default-image

প্রথম যাত্রাতেই হোঁচট। চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে এসে শুনলাম অনিবার্য কারণে (১২ জানুয়ারি) রাত ১১টার তূর্ণা-নিশীথা ঢাকার উদ্দেশে যাবে না। কারণ আমরা সবাই জানি। ১৪ জানুয়ারি আকাশপথে পাড়ি দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে। ব্যাংকার বড় ভাই মোজাম্মেল হোসেনের সহায়তায় ইউএস বাংলার ফ্লাইটে ১৩ জানুয়াির রাত সাড়ে আটটায় ঢাকায় পৌঁছালাম (ইন টাইম)। বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে পাশের এক হোটেলে উঠলাম।
১৪ জানুয়ারি ভোর সাড়ে পাঁচটা। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা বিমানবন্দরের আকাশ। কুয়াশার কারণে টার্কিশ এয়ার নির্দিষ্ট সময়ের (ভোর ছয়টা) পরিবর্তে দুপুর ১২টায় ঢাকা বিমানবন্দরে এল। তখন আমার দুই চোখ ভেঙে ঘুম আসছে। রাত তিনটা থেকে ১১ ঘণ্টা বিমানবন্দরে। অনিশ্চয়তার দোলাচলে অবশেষে বেলা আড়াইটায় আকাশে উড়াল দিল বিমান। টানা সাত ঘণ্টা আকাশপথ শেষে ইস্তাম্বুল।
আবারও লম্বা যাত্রাবিরতি। ইস্তাম্বুলের আতাতুর্ক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপ-আমেরিকার যাত্রী বোঝাই করে জড়ো করা হয়। সেখান থেকে ইতালি, লন্ডন, ডেনমার্ক, সুইডেন, যুক্তরাষ্ট্র-কানাডাসহ ইউরোপ-আমেরিকার নানা দেশে পাড়ি জমান বাংলাদেশিরা।
ওই দিন রাতে বিমান কর্তৃপক্ষ হোটেল ও খাওয়া সব ম্যানেজ করলেও বিমানবন্দর থেকে বেরোনোর ট্রানজিট ভিসার দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করল। এতে প্রায় ৫০ জন বাংলাদেশি যাত্রী আরেক নতুন তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন।

ব্যক্তিগত উদ্যোগে যোগাযোগ করে ইমিগ্রেশন থেকে জানতে পারলাম, এন্ট্রি ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও তুরস্ক সরকারের মধ্যে কোনো চুক্তি নেই। অথচ প্রতিদিন শত শত বাংলাদেশি টার্কিশ এয়ার ব্যবহার করে ইউরোপ-আমেরিকায় পাড়ি জমাচ্ছেন। লজ্জার বিষয় নেপাল-ভুটান এ সহজ কাজটি করে রেখেছে। বাংলাদেশ করেনি। সামান্য রাষ্ট্রীয় ভুলের মাশুল দিতে হচ্ছে হরদম পোড়াকোপাল বাংলাদেশিদের।
দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা পর আবারও উড়াল আমেরিকার পথে। আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে পৌঁছালাম শিকাগোর হেয়ার বিমানবন্দরে। ১৯৪৫ সালে গড়া এ বিমানবন্দরে বর্তমানে গেট সংখ্যা ১৮৮টি। প্রতি ঘণ্টায় দুই লাখ ৪০ হাজার যাত্রী এ বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াত করেন৷ বন্দর ওয়েবসাইট থেকে এ তথ্য জেনেছি।
এখানে ট্রানজিটে কানেটিং ফ্লাইট মিস করলাম। ফলে আবারও শিকাগোতে রাতযাপন। আমাকে আমেরিকান এয়ারলাইনসের ক্যানসাস রাজ্যের উইচিটা শহরে যেতে হবে। ১৪ জানুয়ারি (যুক্তরাষ্ট্র সময়) আসার কথা থাকলেও ১৬ জানুয়ারি পৌঁছালাম।
ইমিগ্রান্ট ভিসার মেয়াদে আটলান্টিক পাড়ি দিতে হয় ঠিক সময়ে। তবুও মন ছুটে যায় বাংলায়। আমি আমার আমিকে চিরদিন বাংলায় খুঁজে পাই৷
(১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৫)

বিজ্ঞাপন
দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন