নেদারল্যান্ডসে সেঁজুতির কান্ট্রি সম্মেলন যেন ভিনদেশে একখণ্ড বাংলাদেশ

বিজ্ঞাপন
default-image

নেদারল্যান্ডসের ওয়াখেনিগেন শহরে রেস্টুরেন্ট কুইন অব ইন্ডিয়ায় সেঁজুতি নেদারল্যান্ডসের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন হয়েছে ৮ আগস্ট। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সেঁজুতি নেদারল্যান্ডস শাখার কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারজানা ইয়াসমিন। সেঁজুতি নেদারল্যান্ডসের সূচনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং নেদারল্যান্ডসে কী কী কর্মসূচি নিয়ে কাজ করবে, তা তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, ‘সেঁজুতি মানে হচ্ছে সাঁঝের বাতি। অন্ধকার দূর করে আলোকিত সমাজ গড়ার স্বপ্ন থেকেই এই সংগঠনের যাত্রা শুরু বাংলাদেশে। বাংলাদেশ, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাঙালি সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে মানবাধিকার সচেতনতা গড়ে তোলাই সেঁজুতির মুখ্য কাজ।’

নেদারল্যান্ডসের বিভিন্ন শহরগুলোতে বাঙালিরা ছড়িয়ে আছে বলে শিশুদের প্রমিত উচ্চারণে বাংলা শেখা, গান, নাচ বা আবৃত্তি শেখার বা সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণের কোনো সুযোগও নেই। শিশুদের প্রতিভা বিকাশ এবং প্রবাসে শিশুদের বাংলা সংস্কৃতিচর্চায় সম্পৃক্ত ও উৎসাহিত করতে এবং বাংলা সংস্কৃতিচর্চাকে বিস্তৃত করতে ইতিবাচক সংস্কৃতিমনা তরুণ ও নারীদের নেতৃত্বে অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে সেঁজুতির নেদারল্যান্ডস কান্ট্রি শাখার পথচলা। ইতিবাচক মনোভাব, সংস্কৃতিমনা, প্রগতিশীল, সৃষ্টিশীল, আধুনিকমনা শিশু, তরুণ ও নারীদের সঙ্গে নিয়ে নেদারল্যান্ডসে বসবাসরত যেকোনো সংস্কৃতিমনা বাঙালি ও মানবাধিকারসচেতন ভিনদেশি নাগরিকদের নিয়েই কাজ করছে।

করোনা পরিস্থিতির কারণে ৩০ জন সদস্য নিয়ে সেঁজুতি নেদারল্যান্ডস আনুষ্ঠানিকভাবে ওই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে। এ অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিল আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদ উদ্‌যাপন ও সদস্যদের পরিচিতি, শিশুদের সঙ্গে নিয়ে সাংস্কৃতিক আলোচনা ও আড্ডা এবং এমন একটা প্ল্যাটফর্ম উন্মোচন করা, যেখানে শিশুরাই আগামী দিনে নেতৃত্ব দেবে।

default-image

বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে নেদারল্যান্ডস সময় বেলা ১১টায় (বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টায়) অনুষ্ঠান শুরু হয়। বাংলাদেশ থেকে সেঁজুতির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপারসন আইনজীবী মুরাদ-আল-হাসান চৌধুরী অনলাইন কনফারেন্সে মাধ্যমে অংশ নিয়ে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন।

default-image

মেহেদি হাসান ও হিরা নাজনীনের অনবদ্য উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে সংগঠকদের মধ্যে নিজেদের সেঁজুতিতে যুক্ত হওয়ার এবং তাঁদের স্বপ্ন নিয়ে অনুভূতি প্রকাশ করেন রেবেকা মুক্তি এবং সুদিপ্ত সাহা। মেহেদি হাসান রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক পর্ব শুরু করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সোনার তরী’ কবিতা আবৃত্তি করেন আবৃত্তিকার উপল হাসান, শামিমা জেসির নাচ এবং উপল হাসান ও রুবেলের গানে মুগ্ধ সবাই যেন বাংলাদেশের এক সাংস্কৃতিক পরিবেশে ফিরে গেছেন। এ ছাড়া দ্বৈতকণ্ঠে গান পরিবেশন করেন কানিজ মায়া ও ইয়াসমিন মেহেরুন। ডাচ ভাষায় বাংলাদেশের ইতিহাস তুলে ধরেন তাসমিদ।

default-image

অনুষ্ঠানে খুদে শিশুদের চিত্রাঙ্কনে অংশ নিয়েছে জারা, রাইফ, জারিফ ও অনিন্দিতা। ছড়া আবৃত্তি করেছে অনিন্দিতা ও রাইফ। সেঁজুতি নেদারল্যান্ডসের সদস্যদের মধ্যে সৌজন্য বক্তব্য দেন নেওয়াজ রহমান, ওয়াফি দেলোয়ার ও শাহরিয়ার বারী।

বাঙালি খাবার পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয় বেলা ১টায়। বিজ্ঞপ্তি

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন