default-image

পর্তুগালের বিদ্যুৎ সরবরাহ কোম্পানি জানিয়েছে যে পর্তুগালের প্রথম ভাসমান বায়ু বিদ্যুৎ শক্তি কেন্দ্রটির পুরোপুরি উৎপাদন সক্ষমতায় পৌঁছেছে। ২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি টারবাইন যুক্ত আটলান্টিক সমুদ্রে সম্পূর্ণরূপে চালু রয়েছে এবং পর্তুগালের জাতীয় বৈদ্যুতিক গ্রিডকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করছে।

২০১১ সালে একটি পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে এই যাত্রা শুরু হয়েছিল। আটলান্টিক সমুদ্রে পর্তুগিজ উপকূলে আগুছাদোরা অঞ্চলের কাছাকাছি এটি স্থাপন করা হয়। ২০১১ সালের ডিসেম্বরে এটি জাতীয় গ্রিডে ২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করে। তবে এটি বিশ্বের প্রথম ভাসমান উইন্ডফ্লোট বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

তিনটি টারবাইন প্ল্যাটফর্মকে আলাদাভাবে ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ বৈদ্যুতিক সংযোগের মাধ্যমে পর্তুগালের উপকূলীয় অঞ্চল ভিয়েনা কাস্তেলোতে অবস্থিত পাওয়ার স্টেশনে সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। আমেরিকা, এশিয়াতে মিলে বিশ্বের ১৩ টি দেশ উইন্ড টারবাইন প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। ইউরোপের মধ্যে পর্তুগাল, যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, ডেনমার্কও বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে।

২০১৮ সালের ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক এ প্রকল্পের জন্য গঠিত উইন্ডো প্লাস এস এ কোম্পানিকে ৬০ মিলিয়ন ইউরো অনুমোদন দেয়। তাছাড়া প্রকল্প টি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (এন ই আর ৩০০) প্রোগ্রামের আওতায় ২৯.৯ মিলিয়ন ইউরো এবং পর্তুগাল সরকার থেকে পর্তুগাল কার্বন তহবিলের মাধ্যমে ৬ বিলিয়ন ইউরো গ্রহণ করে।

উইন্ড প্লাস কোম্পানিটি পর্তুগালের বিদ্যুৎ সরবরাহ কোম্পানি ইডিপি ৫৪.৪ শতাংশ, ফ্রান্সের এনগেল ২৫ শতাংশ, স্প্যানিশ কোম্পানি রেপসল ১৯.৪ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রের ভাসমান বাতাস ফাউন্ডেশন বিশেষজ্ঞ প্রিন্সিপাল পাওয়ারের ১.২ শতাংশ শেয়ারের সমন্বয়ে গঠিত।

default-image

আটলান্টিক মহাসাগরের অর্ধনিমজ্জিত বিশ্বের প্রথম ভাসমান টারবাইন, বায়ু শক্তিকে কাজে লাগিয়ে এই বৈদ্যুতিক প্ল্যান্ট এর মাধ্যমে প্রতিবছর ৬০,০০০ ব্যবহারকারীর সমপরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হবে এবং পরিবেশ বিপর্যয় রক্ষার্থে প্রায় ১ দশমিক ১ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন রোধ করতে সহায়তা করবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিয়তই গ্রিন এনার্জির দিকে ধাবিত হচ্ছে এমনকি তাদের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতার জন্য তহবিল কোনো দেশ কতটা পরিবেশ সহায়ক কার্যক্রম হাতে নিতে পেরেছে তার ওপর ভিত্তি করে বণ্টন করা হয় এবং মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের কোনো দেশের ভূমিকা থাকলে তাকে আইনের আওতায় আসতে হয়।

*লেখক: সমাজকর্মী ও লেখক

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0