default-image

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২১ উদ্‌যাপন করেছে বাংলাদেশি স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন ক্যান্টারবুরি বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএইউসি)। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় জ্যাকমান অডিটরিয়াম ডাভডেল ক্যাম্পাসে এ আয়োজন করা হয়। এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল একটি বহু সাংস্কৃতিক ও অবিচ্ছেদ্য সমাজ গঠনের, যে সমাজে সব ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষ তাদের মাতৃভাষাকে সম্মান করবে।

১৯৫২ সালে বাংলা ভাষার জন্য জীবন উৎসর্গকারীদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাতের জন্য একটি বিশেষ প্রার্থনার মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয়। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন কর্মসূচির প্রথম অংশে ছিল বিএসএইউসিএর কোষাধ্যক্ষ মৌটুসী তানহার স্বাগত বক্তব্য। তিনি তাঁর বক্তব্যে দিনটির ঐতিহাসিক পটভূমি স্মৃতিচারণা করেন এবং বাঙালিদের জীবনে দিনটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, ‘দিনটি যেমন আমাদের কাছে ভাষাশহীদদের হারানোর জন্য বেদনার, একই সঙ্গে মাতৃভাষার সম্মান ফিরে পাওয়ার জন্য আনন্দের ও গর্বের।’

লিনউড-সেন্ট্রাল-হিথকোটের কমিউনিটি বোর্ডের সদস্য ড. সুনিতা গৌতম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে মাতৃভাষাকে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজন, উপায় ও তাৎপর্য সম্পর্কে আলোকপাত করেন তাঁর মনোমুগ্ধকর ভাষাশৈলী দিয়ে। পরবর্তী সময়ে বিশেষভাবে সাজানো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের অন্তর্ভুক্ত ছিল দেশাত্মবোধক গান, দলীয় সংগীত, কবিতা আবৃত্তি, একক এবং যুগল সংগীত। মো. আওরঙ্গজেবের শ্রুতিমধুর কণ্ঠে গাওয়া, ‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চাই’ গানটি শ্রোতাদের মধ্যে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের চেতনা পুনরুজ্জীবিত করে।
১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের চিত্র তুলে ধরে শারনালী আতাশি তিসি ও তাঁর ছেলে টোপ্পা সুমধুর কণ্ঠে যৌথভাবে আরও একটি গান, ‘রাষ্ট্র ভাষা আন্দোলন করলি রে বাঙালি’ পরিবেশন করে। আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের অংশগ্রহণ এবং তাঁদের বেশ কয়েকটি মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা অনুষ্ঠানটিকে সাফল্যমণ্ডিত করে। উদাহরণস্বরূপ, অনুষ্ঠানটিতে একটি কোরিয়ান কবিতা আবৃত্তি করেন কোরিয়ান বংশোদ্ভূত পিএইচডি শিক্ষার্থী ইউরি এবং একটি পোলিশ কবিতা আবৃত্তি করেন আরেক পোলিশ বংশোদ্ভূত পিএইচডি শিক্ষার্থী ড্যানিয়েল। এ ছাড়া দুজন চীনা শিক্ষার্থী জিয়ান এবং মেনপিং চেন কবিতা আবৃত্তি ও ঐতিহ্যবাহী চাইনিজ খাবারের রেসিপি পাঠ করে অনুষ্ঠানটিকে বর্ণিল করেন।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশি স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক আমন্ত্রিত মিসেস নাদাইন বর্মন অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করেন। তাঁর নিজের বাংলা ভাষা শেখার এবং মধুর স্মৃতিচারণা করেন বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় কাটানোর। সৌরভ, শারনালী আতাশি তিসি, মোনালী আলম ও মো. আওরঙ্গজেবের পরিবেশনায় দেশ, ভাষা ও সংস্কৃতি–সম্পর্কিত গানগুলো অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত করে। সবার অংশগ্রহণে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটি পরিবেশনার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষ হয়।
বিএসএইউসির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সাগর হোসেন মাতৃভাষায় অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যবহৃত গালিগুলোর মাধ্যমে মাতৃভাষার সম্মানহানি এবং আমাদের প্রতিদিনের কথোপকথনে এগুলোর অযথা ব্যবহার না করার বিষয়ে সচেতনতামূলক বক্তব্য দেন।

পরিশেষে, বিএসএইউসির পক্ষে বিএসএইউসির সভাপতি ও সিনিয়র প্রভাষক ড. মেসবাহ উদ্দিন চৌধুরী অনুষ্ঠানটির আয়োজক কমিটির প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং অনুষ্ঠানকে সফল করতে কঠোর পরিশ্রমের জন্য সব সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর সব অংশগ্রহণকারী এবং অতিথি বিএসএইউসি কর্তৃক আয়োজিত রাতের খাবার খান।

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন