default-image

কিছুদিন আগে বদিউল আলম মজুমদার (সম্পাদক, সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক) লিখেছিলেন, ‘গত ৫ জানুয়ারির সংবিধান রক্ষা নামক নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে “গুডবাই”ও বলে দিয়েছি। ’ আর তাই, রাজপথের বিরোধী ২০ -দলীয় জোট দেশের সিংহভাগ মানুষের মনের চাহিদা ‘গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার রক্ষার্থে গত কোরবানি ঈদের পর থেকে তথাকথিত শান্তিপূর্ণ মিছিল-মিটিং ও সমাবেশ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫ জানুয়ারি (২০১৫) থেকে দেশে শান্তিপূর্ণ গণতন্ত্র রক্ষার কর্মসূচিকে অগণতান্ত্রিক বেষ্টনীতে আবদ্ধ করতে গিয়ে আমাদের দেশের বর্তমান সরকারকে অতিক্রম করতে হচ্ছে অনেকটা পঙ্কিল ও কণ্টকাকীর্ণ পথ। এ পথকে আমরা ক্রান্তিকাল হিসেবে বিবেচনা করলে অত্যুক্তি হবে না এবং অন্যদিকে বাংলাদেশের সিংহভাগ শান্তিকামী জনগণের সঙ্গে আমরা সব নরডিক দেশের প্রবাসী বাংলাদেশি এই শান্তিপূর্ণ গণতন্ত্র রক্ষার কর্মসূচির আওতায় অবরোধ ও হরতালের ছত্রচ্ছায়ায় গিরগিটিসম মানুষের প্রতিহিংসা ও জিঘাংসার রাজনীতিকে সতর্কসংকেত নয়, বরং ভবিষ্যৎ বংশধরদের জন্য আগাম অশনিসংকেত হিসেবে দেখতে শুরু করেছি।
এর সঙ্গে সর্বশেষ আমাদের পবিত্র সংবিধানকে রক্ষার্থে নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে বিশেষ করে ইদানীং সরকারদলীয় উচ্চপদস্থ মানুষের নীতি ও নৈতিকতাবিবর্জিত সভা-সমাবেশের বক্তব্য শুনে বিশেষ করে প্রজাতন্ত্রের পদস্থ কর্মচারীদের রাজনীতিবিদের অনুকরণীয় সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা আনার পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা শুনে মনে হচ্ছে, আমরা হয়তো ‘হীরক রাজার দেশের’ পদাঙ্ক অনুসরণ করতে কুণ্ঠাবোধ করছি না। হয়তো আমরা ভুলতে বসেছি, ‘Right is might’, নতুবা ভাবতে শুরু করেছি ‘Might is right’!
এহেন অস্থিতিশীল রাজনৈতিক রাষ্ট্রব্যবস্থা তথা দুষ্ট রাজনৈতিক চক্রের কশাঘাতে দেশের মানবতা আজ অনেকটাই বিপন্নের পথে? এ রকম পরিস্থিতিতে আমরা সব নরডিক দেশের প্রবাসী বাংলাদেশি দেশের সিংহভাগ শান্তিকামী জনগণের সঙ্গে সহমত পোষণ করি একটি প্রশ্নে, আর তা হলো, সংসদের বাইরের বিরোধী রাজনৈতিক মোর্চা ২০ -দলীয় জোট এবং বিশেষ করে সরকারি দল কি মনেপ্রাণে মেনে নেবে ‘Right is might’। ইতিবাচক উত্তরে মিলবে আশার আলো এবং নেতিবাচক উত্তরে দেশপ্রেমিক সব বাংলাদেশি হবে কিংকর্তব্যবিমূঢ় ৷ ফলাফলে, আমাদের সোনার দেশের নিকট ভবিষ্যৎ গ্রহণ করবে অন্যের গলগ্রহতা। এই বিষয় নিয়ে বড় দুই রাজনৈতিক দলের চিন্তাভাবনা করাটা অত্যাবশ্যকীয় নয় কি?

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষ বিবেচনাযোগ্য বিষয় হলো, ২০০১ সালে যে শিশুগুলো জন্মগ্রহণ করেছিল এখন তারা বয়ঃবৃদ্ধির সন্ধিকাল সময় অতিক্রম করছে। এরা বর্তমান হীরক রাজার দেশের পদাঙ্ক অনুসরণরত সরকারি পদস্থ কর্মচারীদের জন্য হবে বুমেরাং এবং বড় দুই রাজনৈতিক দলের জন্য হবে আত্মঘাতী বোমা। যেমন করে ইসরায়েল নিজ দেশে ও ফিলিস্তিনি শিশুদের তৈরি করে চলেছে ট্রমা নামক আত্মঘাতী বোমা। কেননা, ইসরায়েল, ফিলিস্তিন, ইরাক, সিরিয়া, মিসর, ইয়েমেন কিংবা আমাদের দেশে ২০০১ সালে জন্মগ্রহণ করা শিশুরা বড় হচ্ছে অনেকটা পঙ্কিল, কণ্টকাকীর্ণ ও নীতিবিবর্জিত অসুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশে। যে পরিবেশ তাদের মানসিকতায় সৃষ্টি করতে চলেছে আত্মকেন্দ্রিক নির্ভর প্রতিহিংসাসম ট্রমা। এই ট্রমাই হবে আগামী দিনে আমাদের সোনার দেশের রাজনৈতিক দল তথা দেশের গণতন্ত্র উত্তরণের ক্ষেত্রে বড় বাধা। আমরা আশা পোষণ করি, দেশের সার্বিক উন্নয়নে দুই বড় রাজনৈতিক দল বিশেষ করে সরকারি দল গণতন্ত্রকে মুখমন্ত্রের পথ অনুসরণ না করার মধ্য দিয়ে এই ট্রমা নামক অশনিসংকেতকে প্রতিহত করার সময়োপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এবং দেশের সব শান্তিকামী জনগণসহ বর্তমান পৃথিবীর সব মানুষ আগামী প্রজন্মের সামনে রেখে যাবে এক উজ্জ্বল গণতন্ত্রের দৃষ্টান্ত।
(এই লেখার সঙ্গে অন্য যাঁরা সহমত পোষণ করেছেন তাঁরা হলেন-মো. মঞ্জুরে মওলা, সমাজবিজ্ঞানী ও শিশু গবেষক, ফিনল্যান্ড; হারুনুর রশিদ, বিজনেস ইন্টারপ্রেনর, ফিনল্যান্ড; মজিবর রহমান দফতরি, সমাজবিজ্ঞানী ও শিক্ষা গবেষক, ফিনল্যান্ড; মোহাম্মদ ফয়সাল, সমাজ গবেষক ও প্রধান উপদেষ্টা, বুদ্ধিবৃত্তিক আড্ডা, ডেনমার্ক শাখা এবং বন্ধন সাহা, প্রকৌশলী ও প্রধান উপদেষ্টা, বুদ্ধিবৃত্তিক আড্ডা, সুইডেন শাখা)

বিজ্ঞাপন
দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন