default-image

পবিত্র রমজান মাস ইসলাম ধর্মের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মাস। ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের বিশ্বাসের প্রতি সম্মান দেখিয়ে প্রতিবছর এ মাস এলেই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমিয়ে দেন যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়ীরা। এমনকি দুটি প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষেও ছাড় দেওয়া হয় বিভিন্ন পণ্যে। কিন্তু বাংলাদেশে তার উল্টো চিত্র। সেখানে দ্রব্যমূল্য হ্রাস দূরের কথা, রমজান, ঈদ, পূজা ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের উৎসবকে ঘিরে বেড়ে যায় নিত্যপ্রয়োজনীয়সহ বিভিন্ন পণ্যের দাম। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে ভোক্তাদের একরকম বাধ্য করেন বেশি দামে পণ্য কিনতে। অথচ বাংলাদেশের ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই ইসলাম ধর্মের অনুসারী এবং এর বেশির ভাগই ধর্ম পালন করে থাকেন।

লন্ডনের চেইন সুপার শপ সেন্সবারি, আসদা, টেসকোসহ অন্যান্য শপ ঘুরে দেখা গেছে, রমজান উপলক্ষে তারা বিভিন্ন পণ্যের দাম ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়েছে। আসদাতে ১০ কেজি চালের বস্তা ১৭ পাউন্ড থেকে কমিয়ে ১০ পাউন্ড করেছে। ৫ লিটার সয়াবিন তেল সাড়ে পাঁচ পাউন্ড থেকে কমিয়ে সাড়ে চার পাউন্ড, আটা ১০ কেজির বস্তা ৯ পাউন্ড থেকে ৫ পাউন্ডে এসেছে। এভাবে সেন্সবারিতে দেখা গেছে আঙুরের প্যাকেট ২ পাউন্ড থেকে ৫০ পেন্স কমিয়ে দেড় পাউন্ড করেছে। একই ভাবে কমলার প্যাকেট দেড় পাউন্ড থেকে এক পাউন্ড করা হয়েছে। এভাবে ছোলা, খেজুর, ডালসহ সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হ্রাস করা হয়েছে। হালাল মাংসের দোকানেও মাছ-মাংসে কিছুটা হলেও ছাড় দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

ইস্ট লন্ডনের সুপরিচিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রহিমসের এক কর্মকর্তা জানালেন, তাঁরা রমজানের সব পণ্যের দাম কমিয়েছেন। ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের বিশ্বাস ও উৎসবের অংশীদার হতে তাঁদের এই প্রয়াস। যুক্তরাজ্যের চেইন সুপার শপ সেন্সবারিতে কাজ করেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমাদ আহমদ। তিনি বলেন, তাঁদের কোম্পানি সব ধর্ম ও মতের মানুষের বিশ্বাসকে গুরুত্ব দেয় এবং সব ধর্মের উৎসবকে উৎসাহিত করতে দ্রব্যমূল্যে ছাড় দিয়ে ভোক্তাদের সঙ্গে থাকার চেষ্টা করে। মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি বড়দিন, দুর্গাপূজা কিংবা দিওয়ালিতেও তাদের বিভিন্ন পণ্যে ছাড় দেওয়া হয়।

default-image

কিন্তু বাংলাদেশে রমজান কিংবা উৎসব ঘিরে দুপয়সা বাড়তি আয়ের জন্য ওত পেতে থাকেন ব্যবসায়ীরা। সরকারের বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকির মধ্যেও সিন্ডিকেট করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন তাঁরা। ১১ এপ্রিল বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রতি কেজি সাধারণ মানের খেজুরের দাম বাড়ানো হয়েছে। প্রতি কেজিতে চিনি ১০, মুগডাল ১০ ও দেশি পেঁয়াজ ১০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস দুই মাসের ব্যবধানে ২০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৫ টাকা বেড়েছে। গুঁড়া দুধ কোম্পানিভেদে কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা বেড়েছে। খোলা সয়াবিন প্রতি লিটার ৯ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন