default-image

সাত সকালে দরজা খুলে দেখি জাহিদ।
বলল, লেকে মাছ ধরবি৷
মানে কী?
আগে চল, তারপর দেখবি।
শীতকালটা এখানে অসহ্য লাগে। অথচ দেশে আমার প্রিয় সময় ছিল শীতকাল। সকালে ভাপা পিঠা। দুপুরে তাজা শাকসবজি। রাতে লেপ মুড়ি দিয়ে ঘুম।
কানাডা এখন বরফের চাদরে ঢাকা। ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বেশ বিরক্ত লাগে। কয়েকটা স্তরের কাপড়ের ওপর বিশাল জ্যাকেট গায়ে চাপালে নিজেকে নভোচারী মনে হয়।
লেকের কাছে পৌঁছালাম ঘণ্টা খানেক ড্রাইভ করে। ও মা এ কী! পানি কোথায়। যত দূর চোখ যায় শুধু বরফ আর বরফ। কে বলবে এটা লেক। মনে হচ্ছে বিশাল প্রান্তর। পাথর ছুড়লাম একটা। টেনিস বলের মতো লাফিয়ে লাফিয়ে চলে গেল জমাট লেকের ওপর দিয়ে।
জাহিদ বলল, চল নামি।
নেমে ভেঙে পড়ি আর কি।
ভাঙবে না।
জাহিদ বরফের ওপর দিয়ে হেঁটে গেল প্রায় ফুট বিশেক। আমি তীরে দাঁড়িয়ে। ভরসা পাচ্ছি না।
সে এবার খুনতির মতো একটা জিনিস দিয়ে বরফের মধ্যে গর্ত করতে লাগল।
ভয় নেই। ছয় ইঞ্চি। ইচ্ছে হলে গাড়িও চালাতে পারবি। বলল জাহিদ৷
আস্তে করে নেমে পড়লাম। ভেঙে না পড়লেও পা পিছলে যেতে পারে।

default-image


বছরের এ সময়টায় সাধারণত ছয় থেকে আট ইঞ্চি বরফ হয়ে যায় লেকের পানি। বিজ্ঞের মতো বলে যায় জাহিদ। কমপক্ষে চার ইঞ্চি বরফ হাঁটা চলার জন্য নিরাপদ। আর লেকের জমাট বরফের ওপর দিয়ে গাড়ি চালাতে চাইলে লাগবে আট ইঞ্চি।
আমি বললাম, তো এখানে মাছ ধরবি কীভাবে?
জাহিদ বলল, তুই এখানে থাক। আমি গা​িড় থেকে জিনিসপত্র নিয়ে আসছি। গািড়র দিকে হাঁটা দিল ও। অথৈ বরফের সাগরে যেখানে আমি দাঁড়িয়ে, সেখানে গভীরতা প্রায় ১০০ ফুট। পায়ের নিচে মাত্র ছয় ইঞ্চি বরফের চাঁই।
কয়েকটা পাখি লেকের ওপর উড়ছে। বরফের ওপর সূর্যের আলোর প্রতিফলন আমাকে নিয়ে গেল এক অচেনা জগতে। অন্য কোনো পৃথিবীতে।
দুই হাতে ব্যাগ আর কাঁধে মস্ত বোঝা নিয়ে ফিরে এল জাহিদ। ছোটখাটো একটা তাঁবু খাটিয়ে ফেল­ মিনিট দশেকের মধ্যে। তাঁবুর ভেতরে হিটারও চালিয়ে দিল।
আবার শুরু হলো খুনতি দিয়ে বরফ খোঁড়াখুঁড়ি। তিন-চারটে গর্ত খোঁড়া হলো। ছিপ ছাড়া শুধু সুতার মাথায় বাঁধা বড়শিতে টোপ লাগিয়ে ছেড়ে দেওয়া হলো সেই গর্তে। আইস ফিশিং।
ফ্লাস্কে করে কফিও নিয়ে এসেছে জাহিদ। সিগারেট আর কফি হাতে শুরু অপেক্ষার পালা।
ঘণ্টা চারেক পর সূর্য তখন ডুবি ডুবি করছে। গোটা ১২ মাছ নিয়ে গা​িড়তে ফিরে এলাম। অন্য সময় হলে মাছগুলো ছেড়ে দিতাম হয়তো। ফ্রোজেন ​িফশ খেতে খেতে অরুচি ধরে গেছে। সামার আসতে অনেক দে​ির। তাজা ​িফশ ফ্রাই খাওয়ার ইচ্ছেটাই জয়ী হলো সেদিন৷
শামীম শহীদ
ওন্টারিও, কানাডা

বিজ্ঞাপন
দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন