বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পারিবারিক বন্ধন ছিল যে মানুষটির কাছে সবচেয়ে মূল্যবান, এ কারণে তিনি ছিলেন ভাইবোনের কাছে অত্যন্ত প্রিয়। সবার দুঃখ ও আনন্দে তিনি সব সময় কাছে ছিলেন। মায়ের মৃত্যুর পর তাঁর অভাব কখনো বুঝতে দেননি অসীম ভালোবাসায়। ভাইবোনের কাছাকাছি থাকার জন্য, সবার সুখ-দুঃখের সঙ্গী হওয়ার জন্য নিজের উত্তরার বাড়ি ভাড়া দিয়ে চলে এসেছিলেন সেন্ট্রাল রোডে। স্বামী, একমাত্র কন্যা, জামাতা ও প্রাণপ্রিয় নাতিকে নিয়েই ছিল তাঁর সাজানো সংসার। নাতিকে নিয়েই সারা দিন আনন্দে কেটে যেত তাঁর সময়।

বেঁচে থাকার অনেক সাধ ছিল। সে কারণে করোনার দুটি টিকাই নিয়েছিলেন সময়মতো। কিন্তু বিধাতার ইচ্ছা যে ছিল ভিন্ন, তা কি তিনি টের পেয়েছিলেন? ভীষণ চাপা স্বভাবের ছিলেন আপা, নিজের কষ্টের কথা কাউকেই খুব একটা বলতেন না। তা না হলে তিনি হঠাৎই কেন প্রাণপ্রিয় নাতিকে উদ্দেশ করে এ চিঠি লিখলেন। বেশ কিছুদিন ধরেই শারীরিকভাবে কষ্ট পাচ্ছিলেন, কিন্তু কাউকে বুঝতে দেননি। হয়তো কিছু টের পেয়েছিলেন, তাই ছোট্ট নাতিকে দিয়ে গেলেন কিছু নির্দেশনা। মাত্র কয়েকটি লাইনের মাধ্যমে বলে গেলেন, নাতির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের গভীরতা এবং জীবনের করণীয়।

বড় আপার চিঠিটি ছিল এমন—
আমার ছোট্ট ভাইয়া ঈদ,
আমার অনেক অনেক আদর নিয়ো। ভাইয়া, তুমি আমার জান। তোমাকে আমি অনেক ভালোবাসি। আমি একদিন মরে যাব। এটা পৃথিবীর নিষ্ঠুর নিয়ম। ভাইয়া, আমি মরে গেলে তুমি আল্লাহর কাছে দোয়া করবে যেন আখেরাতে শান্তি পাই। ভাইয়া, আমার একটা অনুরোধ, তোমার নানা ও তোমার আব্বা ও আম্মার প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখবে। তোমার আম্মার কথা শুনবে। পৃথিবীতে তোমার আম্মার তুমিই আছ। তার মনে কোনো কষ্ট দিয়ো না। আর বেশি কিছু লিখব না। নানা, নানু, আম্মা, আব্বা পৃথিবীর সব মানুষের জন্য দোয়া কোরো।
তোমার আদরের
নানু।

আপা, তুমি হঠাৎ করে কেন লিখলে এই চিঠি? তুমি কি কিছু বুঝতে পেরেছিলে? তোমার অপূর্ণতা হয়তো কখনো পূর্ণ হবে না। তোমার চলে যাওয়া তোমার নাতি পুরোপুরি না বুঝলেও শুধু তোমাকেই খুঁজে ফেরে। ওর চোখ দুটি শুধু যেন বারবার বলে, ‘নানু, তুমি ফিরে এসো।’

*লেখক: ড: সোহেল আহমদ, ভিয়েনা,অস্ট্রিয়া।

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন