সমাবেশে বক্তারা বলেন শ্রমিক নিজের শ্রম, মেধা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে দেশে দেশে সভ্যতার চাকা এগিয়ে নিয়ে গেছেন, সমাজের সমৃদ্ধি অর্জনের নিয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করছেন। কিন্তু তাঁদের নিজেদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।

সত্যিকার অর্থে শ্রমিকের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হলে মালিক ও শাসকশ্রেণির শোষণ–বঞ্চনার অবসান ঘটাতে হবে বলে মন্তব্য করেন বক্তরা। শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামেরও ডাক দেন তাঁরা।
সমাবেশে শ্রমিকদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর কর্মস্থল নিশ্চিত করা; বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মস্থলে হতাহত শ্রমিকদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ প্রদান; স্বীকৃত দৈনিক কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করা এবং ন্যায্য মজুরি প্রদানের দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, সারা বিশ্বের পরিবেশদূষণ, যুদ্ধবিগ্রহে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে অভিবাসী শ্রমিক ও শরণার্থীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ এবং বর্ণবাদী আইনের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

সমাবেশে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশি ওয়ার্কার্স কাউন্সিল–ইউকের চেয়ারপারসন শাহরিয়ার বিন আলী এবং সাধারণ সম্পাদক সুশান্ত দাশ।

সমাবেশে বক্তারা মে দিবসের লড়াকু ইতিহাস, চেতনা ও বর্তমান পরিস্থিতিতে এর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে বক্তব্য দেন। বক্তাদের মধ্যে আছেন ব্রিটেনের পরিবহন শ্রমিক নেতা আরএমটি ইউনিয়নের সভাপতি এলেকস গর্ডন, নিউহ্যাম কাউন্সিলের নির্বাচিত মেয়র রোকসানা ফায়েজ, ব্রিটিশ কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক রবার্ট গ্রিফিথ, যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনের নেতা এনড্রু মারি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি যুক্তরাজ্য, ইউরোপ শাখার সভাপতি আবেদ আলী আবিদ, বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতা লেখক ডেভিড রোসেনবার্গ, গ্রেটার লন্ডন অ্যাসেম্বলির সাবেক সদস্য লেবার পার্টির নেতা মুরাদ কোরেশী, ট্রেড ইউনিয়ন নেতা ও লিবারেশন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রজার ম্যাকেনজি, যুক্তরাজ্য উদীচীর পক্ষে রফিকুল হাসান খান জিন্নাহ, বামপন্থী আইনজীবী জো ল্যাটিমার, বাংলাদেশি ওয়ার্কার্স কাউন্সিল–ইউকের সহসভাপতি জাহানারা রহমান জলি, সাংগঠনিক সম্পাদক বাবলু খন্দকার প্রমুখ।

এ ছাড়া সভায় উপস্থিত থেকে সংহতি প্রদান করেন লেবার পার্টির নেতা–কর্মী, বিভিন্ন দেশের শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি, ব্রিটেনের মূলধারার ট্রেড ইউনিয়ন ও বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো, বাংলাদেশের প্রগতিশীল বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এবং বিভিন্ন সেক্টরে কর্মরত প্রবাসী বাঙালি শ্রমিকেরা।

সমাবেশে গণসংগীত পরিবেশন করে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী–যুক্তরাজ্য সংসদের শিল্পীরা। এ ছাড়া একক সংগীত পরিবেশন করেন গোপাল দাশ, জুবের আক্তার সোহেল। নৃত্য পরিবেশন করেন মোহাম্মদ দীপ। ছিল শিবশংকর সাহার স্বরচিত কবিতাপাঠ।

উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশি এবং অন্যান্য দেশের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ বাংলাদেশি ওয়ার্কার্স কাউন্সিল–যুক্তরাজ্য গঠিত হয়। বাংলাদেশের প্রগতিশীল শ্রমিক আন্দোলন ও বিশ্বশ্রমিক আন্দোলনকে সক্রিয় সমর্থন করাও এ সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য।

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন