বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অন্তর্জালের দুনিয়ায় গোটা বিশ্বটায় যেন একটা গ্রাম। অন্তর্জালের মাধ্যমেই আমরা দেশ থেকে সাত সমুদ্র তেরো নদীর দূরত্বে থেকেও যেন দেশের পাশেই আছি সব সময়। আর সেই কাজে আমাদের সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছে প্রথম আলো। দেশের যেকোনো মুহূর্তের যেকোনো খবর সবার আগে আমাদের সামনে হাজির করে প্রথম আলো। আমাদের প্রায় সবার মুঠোফোনেরই সার্চ ইঞ্জিনের হোম ট্যাবে দেখা যায় প্রথম আলোর লোগো। সাধারণত যেসব সাইটে ব্যবহারকারী অনবরত লগইন করেন, সেগুলোই সার্চ ইঞ্জিন তার বুদ্ধিমত্তা দিয়ে একটা শর্টকাট তৈরি করে রাখে, যেন পরেরবার গ্রাহককে আবার খুঁজে বের করতে না হয়।

default-image

অবশ্য ইতিমধ্যেই প্রথম আলো তার হোম পেজ খোলনলচে পাল্টে ফেলেছে। ফলে অনেকেরই শুরুতে তাদের পছন্দের বিষয় খুঁজে পেতে সমস্যা হয়েছে। আমি যেহেতু প্রথম আলোতে যৎসামান্য লেখালেখি করি, তাই একদিন একজন খুদে বার্তা দিলেন, উনি রাশিফল পেজটা খুঁজে পাচ্ছেন না। উনি আরও বললেন, উনি কাওসার আহমেদ চৌধুরীর রাশিফলের নিয়মিত অনুসারী। আমি তখন রাশিফলের পেজটা খুঁজে ওনাকে লিংক পাঠিয়ে দিলাম। এ ছাড়া প্রথম আলোর প্রিন্ট ভার্সনের ই-ভার্সন ‘ই-প্রথম আলো’ আর এখন সহজেই পড়া যায় না। পড়তে চাইলে গ্রাহক হতে হয়। এসব ছোটখাটো সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও দূর পরবাসের গ্রাহক এখনো কোনো খবরের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ভরসা রাখেন প্রথম আলোতে।

সময়ের ধারাবাহিকতায় প্রথম আলোর স্লোগান পরিবর্তিত হয়েছে সময়ে সময়ে। বর্তমানের স্লোগান ‘ভালোর সাথে আলোর পথে’ খুবই যুগোপযোগী হয়েছে বলে আমার বিশ্বাস। বর্তমানের দুনিয়ায় যেকোনো খারাপ খবর বাতাসের চেয়ে দ্রুতগতিতে ছড়ায়।

বিশেষ করে দেশে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো সেটাই প্রমাণ করে। এমন সময় দায়িত্ব নিয়ে খবর প্রকাশ করাটা ভীষণ জরুরি। ব্যক্তিগত বা সামষ্টিক আবেগকে পাশ কাটিয়ে একটা জাতির জন্য মঙ্গলময় খবর প্রকাশ করাটাই জরুরি। সে ক্ষেত্রে আমার মনে হয় প্রথম আলো বেশ সচেতন। দেশের এই সব খবরে প্রবাসীরাও বিভক্ত হয়ে পড়েন। অনেক সময় দেশের মতো এই দূর পরবাসেও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সে ক্ষেত্রে প্রথম আলো দেশে ও বিদেশে সব জায়গায় গঠনমূলক মতামত তৈরি করে চলেছে।

প্রথম আলোর ‘দূর পরবাস’ পাতাটা ঠিক কবে চালু হয়েছিল, সেই বিষয়ে আমার ধারণা নেই। তবে আমি প্রথম এই পাতার সঙ্গে পরিচিত হই নিজে পরবাসে আসার পর। এর পর থেকে এই পাতার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়। এমন কোনো দিন নেই যেদিন অন্ততপক্ষে বিশবার এই পাতায় নজর রাখা হয় না। এই পাতায় প্রবাসের প্রায় সব খবরই পাওয়া যায় বিশেষ করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা প্রবাসীদের সাফল্যের খবর অন্য প্রবাসীদেরও উৎসাহিত করে বলেই আমার বিশ্বাস। ছবি: সংগৃহীত

default-image

তবে আগে এই পাতাতেও এলাকা অনুযায়ী অনেকগুলো ভাগ ছিল যেমন, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ইউরোপ ইত্যাদি। কিন্তু বর্তমানে সব পাতাকে এক করে দেওয়াতে খবর খুঁজে পেতে কিছুটা সময় লাগে।

দূর পরবাসের বিভিন্ন খবরের মধ্যে উৎসবের খবরগুলো খুবই আশাজাগানিয়া। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাস করা বাংলাদেশিরা কীভাবে নিজেদের অন্তরে বাংলাদেশকে লালন করেন এবং পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে সেটাকে ছড়িয়ে দেন, সেটা সহজেই বুঝতে পারা যায়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বাংলা ভাষার স্কুলের খবর, পয়লা বৈশাখ উদ্‌যাপনের খবর, বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব পালনের খবর আবারও আমাদের বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সাহায্য করে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে, দূর পরবাস পাতাটা শুধুই অনলাইনে পাওয়া যায়। এটার কোনো প্রিন্টেড ভার্সন নেই। আমার মনে হয় দূর পরবাস পাতার নির্বাচিত খবরগুলোকে প্রিন্টেড ভার্সনে প্রকাশ করার বিষয়টা কর্তৃপক্ষ ভেবে দেখতে পারেন।

default-image

দূর পরবাস পাতা প্রবাসে আরও একটি বিপ্লব ঘটিয়েছে। এই পাতায় লেখার সুবাদে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অনেক লেখক তৈরি হয়েছে। দূর পরবাস পাতার লেখাগুলো বারোমিশালি। এখানে একদিকে যেমন আছে দেশ ছেড়ে আসার হাহাকার অন্যদিকে পাশাপাশি আছে প্রবাসের কঠিন দিনলিপি। আবার পাশাপাশি আছে দেশের ও প্রবাসের বিভিন্ন বিষয়ের তুলনা এবং সেখান থেকে উত্তরণের দিকনির্দেশনা। এ ছাড়া আছে অনেক সুন্দর সুন্দর কবিতা ও রম্য লেখা। এভাবেই অনেক লেখক তৈরি হয়েছে এবং হচ্ছে। এর মধ্যে থেকে অনেকেই আবার বইও প্রকাশ করে ফেলেছেন। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে জানি প্রথম আলো না থাকলে আমার লেখক সত্তার কখনোই প্রকাশ সম্ভব হতো না। এখন বাজারে আমার যে দুটো বই প্রকাশ হয়েছে, সেটার বীজ বপন করেছিল প্রথম আলোর দূর পরবাস পাতা।

হাঁটি হাঁটি পা পা করে প্রথম আলো ২৩ বছরের দৃপ্ত তরুণ। প্রথম আলো তার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখুক। দেশে–বিদেশে নির্ভরযোগ্য ও তথ্যবহুল সংবাদ সরবরাহের ধারা অব্যাহত থাকুক। দেশের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা বাংলাদেশিদের মধ্যে এখনো সবচেয়ে বেশি পাঠক সমাদৃত পত্রিকার নাম প্রথম আলো। বিভিন্নজন বিভিন্ন মতের অনুসারী তাই বিভিন্ন পত্রিকার সংবাদ পড়েন, কিন্তু সত্যতা যাচাইয়ের জন্য একটিবারের জন্য হলেও প্রথম এল খুলে দেখে নেন। এভাবেই বিশ্বের সব বাংলাদেশিকে প্রথম আলো এক অদৃশ্য বন্ধনে বেঁধে ফেলছে। এভাবেই আমরা বিশ্বের বুকে আমাদের মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব বলেই আমার বিশ্বাস।

default-image

প্রথম আলো হোক সংবাদের আলোর উৎস। সেই আলোয় আমরা হব আলোকিত। সেই আলোয় আমাদের মনের সুকুমার বৃত্তিগুলোর ঘটবে বিকাশ। দেশে–বিদেশে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রথম এল হয়ে উঠুক নির্ভরতার নাম।

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন