default-image

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্মদিন এবার শুক্রবার হওয়ায় তেহরানের বাংলাদেশ দূতাবাস ছিল প্রবাসীদের পদচারণায় মুখরিত। শিশুদের জন্য এ দিন দূতাবাস চত্বর ছিল ছোটখাটো একটি শিশু পার্ক। তাঁরা সারা দিন ছবি আঁকার পাশাপাশি খেলাধুলা আর হইচই করে কাটিয়েছে। এখানেই ছিল অনুষ্ঠানের মূল সার্থকতা। তেহরানে বসবাসরত বাংলাদেশি শিশুরা এদিন দারুণ সব ছবির পসরা সাজিয়ে বসেছিল।

পাহাড়, মরুভূমি আর তুষারের দেশে বসবাস করেও সবুজ, শ্যামল, নদীমাতৃক প্রিয় সোনার বাংলাকে তাঁরা ভুলে যায়নি, সেটা তারা তাদের রং তুলির ছোঁয়ায় বুঝিয়ে দিয়েছে। অনুষ্ঠানের পুরস্কার বিতরণী পর্বে শিশুরাই ছিল মঞ্চের প্রথম দুই সারিতে। বাবা-মা ও আগত সকল অতিথি পেছনের সারিতে বসে বিপুল করতালির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উৎসাহিত করেছেন। কেননা এরাই হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর আলোকিত বাংলাদেশ গড়ার মূল কারিগর। খুদে আঁকিয়েদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার অর্জন করে যথাক্রমে এম আব্দুল্লাহ, ফাইরুজ সামিহা ও ফারজানা।

default-image

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, প্রামাণ্য ভিডিওচিত্র প্রদর্শনী ও শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা উপলক্ষে তেহরানের বাংলাদেশ দূতাবাসে জমজমাট এক জন্মদিন উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। দূতালয় প্রধান এ টি এম মোনেমুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক প্রেরিত বাণী পাঠ করে শোনানো হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইরানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এ কে এম মজিবুর রহমান ভূঁইয়া।
আলোচনা পর্বে লেখকসহ বক্তব্য দেন বাংলাদেশ দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর মো. সবুর হোসেন, রেডিও তেহরানের সিনিয়র সাংবাদিক গাজি আব্দুর রশিদ ও দূতাবাস কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ। বক্তব্য পর্বে প্রায় সকলেই বঙ্গবন্ধুর কাঙ্ক্ষিত সোনার বাংলার সারথি হিসেবে বর্তমান শিশু-কিশোরদের বঙ্গবন্ধুর জীবন ও আদর্শ থেকে শিশুদের শোনানোর জন্য পিতামাতার প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান।

default-image

সভাপতির বক্তব্যে এ কে এম মজিবুর রহমান ভূঁইয়া আজকের শিশুদের ভবিষ্যতের নায়ক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, প্রবাসে নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বাবা-মায়ের উচিত সন্তানদের শুদ্ধ বাংলা বলা, পড়া ও লেখার ক্ষেত্রে সাহায্য করা। তাহলেই শিশুরা বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবন, তাঁর স্বপ্ন, বাংলাদেশের ভাষা, সাহিত্য, ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে এবং একটি উন্নত জাতি হিসেবে নিজেদের বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে। আর এভাবেই এগিয়ে যাবে বঙ্গবন্ধুর প্রিয় সোনার বাংলা।

লেখক সহকারী অধ্যাপক, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে পিএইচডি গবেষক, তারবিয়্যাত মোদাররেস বিশ্ববিদ্যালয়, তেহরান, ইরান।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন