বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ব্যক্তিগতভাবে আমার বর্তমান ল্যাবে এ বছর আমার সুপারভাইজার তাঁর ব্যক্তিগত ফান্ডের মাধ্যমে একজন বাংলাদেশি, একজন শ্রীলংকার ও আরেকজন রুয়ান্ডার শিক্ষার্থী নিয়েছেন। অন্যরা দক্ষিণ কোরিয়ায় এসে সেপ্টেম্বর সেমিস্টারে ক্লাস শুরু করলেও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীটির জন্য ভিসা বন্ধ থাকায় তিনি এখনো অপেক্ষায় আছেন। অথচ দক্ষিণ কোরিয়ায় এখন সরাসরি ক্লাস চালু হয়ে গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাডমিশন পেয়েছেন অথচ ভিসার অপেক্ষায় আছেন প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী। তাঁদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের হতাশার কথা শুনলাম। জিকেএসপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা ভিসা পেলে তাঁরা কেন পাবেন না—এই নিয়ে তাঁদের হতাশার শেষ নেই।

default-image

সাধারণ শিক্ষার্থীদের এ ভিসা অপ্রাপ্তি আমাদের উচ্চশিক্ষার জন্য অন্যতম হাব এ দক্ষিণ কোরিয়ায় ভবিষ্যতে একটা নেগেটিভ ইমপ্রেশন তৈরি করবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ, জিকেএসের স্কলারশিপের মাধ্যমে যতজন শিক্ষার্থী দক্ষিণ কোরিয়ায় পড়তে আসেন, তার কয়েক গুণ আসেন প্রফেসর ফান্ডের মাধ্যমে। করোনাকালে এ সময়ে দক্ষিণ কোরিয়া তাদের সীমান্তের কয়েকটি দেশের জন্য সাময়িক বন্ধ করলেও বর্তমানে প্রায় সব দেশের সঙ্গে খুলে দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা আসতেছেন, সরাসরি ক্লাসে অংশও নিচ্ছেন। এখানে একমাত্র ব্যতিক্রম শুধু বাংলাদেশ। অথচ গত আগস্টে কোরিয়ান শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষণা দিয়েছিল টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা ৭০ শতাংশ হলেই তারা বাংলাদেশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনায় আনবে।

২ অক্টোবর পর্যন্ত কোরিয়ায় কমপক্ষে এক ডোজ টিকা নিয়েছেন এমন মানুষের সংখ্যা প্রায় ৭৮ শতাংশ। আর দুই ডোজ নিয়েছেন এমন মানুষের সংখ্যা ৫৩ শতাংশ। আর আমাদের দেশেও করোনা সংক্রমণের হার নিম্নমুখী। এ অবস্থায় ভিসার জন্য অপেক্ষমাণ শিক্ষার্থীরা কোরিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ও মন্ত্রণালয়ের তৎপরতার মাধ্যমে তাঁদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন ও দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই উচ্চশিক্ষা খাতটিকে রক্ষার সুদৃষ্টি কামনা করছেন।

*লেখক: বিকাশ রায়, গবেষক, দক্ষিণ কোরিয়া

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন