আগত অতিথিবৃন্দ
আগত অতিথিবৃন্দছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ হাইকমিশন, পোর্ট লুইস, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ঐতিহাসিক বাংলায় ভাষণ প্রদানের ৪৬তম বার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করে। দিনটি উপলক্ষে মরিশাসের তরুণদের নিয়ে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএন রেসিডেন্ট কো-অর্ডিনেটর মিসেস ক্রিসটিন ইউমোটনি এবং ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) সেক্রেটারি জেনারেল ড. নোমভুয়ো নন্টসিকেলেলো নকওয়ে। সভায় সভাপতিত্ব করেন মান্যবর হাইকমিশনার রেজিনা আহমেদ।

বিজ্ঞাপন

মান্যবর হাইকমিশনার রেজিনা আহমেদ তাঁর প্রারম্ভিক বক্তব্যে প্রথমেই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের জাতিসংঘের সদস্যপদ প্রাপ্তিতে বঙ্গবন্ধুর অসামান্য অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালেই তাঁর ভাষণে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, পররাষ্ট্রনীতি, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ও বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের রূপরেখা বর্ণনা করেন। দুঃখজনকভাবে তিনি তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ পাননি।

default-image

বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যার নেতৃত্বে সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নয়নের সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন হাইকমিশনার রেজিনা আহমেদ। সবশেষে তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, তরুণ প্রজন্মই পৃথিবীকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এ জন্য তাঁদের সামনে বঙ্গবন্ধুর মতো নেতাদের দৃষ্টান্ত পথচলার অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

বিজ্ঞাপন

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জাতিসংঘে প্রদত্ত ভাষণের ওপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স থেকে সদ্য গ্র্যাজুয়েট মরিশিয়ান নাগরিক মিজ তাহিরা জারা বোদো বেরি। তিনি তাঁর উপস্থাপনায় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক বাংলা ভাষায় বক্তব্য দেওয়ার প্রেক্ষাপট এবং বঙ্গবন্ধুর পররাষ্ট্রনীতি, শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় জাতিসংঘের ভূমিকা, বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়নসহ সোনার বাংলা বিনির্মাণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা তুলে ধরেন।

ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) সেক্রেটারি জেনারেল ড. নকওয়ে বলেন যে বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণে দারিদ্র্য বিমোচনের কথা বলেছিলেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ এখনো সে বিষয় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।

বিজ্ঞাপন

ইউএন রেসিডেন্ট কো-অর্ডিনেটর মিসেস ক্রিসটিন ইউমোটনি বঙ্গবন্ধু কর্তৃক প্রদত্ত ভাষণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শুধু বাংলাদেশের একার নন, তিনি আমাদের সবার।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজকে আমরা যে এসডিজি নিয়ে কাজ করছি, ৪৬ বছর পূর্বেই বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণেও এই সব ক্ষেত্রে উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছিলেন।’ তিনি বলেন, ‘আমি নিজে একজন মুক্তিযোদ্ধা, বঙ্গবন্ধু আমাদের অনুপ্রেরণা, তিনি আমারও পিতা।’

default-image

উন্মুক্ত আলোচনায় আলোচকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানের শেষ প্রান্তে মিজ তাহিরা জারা বোদো বেরি, ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) সেক্রেটারি জেনারেল ড. নোমভুয়ো নন্টসিকেলেলো নকওয়ে এবং ইউএন রেসিডেন্ট কো-অর্ডিনেটর মিসেস ক্রিসটিন ইউমোটনির হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন মান্যবর হাইকমিশনার রেজিনা আহমেদ। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে মুজিব বর্ষের লোগো–সংবলিত কোটপিন ও কলম স্মৃতিস্মারকস্বরূপ প্রদান করা হয়।

মন্তব্য পড়ুন 0