ইস্তাম্বুলে জাতির জনকের জন্মদিন উদযাপন

বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে বঙ্গবন্ধু অবিসংবাদিত নাম

বিজ্ঞাপন
default-image

‘বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন, শিশুর জীবন করো রঙিন’ প্রতিপাদ্য নিয়ে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে যথাযোগ্য মর্যাদা ও আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে উদ্‌যাপন করা হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস। দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির প্রথম দিন ১৭ মার্চ রোববার ইস্তাম্বুলের বাংলাদেশ কনস্যুলেটে এবং দ্বিতীয় দিন ১৮ মার্চ সোমবার ইস্তাম্বুলের ২৯ মাইজ বিশ্ববিদ্যালয়ে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। ইস্তাম্বুলের বাংলাদেশ কনস্যুলেট অনুষ্ঠান দুটি আয়োজন করে।

২৯ মাইজ বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন মাইকেল অ্যাঞ্জেলো গিডা, ইস্তাম্বুলে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী পরিষদের প্রেসিডেন্ট ও ইউক্রেনের নাগরিক মিস এলমাজ খালিলোভা স্বাগত বক্তব্য দেন।

এলমাজ খালিলোভা স্বাগত বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, বাঙালি জাতির মহানায়কের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে তিনি আনন্দিত ও গর্বিত।

মাইকেল অ্যাঞ্জেলো গিডা তাঁর বক্তব্যে আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও তুরস্কের জনগণের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক ও বোঝাপড়া আরও দৃঢ় ও সুসংহত হবে। তিনি কনস্যুলেটের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

default-image

মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জাতির জনকের কীর্তিময় জীবন ও কর্মের ওপর আলোকপাত করতে গিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধুর সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ রচিত হয়েছে। নজিরবিহীন আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের কারণে বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বের কাছে বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠেন বৈষম্য, নিপীড়ন ও শোষণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এক উজ্জ্বল প্রতীক। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে তাঁর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি বাংলাদেশকে আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক অনন্য উচ্চতায় আসীন করেছেন। বাঙালি জাতি আজ গোটা বিশ্বে আত্মমর্যাদার সঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

শিশুদের প্রতি বঙ্গবন্ধুর ভালোবাসা ও দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এ দিবসটি উদযাপনের মাধ্যমে শিশুরা বঙ্গবন্ধুর জীবন, কর্ম ও আদর্শ সম্পর্কে জানতে পারবে। আজকের শিশুরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বেড়ে উঠবে এবং আগামীর বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে তরুণদের বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক যোগাযোগ ও ভাবের আদান-প্রদানের ওপর বিশেষ জোর দেন।

default-image

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে আতা ওরতাওকুলু বিদ্যালয়ের তুর্কি খুদে শিক্ষার্থী ও ইস্তাম্বুলের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গান, পুঁথিপাঠ ও কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে একটি আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানে কনসাল বিদোষ চন্দ্র বর্মণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, ইস্তাম্বুলের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, আতা ওরতাওকুলু বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ইস্তাম্বুলের সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, গণমাধ্যম কর্মী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ১৭ মার্চ রোববার বাংলাদেশ কনস্যুলেটে মিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে দিবসটি উদযাপন করা হয়। মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের পর তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া করা হয়। পরে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের ওপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের পর দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।

default-image

সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবন, শিশুর প্রতি বঙ্গবন্ধুর ভালোবাসা ও শিশু অধিকার সম্পর্কে বলতে গিয়ে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে বঙ্গবন্ধু একটি অবিসংবাদিত নাম। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস চর্চার মাধ্যমে শিশুদের বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানাতে হবে। শিশু অধিকার বিষয়ে সরকারের গৃহীত নীতি, আইন ও পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বর্তমান সরকার বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিশুদের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় শিশু নীতি ২০১১, শিশু আইন ২০১৩ ও বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ প্রণয়ন করা হয়েছে। পথশিশুদের পুনর্বাসন ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। প্রসঙ্গক্রমে তিনি আগামী বছরে কনস্যুলেট কর্তৃক বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের একটি রূপরেখা তুলে ধরে তা সফল করার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের সর্বাত্মক সহযোগিতা আশা করেন। তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের উন্নয়নে কাজ করে বাংলাদেশের অপ্রতিরোধ্য উন্নয়নযাত্রা অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ জানান। বিজ্ঞপ্তি

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন