বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

আমি নিপার কথা শুনে ভ্রু কুঁচকে আরও কিছুক্ষণ নিপার দিকে তাকিয়ে রইলাম।
-তুমি আমার দিকে এভাবে তাকিয়ে আছ কেন?
-নিপা শোনো, কিছু মনে করো না। তোমাকে একটা কথা বলি। তোমার সঙ্গে এতক্ষণ কথা বলে আমার কেন জানি মনে হচ্ছে, তোমার মাথায় কিঞ্চিৎ সমস্যা আছে। আমার ধারণা, তোমার একজন সাইকিয়াট্রিস্ট দেখান উচিত।
-কি বললা? আমি সাইকিয়াট্রিস্ট দেখাব? তার মানে তুমি বলতে চাও আমি পাগল? বদমাশ ব্যাটা, আজ রাতে তোর ফুর্তি করা হবে না বলে তুই এখন আমারে পাগল বললি? শালা ধর্ষক। তোর মতো মানুষকে গুলি করে মারা উচিত।
নিপার উত্তেজিত চেহারা দেখে ভয় পেয়ে গেলাম। দেখে মনে হলো যেকোনো সময় মাইর শুরু করে দিতে পারে। না, বাসররাতে স্ত্রীর হাতে মাইর খাওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। তাই নিপাকে শান্ত করতে দ্রুত বলে উঠলাম।
-নিপা শোনো, আমার আসলে বুঝতে একটু ভুল হয়েছে। যার কারণে প্রথমে আমি লুডু খেলার গুরুত্বটা বুঝে উঠতে পারিনি। কিন্তু এখন আমি এর গুরুত্বটা বুঝতে পারছি। লুডু খেলা আসলেই খুবই জরুরি একটা খেলা। বাসররাতে লুডু খেলার চেয়ে রোমান্টিক আর কোনো কিছু হতেই পারে না। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে বাসায় তো এখন লুডু নাই। তাহলে খেলবে কী করে?
-বাসায় নাই তো কী হয়েছে? যাও দোকান থেকে কিনে আনো।
-এখন রাত বাজে দেড় টা। এলাকার সব দোকান হয়তো এতক্ষণে বন্ধ হয়ে গেছে।
-শোনো, তুমি কোথা থেকে আনবে, সেটা আমি জানি না। আমি লুডু চাই। লুডু না পেলে আজ তোমার বাসায় ফেরার দরকার নাই।

হে আল্লাহ, এ আমি কারে বিয়ে করলাম। এ দেখি বদ্ধ উন্মাদ।
লুডু কিনতে বাসা থেকে বের হতে যাব, তখন ভাবি মুচকি হেসে বললেন,
-কী ব্যাপার, বউরে একা রেখে এখন কোথায় যাও?
-দোকানে। একটা জিনিস কিনতে হবে।
-হি হি হি…। বুঝছি, শোনো তোমার বাইরে যেতে হবে না। ওই জিনিস তোমার ভাইয়ের স্টকে আছে। দাঁড়াও এনে দিচ্ছি।
-ম্যাডাম, আপনি এ তো বেশি বুইঝেন না। আমি ওই সব কিনতে যাচ্ছি না। আমি দোকানে যাচ্ছি লুডু কিনতে।
-লুডু? লুডু দিয়ে কী করবা?
-খেলব। নতুন বউ বলেছে, আজ সারা রাত সে আমার সঙ্গে লুডু খেলবে। সে বলেছে, বাসররাত নাকি লুডু খেলার রাত। এ রাতে লুডু খেলা ছাড়া আর নাকি কিছুই করা যাবে না।
আমার কথা শুনে ভাবির মুখ হা হয়ে গেল। আমি ভাবির অবাক করা মুখকে পেছনে ফেলে বাসা থেকে বেরিয়ে এলাম।

default-image

ভাগ্য ভালো মহল্লার এক দোকানেই লুডু পেয়ে গেলাম। লুডু নিয়ে বাসরঘরে ঢুকতেই নিপা বলল,
-জানো, লুডু খেলতে হয় চারজন মিলে। তাহলে বেশি মজা। দুজনে খেলে আসলে তেমন কোনো মজা পাওয়া যাবে না।
-তাই? তাহলে এক কাজ করি, রাস্তা থেকে দুটো লোক ধরে নিয়ে আসি?
-তুমি কি আমার সাথে ফান করার চেষ্টা করছ? করবে না। আমি ফান পছন্দ করি না।
-তুমি না একটু আগে বললে, আমি তোমার দুলাভাই। তাই একটু মজা করলাম।
-মজা করলে আমি করব। তুমি থাকবে গুরু গম্ভীর। স্বামীরা হবে ব্যক্তিত্বসম্পন্ন। ছ্যাবলা স্বামী আমার পছন্দ না। যাও আব্বা-আম্মাকে ডেকে নিয়ে আসো। আজ পুরাতন স্বামী-স্ত্রী আর নতুন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে লুডু প্রতিযোগিতা হবে। দেখি কে জেতে।
-কী বললা! আমার বাসরঘরে, আমি আমার বাবা-মাকে ডেকে আনব?
-হ্যাঁ আনবে। কেন, কোনো সমস্যা আছে?

বলেই নিপা কঠোর চোখে আমার দিকে তাকাল। আমি বাধ্য হয়ে বাবা-মাকে ডেকে আনলাম। বাবা-মা আসতে চাননি। আমি জোর করে তাদের নিয়ে এলাম। প্রথম প্রথম বাবা-মা অস্বস্তিতে ছিলেন। কিন্তু একটু পর তারাও লুডু খেলায় মজা পেয়ে গেলেন। তারপর আমরা চারজনে মিলে সারারাত লুডু খেললাম। মাঝে এসে ভাবি চা দিয়ে গেলেন। আর তার সাথে চানাচুর, পেঁয়াজ, আদা, মরিচ দিয়ে মাখানো মুড়ি। জানি না দুনিয়ার কোনো মানুষের বাসররাত এমন ছিল কি না।

পরদিন বিকেলে নিপাকে ডেকে বললাম,
-নিপা শোনো, তোমার শখ ছিল বাসররাতে লুডু খেলবে, সেটা তুমি গত রাতে করেছ। আজ রাতে আমি কিন্তু কোনো অবস্থাতেই আর লুডু খেলব না।
-আরে না, আজ রাতে আবার লুডু খেলব কেন? বিয়ে করেছি কি শুধু লুডু খেলার জন্য? আজ আমরা…..
বলেই নিপা আমার দিকে তাকিয়ে চোখ টিপ দিল। আর সেই সঙ্গে তার মুখে ফুটে উঠল রহস্যময় এক হাসি। চলবে...
বি. দ্রষ্টব্য: এটি একটি রম্য লেখা। এই গল্পে শিক্ষণীয় কিছুই নেই। সে জন্য সরি। অবশ্য সবকিছু থেকেই শিখতে হবে এর তো কোনো মানে নেই, তাই না?

*লেখক: ইমদাদ বাবু, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র।
[email protected]

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন