default-image

বিভিন্ন দেশে অর্থনীতিকে প্রাধান্য দিয়ে অভিবাসন (ইমিগ্রেশন) নীতি প্রণীত হলেও আমেরিকায় বরাবরই রাজনীতি অভিবাসনকে নিয়ন্ত্রণ করেছে। ফলে বিশ্বের বৃহৎ অর্থনীতির এই দেশে সুষম একটি অভিবাসন প্রক্রিয়া গড়ে ওঠেনি। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই আমেরিকান বিশেষজ্ঞ এই মতামত দিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রস্তাবিত সংস্কার উদ্যোগ আমেরিকার অভিবাসনকে খানিকটা হলেও সহজ করবে।

কানাডার বাংলা পত্রিকা ‘নতুনদেশ’–এর প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগরের সঞ্চালনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত শওগাত আলী সাগর লাইভ অনুষ্ঠানে আলোচনায় তাঁরা এই মতামত দেন। আলোচনায় অংশ নেন টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটির রাজনীতিবিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং ইমিগ্রেশন–বিষয়ক গবেষক ড. মেহনাজ মোমেন এবং নিউইয়র্কের ইমিগ্রেশন এটর্নি মৌমিতা রহমান। টরন্টো সময় বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি এই আলোচনা সম্প্রচারিত হয়।

ড. মেহনাজ মোমেন তাঁর আলোচনায় বলেন, কানাডা বা অস্ট্রেলিয়ায় অর্থনীতি পুনরুজ্জীবনের অংশ হিসেবে অভিবাসন নীতিমালা সাজানো হয়। কিন্তু আমেরিকার অভিবাসন নীতিমালা সে রকম নয়। এখানে অভিবাসনকে রাজনীতির একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তিনি বলেন, গত এক বা দুই দশকে আমেরিকার অভিবাসন একটি সাংস্কৃতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। অভিবাসীদের পছন্দ করা বা না করা কেন্দ্র করে নতুন এক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সংস্কারের প্রস্তাবনাকে অভিবাসনের নানা বাধা দূর করে অভিবাসনকে সহজ করার পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। তিনি বলেন, পরিপূর্ণভাবে এই প্রস্তাবনাকে আইনে পরিণত করতে দুই কক্ষেই এটি পাস হতে হবে। সে ক্ষেত্রে সিনেটে রিপাবলিকানদের বাধার মুখে পড়ার সম্ভাবনা আছে। তবে প্রেসিডেন্ট বাইডেন আলাদা আলাদা পদক্ষেপ হিসেবে তাঁর পরিকল্পনা কার্যকর করতে চান। সেটি করতে হয়েতো তাঁকে বেগ পেতে হবে না। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাঁর অভিবাসন সংস্কার প্রস্তাবনায় ‘আনডকুমেন্টেড’ শব্দের বদলে ‘নন সিটিজেন’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। এটি কিন্তু তাঁর নীতিমালার গুরুত্বপূর্ণ একটি ইঙ্গিত। অভিবাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রশাসনের জন্য এই বার্তা অনেক প্রশাসনিক ইন্টারপ্রিটেশনকে বদলে দেবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, আমেরিকায় যখন যাঁরা ক্ষমতায় থাকেন, তাঁরাই তাঁদের পছন্দের বা অপছন্দের দেশের লোকদের আসার পথ সহজ বা কঠিন করার লক্ষ্য নিয়ে অভিবাসনসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বা নীতিমালা গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, আমেরিকার অভিবাসন দক্ষ জনশক্তির প্রতি সহানুভূতিশীল হলেও অদক্ষদের বেলায় খুবই রূঢ়।

আবার অর্থনীতির প্রয়োজনেই প্রতিবেশী দেশ থেকে লোক আসার পথ বন্ধ করেও দেয় না। এসব কারণেই আমেরিকায় আনডকুমেন্টেড জনগোষ্ঠী এত বেশি। তিনি আমেরিকার অভিবাসনকে অর্থনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে ঢেলে সাজানোর পরামর্শ দেন।

নিউইয়র্কের ইমিগ্রেশন এটর্নি মৌমিতা রহমানও আমেরিকার অভিবাসনপদ্ধতি অতিমাত্রায় রাজনীতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত বলে মত দেন। তিনি বলেন, অভিবাসনসংক্রান্ত প্রতিটি আইনই হয়েছে রাজনীতির কারণে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের জন্য।

অপছন্দের লোকদের আমেরিকার বাইরে রাখার লক্ষ্য নিয়েই দেশটির অভিবাসন নীতি ও কাঠামো সাজানো হয়। মৌমিতা রহমান আরও বলেন, আমেরিকায় সব সময়ই অভিবাসনবিরোধী মনোভাব ছিল। গত চার বছরে তা অনেক বেড়েছে।

অভিবাসনবিরোধী মনোভাবের কারণে এ সময়ে বিশ্বের অনেক দেশে আমেরিকা কনস্যুলার সেবা, ভিসা দেওয়াসংক্রান্ত কাজকর্ম গুটিয়ে ফেলেছে। বিভিন্ন দেশ থেকে আমেরিকায় লোক আসা নিয়ন্ত্রণ করতে ট্রাম্প প্রশাসন এসব করেছে।

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন