default-image

ফিলিপাইনের কালাম্বা শহরের হোসে রিজাল জাদুঘরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ফিলিপিনো জাতীয় বীর ডা. হোসে রিজালের যৌথ কাঠের প্রতিকৃতি সংবলিত একটি শিল্পকর্ম উন্মোচন করা হয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপনের অংশ হিসেবে ফিলিপিনো শিল্পী নিকোলাস পি আকা জুনিয়রের খোদাই করা শিল্পকর্মটি ফিলিপাইনের বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে রিজাল জাদুঘরে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়।

আজ বুধবার (২১ এপ্রিল) সকালে রিজাল জাদুঘরে শিল্পকর্মটি উদ্বোধন করেন ফিলিপাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম এবং হোসে রিজাল জাদুঘরের কিউরেটর জারাহ এসকুয়েতা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে কালাম্বা সিটি কাউন্সিল, ফিলিপাইন জাতীয় ইতিহাস কমিশন, ফিলিপাইন তথ্য সংস্থা, ফিলিপাইন পর্যটন ও ক্রীড়া উন্নয়ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় স্বাস্থ্য নির্দেশনা এবং অবশ্যপালনীয় সব স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক যথাযথ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

কাঠের ওপর করা খোদাই কর্মটিতে (Engraving) জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ফিলিপাইনের জাতীয় বীর ডা. হোসে রিজালের প্রতিকৃতি রয়েছে। খোদাই কর্মটিতে এই মহান দুই নেতার পোর্ট্রেটের পাশাপাশি লাল রঙের আবহ মানুষ ও জনগণের জন্য এই দুই নেতার আত্মোৎসর্গকে প্রতিফলিত করে বলে শিল্পী নিকোলাস জানিয়েছেন। ২০১৮ সালে এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করার উদ্দেশে তিনি বাংলাদেশ সফর করেন। সে সময় বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ভ্রমণ করার পর হোসে রিজাল ও বঙ্গবন্ধুর জীবনের মধ্যে তিনি সাদৃশ্য খুঁজে পান, যা তাঁকে এই শিল্পকর্ম সৃষ্টির অনুপ্রেরণা দিয়েছে।

রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংগ্রামী জীবন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামে তাঁর অবিস্মরণীয় অবদানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও হোসে রিজাল বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের মহান দুই নেতা, যাঁরা ইতিহাসের সম্পূর্ণ ভিন্ন সময়ে এবং ভিন্ন প্রেক্ষাপট থেকে নিজ দেশের জনগণকে পরাধীনতা থেকে মুক্তির স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন এবং তাঁদের অতুলনীয় দূরদর্শী নেতৃত্বেই দেশ দুটি মুক্তির সোপান বেয়ে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তি পায়। শিল্পকর্মটি গ্রহণের জন্য তিনি ফিলিপাইন জাতীয় ইতিহাস কমিশন এবং রিজাল জাদুঘরকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে শিল্পকর্মটি দর্শনার্থীদের দুই দেশের মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস ও সেই স্বপ্নযাত্রায় এই দুই মহান নেতার আত্মত্যাগের মধ্যে যে অবিশ্বাস্য সাদৃশ্য রয়েছে, তা তুলে ধরবে।

বিজ্ঞাপন

জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপনে রিজাল জাদুঘরকে অংশীদার করার জন্য দূতাবাসকে ধন্যবাদ জানান জাদুঘরের কিউরেটর জারাহ এসকুয়েতা। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবন এবং আদর্শ জাদুঘরের সব দর্শনার্থীকে অনুপ্রাণিত করবে এবং তাঁরা তাঁর জীবন ও আদর্শের প্রতি আরও আগ্রহী হয়ে উঠবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে বঙ্গবন্ধুর জীবনদর্শন এবং মানুষের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসা ও আত্মত্যাগ তাঁকে ফিলিপাইনসহ সারা বিশ্বের শান্তি ও স্বাধীনতার প্রতীক করে তুলেছে।
এ শিল্পকর্ম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রিজাল জাদুঘরে জাতির জনকের ওপর দুই মাসব্যাপী এক প্রদর্শনী শুরু হয়েছে, যেখানে এ শিল্পকর্মের পাশাপাশি জাতির জনকের আত্মজীবনী, তাঁর ওপর রচিত বিখ্যাত কিছু বই, ঐতিহাসিক ছবিসহ অন্যান্য চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হবে। প্রদর্শনী শেষে শিল্পকর্মটি দূতাবাসের উপহার হিসেবে জাদুঘরের স্থায়ী সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত হবে। বিজ্ঞপ্তি

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন