default-image

আমার প্রবাসজীবনের বয়স প্রায় চার বছর। নতুন দেশ, নতুন জীবনধারার সঙ্গে নিজেকে সুন্দর করে মানিয়ে–গুছিয়ে নিচ্ছি। নতুন করে ‘কাজী নজরুল ইসলাম ফাউন্ডেশন, নর্থ আমেরিকা’ নামে এক সংস্থা গঠন করি আমি ও প্রকৌশলী, আবৃত্তিকার জীবনসঙ্গী শাহীন তরফদার। সংস্কৃতির নানা অঙ্গনে, পৃথিবীর নানা প্রান্তে আমার দাদু কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টির প্রচার ও প্রসারের কাজে এ সংগঠনের যাত্রা শুরু করেছি আমরা। তখন হঠাৎ এক ক্ষুদ্র ভাইরাসের দাপটে আমাদের গতিময় ছন্দে চলা জীবনে ঘটল ছন্দপতন। জীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে ক্রমে, এক অজানা ভয় যেন গ্রাস করছে প্রতিনিয়ত। প্রিয়জনদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ভয়। দূর প্রবাসে প্রাণ কাঁদে, আবার দেখা হবে তো প্রিয়জনের সঙ্গে? শিকড় থেকে ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছি কি? গতিহীন জীবনে অখণ্ড অবসরে অতীতের স্মৃতি আঁকড়ে বেঁচে থাকাই একসময় মূল অবলম্বন হয়ে দাঁড়ায়।

প্রবহমান জীবনে উন্নত প্রযুক্তির সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে ভার্চ্যুয়ালি যোগাযোগ স্থাপন শুরু হলো। আড্ডা থেকে বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠতে লাগল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। সেই স্পার্ক, প্রাণ মেজাজ বা আমেজ না থাকলেও, অনেকটা দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানো তো গেল! তাতেই কিছুটা প্রাণের আভাস ও নির্মল আনন্দ খুঁজে পাওয়া। এমনি এক অনুষ্ঠানে অতিথি শিল্পী হয়ে যাওয়ার পর উত্তর আমেরিকার জনপ্রিয় বাংলা চ্যানেল ‘দেশে বিদেশে’ টিভির কর্ণধার নজরুল মিন্টো ভাই ঐ চ্যানেলে একটি অনুষ্ঠান করার উৎসাহ ও অনুরোধ জানালেন। আমার অতীতের অমূল্য স্মৃতি সঙ্গে নিয়ে নতুন বছরে (২০২১) জানুয়ারি মাস থেকে প্রতি শুক্রবার, শনিবার, রোববার নিউ জার্সি, নিউইয়র্ক, টরন্টো টাইম সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ‘অনিন্দিতার আমন্ত্রণে’ অনুষ্ঠান শুরু করলাম। ধন্যবাদ ‘দেশে বিদেশে’ টিভির পুরো টিমকে তাদের সহযোগিতার জন্য।

বিজ্ঞাপন

প্রযুক্তির ক্যারিশমায়, আমার নিউ জার্সির বাড়িতেই প্রয়োজনীয় লাইট-সাউন্ড-ব্যাকড্রপ দিয়ে অসাধারণ এক স্টুডিও তৈরি করে দিলেন শাহীন। চার বছর আগে শক্ত করে আমার হাত ধরে, পাশে থেকে প্রবাসজীবনে সব কাজে উৎসাহ, সাহায্য ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে রেখেছেন সব সময়। যাঁকে ছাড়া পৃথিবীর নানা প্রান্তে, এত সহজে আমাদের প্রিয় অতিথি বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, গান, কবিতা, গল্প নিয়ে পৌঁছে যেতে পারতাম না। শ্রাবনী সেন, জগন্নাথ বসু-ঊর্মিমালা বসু, শ্রাবন্তী মজুমদার, সুছন্দা ঘোষ, প্রবুদ্ধ রাহা, দেবাশিস রায় চৌধুরী, রোহিনী রায় চৌধুরী, সুস্মিতা গোস্বামী, অলোক চৌধুরী, শ্রেয়া গুহ ঠাকুরতা, দেবাঙ্গনা সরকার, কবি সুবোধ সরকার, বীথি চট্টোপাধ্যায়, শঙ্করলাল ভট্টাচার্য-ইন্দ্রানী ভট্টাচার্য, শোভনসুন্দর বসু-অদিতি বসু রায়, দীপান্বিতা আচার্য, শান্তনু রায় চৌধুরী, সুজয়প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়, শুভ্রকান্তি চট্টোপাধ্যায়, রাজীব গুপ্ত-ঝিনুক গুপ্ত, কনসাল জেনারেল অব বাংলাদেশ ইন নিউইয়র্কসহ আরও বিশিষ্ট অতিথিরা এসেছেন অনিন্দিতার আমন্ত্রণে।

সবার শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা নিয়ে এই অনুষ্ঠানের পরিচিতি ও সাফল্য উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাক, এই কামনাই করি। বদলে যাওয়া নতুন জীবনে এভাবেই ‘অনিন্দিতার আমন্ত্রণে’ সেতুবন্ধন ঘটাক বিশ্বময়, শিকড়ের সঙ্গে ঘটুক সংযোগ।

লেখক: অনিন্দিতা কাজী, নিউ জার্সি, আমেরিকা

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন