বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নূরুল ইসলাম ব্যারিস্টারি নিয়ে পড়তে লন্ডন যান। লন্ডনে যাওয়ার পর পাকিস্তানের তৎকালীন স্বৈরশাসক আইয়ুব খানবিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হন। আইয়ু্ব খানবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অল্প দিনের মধ্যে তিনি শিক্ষার্থী ও নাগরিক সমাজে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন।

১৯৬৩ সালে ন্যাশনাল ফেডারেশন অব পাকিস্তান অ্যাসোসিয়েশন ইন গ্রেট ব্রিটেন গঠনে অন্যতম প্রধান ছিলেন তিনি। ১৯৬৪ সালে ইস্ট পাকিস্তান হাউস প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করেছেন। আন্তর্জাতিক প্রচার তৎপরতার কৌশল নির্ধারণে বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দেখা করার লক্ষ্যে ১৯৬৬ সালে তিনি দেশে ফেরেন।

পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীনতার নামে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনে জড়িত থাকার অভিযোগে পাকিস্তান সরকার তাঁকে গ্রেপ্তার ও তাঁর পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করে। ফলে যথাসময়ে তিনি লন্ডনে ফিরে যেতে পারেননি। এতে তাঁর লেখাপড়ার ব্যত্যয় ঘটে।

দেশে ফিরে নূরুল ইসলাম ছয় দফা আন্দোলনের পক্ষে প্রচার তৎপরতায় সক্রিয় হন। তিনি ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ৭০ সালের নির্বাচন ও ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধে ৪ ও ৫ নম্বর সেক্টরের প্রতিনিধি দেওয়ান ফরিদ গাজীর (প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা সম্পন্ন) একান্ত সচিব ছিলেন তিনি।

১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকারের কর্মসূচির অংশ হিসেবে বহির্বিশ্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সমর্থন আদায়ে সচেষ্ট হন নূরুল ইসলাম। বাংলাদেশ সরকারের ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি আবদুস সামাদ আজাদের সফরসঙ্গী হিসেবে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ সফর করেন।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক সাহায্য পাওয়ার জন্য নিজের ইউরোপীয় বন্ধুদের মাধ্যমে ব্যাপক তৎপরতাও চালিয়েছেন তিনি।
১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রবাসীদের কল্যাণের কথা চিন্তা করে প্রবাসী বাঙালি কল্যাণ বোর্ড গঠন করেন। বঙ্গবন্ধুর একজন আস্থাভাজন হিসেবে নূরুল ইসলাম প্রবাসী কল্যাণ বোর্ডের সচিব হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত তিনি এই বোর্ডের সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন