্ত পর্যবেক্ষণে তাঁরা অমিক্রনে করোনাভাইরাসের তেমন কোনো ভয়ংকর চরিত্র না পেলেও দেশটিতে করোনার চতুর্থ ঢেউ আঘাত হানতে পারে বলে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে কর্তৃপক্ষকে অগ্রিম সতর্ক করা হয়েছে।

অন্যদিকে অমিক্রনকে ঘিরে বিশ্ব মিডিয়ার প্রচার, পরবর্তী সময়ে প্রভাবশালী দেশগুলোর ভ্রমণনিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন ধরনের সিদ্ধান্ত দক্ষিণ আফ্রিকার সিরিল রামাফোসার সরকার ভালোভাবে নেয়নি। সম্প্রতি জাতির উদ্দেশে দেওয়া রাষ্ট্রপতির এক ভাষণে তা লক্ষ করা যায়। বিশ্বব্যাপী প্রচার, বড় দেশগুলোর সিদ্ধান্ত, মানুষের সমালোচনার দিকে মন না দিয়ে দেশটির সরকার মাস্ক ব্যবহার ও টিকা নেওয়ার বিষয়ে নাগরিকদের উৎসাহিত করে চলেছে।

এদিকে অমিক্রন নিয়ে আশঙ্কা কাটতে শুরু করেছে দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে। আতঙ্ক কেটে প্রবাসীরা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছেন।
দেশটিতে এ পর্যন্ত করোনায় পজিটিভের সংখ্যা ২৯ লাখ ৮১ হাজার ছাড়িয়েছে। মৃত্যুবরণ করেছেন প্রায় ৮৯ হাজার ৮৪৬ জন। সুস্থতার হার ৯৮ শতাংশ।

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন