default-image

সিঙ্গাপুরে নবনিযুক্ত বাংলাদেশি হাইকমিশনারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অব সিঙ্গাপুরের (বিডিচ্যাম) সদস্যরা। গত সোমবার (২৫ জানুয়ারি) সিঙ্গাপুরের বিডিচ্যাম অফিসে অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে এ সাক্ষাৎ হয়।

বিডিচ্যামের পক্ষ থেকে সভাপতি এম এ রাহিম, সহসভাপতি নুরুল ইসলাম মনি, সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হাসান, কোষাধ্যক্ষ হাবীবুল্লাহ পাটোয়ারী, যুগ্ম সম্পাদক আমানুল ইসলাম আমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সায়েম আজাদ, কাউন্সিল মেম্বার খোরশেদ এলাম চৌধুরী, আজাহারুল ইসলাম, শামসুর রহমান ফিলিপ, আসাদ মামুন, সিরাজুল ইসলাম, সিইও অগ্রণী এক্সচেঞ্জ-আবু সুজা মো. শরিফুল ইসলাম ও বিডিচ্যামের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সিঙ্গাপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশনার তৌহিদুল ইসলাম, লেবার কাউন্সিলর আতাউর রহমান, কাউন্সিলর তৌফিকুর রহমান, কাউন্সিলর এ কে এম আজম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

সভাপতি এম এ রাহিম বিডিচ্যামের কিছু ইতিহাস এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি প্রবাসে বাংলাদেশের অভিভাবক হিসেবে হাইকমিশনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি আরও জানান, বিডিচ্যামের সদস্যরা কিছু সমস্যায় ভুগছেন এবং তার সমাধানে বাংলাদেশ হাইকমিশনারের সহায়তা চান। তিনি নতুন হাইকমিশনারের কাছ থেকে যে যে সহায়তা চান তা হলো—

১.
আইপিএ সত্যায়ন: সিঙ্গাপুরে শুধু বাংলাদেশি কর্মীদের আইপিএ সত্যায়িত করতে হয়, যা চাকরিদাতাদের জন্য অনেক ভোগান্তির। সিঙ্গাপুরে অন্য দেশের শ্রমিকদের এই ভোগান্তি নেই বলে চাকরিদাতারা বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এটা যেমন অতিরিক্ত ভোগান্তি, তেমনি এটার ফি এবং এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে কর্মী নিয়োগে বিলম্ব হওয়ায় বাংলাদেশ ক্ষতির মুখে পড়ছে বলে তিনি মনে করেন।
২.
কর্মচারী নিয়োগের অনুপাত: কর্মী নিয়োগে আগে ৬ জন সিঙ্গাপুরিয়ান নিয়োগে ১ জন প্রবাসী কর্মী নিয়োগ করা যেত, যা এখন ৯ জনে উন্নীত করা হয়েছে। এটা বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ক্ষতির মুখে ফেলবে। হাইকমিশনারকে এই বিষয়ে সিঙ্গাপুরের সরকারের সঙ্গে সমঝোতায় এসে আগের ৬:১–এ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।
৩.
বাংলাদেশের জন্য এনটিএস এ কর্মচারী কোটা: নন-ট্র্যাডিশনাল সোর্স এ বাংলাদেশি কর্মীদের কোটা বেশি রাখার জন্য অনুরোধ করেন। সিঙ্গাপুর বাংলাদেশ থেকে অল্প খরচে ভালো কর্মী নিতে পারে এটা সিঙ্গাপুরের জন্য অনেক লাভজনক।

৪.
সিঙ্গাপুরের পিআর ও নাগরিক সুবিধা: বেশ কয়েক বছর থেকে সিঙ্গাপুরে নতুন করে বাংলাদেশিদের পিআরও নাগরিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না। এটা সত্যি খুবই দুঃখজনক। সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশিদের আরও ব্যবসা ও সহযোগিতা বাড়াতে সিঙ্গাপুর সরকারের উচিত অন্য দেশগুলোর সঙ্গে সঙ্গে সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশিদের নতুন করে পিআরও নাগরিক সুবিধার প্রক্রিয়া সহজ করা। আশা করি হাইকমিশনার এ বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে এর একটি সমাধানের পথ বের করবেন বলে তিনি আশা করেন।
৫.
বাংলাদেশি কৃষি খাদ্য সিঙ্গাপুরে আমদানি: সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশি কৃষি খাদ্য দ্রব্যের প্রচুর চাহিদা হয়েছে। আমদানি-রপ্তানিতে দুই দেশের সহায়ক ভূমিকা থাকলে বাংলাদেশ থেকে এর বড় জোগান দেওয়া সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
৬.
বিডিচ্যাম সদস্যদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ: সম্প্রতি বিডিচ্যামের একজন সদস্য ও সাবেক সভাপতি সাহেদুজ্জামান বাংলাদেশে একটি চার তারকা হোটেল স্থাপন করেছেন। আরেকজন সদস্য আমানুল ইসলাম বাংলাদেশে একটি হাসপাতাল স্থাপন করেছেন। বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা থাকলে এ রকম আরও অনেক বিনিয়োগ চলমান থাকবে বলে আশা করেন।

বিজ্ঞাপন

৭.
হলুদ সাংবাদিকতা: সিঙ্গাপুরে হলুদ সাংবাদিকতা ও ভুল তথ্য উপস্থাপন বন্ধের জন্য বাংলাদেশি হাইকমিশনারের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। সিঙ্গাপুরে একটি বাংলাদেশি পত্রিকা সাম্প্রতিক সময়ে কিছু নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করেছে, যা বিডিচ্যাম সদস্যদের ও বাংলাদেশের সম্মান নষ্ট হয়েছে। এ ধরনের হলুদ সাংবাদিকতা বন্ধ করতে এবং বাংলাদেশকে বিদেশের মাটিতে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলতে বাংলাদেশ হাইকমিশনারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

৮.
সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের এনআরবি (নন–রেসিডেন্ট অব বাংলাদেশ) কার্ড চালু করতে সহযোগিতা কামনা করেন।
৯.
বাংলাদেশিদের জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্ট কার্ড প্রদান: সিঙ্গাপুর বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে সিঙ্গাপুরে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্ট কার্ড প্রদান করতে তিনি বাংলাদেশ হাইকমিশনকে আহ্বান জানান।
১০.
ব্যবসায়িক সুসম্পর্ক: সিঙ্গাপুরের সরকার ও সিঙ্গাপুরের অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা আশা করেন।

এই সময় এম এ রাহিম নতুন কিছু উদ্যোগের কথাও জানান, যা কোভিডের পর বিডিচ্যাম শুরু করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। যেমন—

১.
সিঙ্গাপুরে বাণিজ্য মেলা
২.
বিডিচ্যাম বিজনেস ম্যাগাজিন
৩.
বিডিচ্যাম ব্যবসায়িক পুরস্কার

নবনিযুক্ত হাইকমিশনার তৌহিদুল ইসলাম সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের দেশ ও সম্প্রদায়ের জন্য সব অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি জানান, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যেমন এগিয়ে যাচ্ছে তেমনি বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশিদের সুনামও বাড়ছে। এর সঙ্গে বাংলাদেশে বিদেশিদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ বিনিয়োগ বাড়ছে। আর এ জন্য তিনি বিডিচ্যামের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।

হাইকমিশনার জানান, সিঙ্গাপুর বর্তমানে বাংলাদেশে তৃতীয় বৃহত্তর বিনিয়োগ দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, যা আপনাদের সবার কাজের সফলতা বলে তিনি বিশ্বাস করেন। আইপিএ সত্যায়ন বিষয়ে তিনি জানান, এটা আপনাদের কাছে অতিরিক্ত কাজ মনে হলেও এটার সুফল অনেক ভালো এবং খুবই কার্যকরী। আইপিএ সত্যায়নের প্রক্রিয়া বাংলাদেশ প্রবাসী কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা বিশ্বের সব দেশের বাংলাদেশ হাইকমিশনকে কার্যকর করতে বলা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে এটি ম্যানুয়াল হলেও ভবিষ্যতে অনলাইন করা যাবে বলে তিনি জানিয়েছেন ।

পরিশেষে বিডিচ্যামের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান সবাইকে ধন্যবাদ দিয়ে আপ্যায়নের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

মন্তব্য করুন