বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আমার অনুভূতিটা ঠিক এ রকম হয় দেশ ছেড়ে আসার ঠিক আগের দিন। বন্ধুদের কাউকে বলি না কবে যাচ্ছি। আগের দিন সময় চলে যায় বুলেটের মতো। প্রতিবার আগের দিন সন্ধ্যায় প্রিয় ছেলেবেলার মিরপুর এলাকার গেটের উল্টো দিকের যাত্রী ছাউনিতে থাকা টং দোকানে দাঁড়িয়ে দুই কাপ চা খাই কিন্তু চোখ ভেসে যেতে থাকে জলে! অন্ধকারে সেই জল কেউ যাতে না দেখে, সে ব্যাপারে সাবধান থাকি। টিস্যু পেপারে নাক চোখ মুছি বারবার! তবু শেষ হয় না মোছা! আমার মতো অভাজন সোহেলের চোখের পানির কি দাম আছে? দেশ তো আমাকে বিদায় দেয়নি! আমি নিজে দেশ ছেড়ে গেছি। তবে কেন কান্না? যুক্তি নেই কোনো। তবে কান্নায় কোনো ভেজাল নেই। এখন লিখতে গিয়ে পর্যন্ত বারবার চোখ ভিজে যাচ্ছে! হঠাৎ হঠাৎ বড় ভাইসম বিল্লাল ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হয় তখন। তিনি এলাকায় ঘুর ঘুর করেন সব সময়। গত ২৪ বছর একই রুটিন। তাকেও চা খাওয়াই। তবে ওনাকে আমি খুঁজে নিই না। কীভাবে যেন হাজির হন। ভবঘুরে লোক! ঘোরাই তাঁর কাজ! রাত নয়টার মধ্যে বাসায় ফিরি। আম্মার চোখ ফোলা থাকে। কিছু বলি না। আমাদের ফ্লাইটগুলো খুব ভোরবেলা থাকে। গভীর রাতে বাসা থেকে বের হতে হয়। আমি কাউকে সঙ্গে নিয়ে বিমানবন্দর যাই না। ট্যাক্সি বলে রাখি। সে তুলে নিয়ে আসে। ছোট ভাই সঙ্গে আসতে চায় কিন্তু আনি না। রাতে প্রতিবার আম্মার কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার সময় কাঁদতে কাঁদতে বলবে, যদি ভালোমতো পড়া লেখাটা করতি, তাহলে বিদেশে থাকতে হতো না! আম্মা আমার কষ্টটা বোঝে। ২৪ বছর একই ডায়ালগ শুনে শুনে ঘর ছেড়ে আসি। এখন কাজে বসে লিখছি, কিন্তু বারবার চোখ ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে! লিখতে পারছি না...!

default-image

বিমানবন্দরে বসে কিছু বন্ধুকে এসএমএস দিই। প্লেনে বসে একধরনের ঘোরের মধ্যে চলে যাই। চুপ করে চোখ বন্ধ করে পড়ে থাকি। ভাবটা এমন যেন সত্যিকারের প্রাণটা এখানে রেখে গেলাম। দেহ বয়ে নিয়ে চললাম...অনেক দিন দেশ ছাড়া! আহা রে কষ্ট...

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন