default-image

‘খালাম্মা অহনকা যে নাশতা খান, মাদানো খাইতেন কিতা?’
ফাতেমার কথাটা যেন কানে গিয়ে বেশ লাগল। ‘মাদানো’ বলতে সে কী বোঝাচ্ছে, একটু ভাবতে হলো। কিছুক্ষণের মধ্যেই বুঝতে পারলাম ‘মাদান’ বলতে সে দুপুর বোঝাচ্ছে, অর্থাৎ মধ্যাহ্ন থেকে ‘মাদান’। বহুদিন পর শব্দটা শুনে কেমন যেন ভালো লাগল। আমি একটু হেসে জবাব দিলাম,
‘খাব কিছু একটা হালকা ফুলকা, কিছু ফলমূল।’
উত্তরে বলল,
‘ফলমূল খাইলেওই কী সারব? বাত খাইতেন না?’
আমি আবারও হেসে বললাম,  
‘না, দুপুরবেলা ভাত খাব না।’

দুপুরে ভাত খাব না শুনে ও যেন একটু অবাক হয়ে রইল। তারপর ঘরদোর ঝাড়া–পোছা হলে রাতের খাবারের জন্য কী কী রান্না হবে, জানতে চাইল। সেইমতো সে ফ্রিজ থেকে সব বের করে কোটা–বাছা শুরু করবে। আমি বিদেশের বাসিন্দা। আজ দুই সপ্তাহ ঢাকায় এসেছি। থাকব মাস দুয়েক। ভাবছি শীতটা কাটিয়ে বসন্তকে সঙ্গে নিয়ে ফিরব। এই সুযোগে বাংলাদেশের কিছু সুন্দর সুন্দর জায়গা আর গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যাব।

অথবা প্রতিবেশী দেশগুলোর কোনো একটাতে গিয়ে ঘুরে আসব। ঢাকায় আমার বেশ ভালো সময় কাটে। ভাইবোন, আত্মীয়স্বজন, তাদের ছেলেমেয়েরা সবাই আমরা খুবই কাছাকাছি থাকি। তার ওপর দীর্ঘদিন বিদেশে থাকা সত্ত্বেও আমার বন্ধুদের সঙ্গে আজও রয়েছে আমার নিবিড় ঘনিষ্ঠতা। তাই সব মিলিয়ে দৌড়ঝাঁপ করে এক আনন্দঘন পরিবেশে সময় যে কত তাড়াতাড়ি চলে যায়, আমি ভাবতেও পারি না।

ফাতেমা আমার কাজের বুয়া। হালকা–পাতলা গড়ন, মাঝারি উচ্চতা, পরনে রঙিন ছাপা শাড়ি। সরল হাসিতে তার পান খাওয়া সাদা–কালো দাঁতগুলো লাল ঠোঁট দুটোকে ছাপিয়ে বেশ চোখে পড়ে। সকালে এসে সে আমার ছুটা কাজগুলো করে দিয়ে যায়।

কাজের ফাঁকে ফাঁকে আমার সঙ্গে গল্প করতে পছন্দ করে। আমারও ভালো লাগে ওর সঙ্গে গল্প করতে। ভালো লাগে ওর জীবনের নানা রকম অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের কথা শুনতে আর আমার জীবনেরও কিছু গল্প ওকে শোনাতে। বছরখানেক হলো সে ঢাকা শহরে এসেছে স্বামী আর তিন সন্তান নিয়ে। কিশোরগঞ্জের কোনো এক গ্রামের বাসিন্দা। গৃহবধূ ফাতেমার স্বামী খেতখামারে কাজ করত। নিজেরও কিছু জমিজমা ছিল এবং ফসলের বিনিময়ে অন্য লোকের জমিতেও কাজ করত। এতে মোটামুটি সংসার চলে যেত। তিন বাচ্চার সংসার। বড় মেয়েটি দেখতে দেখতে বেশ ডাগর হয়ে উঠেছে।

খুব শিগগর ওর বিয়ের কথা ভাবতে হবে আর সেই জন্য চাই টাকা। সংসারের যা আমদানি, তাতে কোনোমতে চলে যায়, কিন্তু বিয়ের টাকা আসবে কোত্থেকে? এই সব নানান চিন্তাভাবনা করে ঠিক করল ঢাকা শহরে গিয়েই চেষ্টা করবে টাকার জোগাড় করতে যদি ভাগ্য ওদের সহায় হয়। আর তাই সপরিবার ঢাকা শহরে আসা। সে নিজে ছুটা বুয়ার কাজ করে, স্বামী তার ফুল ও ফলের ব্যবসা করে। বড় মেয়েটির বয়স ১৪ কি ১৫, লেখাপড়া ক্লাস নাইন পর্যন্ত। পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে পড়াশোনা বন্ধ এবং এখন ঢাকায় একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কাজ করে। ছোট মেয়েটিকে একটি স্কুলে ভর্তি করেছে আর ছেলেটি কোলের শিশু।

বিজ্ঞাপন

আমার বড় মেয়ে চৈতালীও এবার এসেছে বেড়াতে। ওর জন্ম বিদেশে। যদিও বড় হয়েছে বিদেশে, তবু আমাদের বাবা–মায়ের প্রচেষ্টায় যথেষ্ট ভালো বাংলা বলতে এবং কিছুটা লিখতে–পড়তেও পারে। বাংলা ভালো বলতে পারলেও তাতে সামান্য বিদেশি এক্সেন্ট রয়েছে। ফাতেমা প্রতিদিন যখন কাজে আসে, তখন প্রায়ই সে তার কাজ ফেলে ফেলে অপলক দৃষ্টিতে চৈতালীর পানে চেয়ে থাকে। আমি কখনো ওকে জিজ্ঞেস করিনি অমন করে ও কী দেখে। চৈতালীও আমাকে বারকয়েক প্রশ্ন করেছে,
‘মা, ও অমন করে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে কেন?’
আমি ঠাট্টা করে বলেছি,
‘তুমি দেখতে সুন্দর তো, তাই তোমার রূপ দেখে।’
‘মা...! কপট রাগে চৈতালী আমার দিকে তাকায়।’

আমি ভাবতে বসি সত্যিই তো, ও হয়তো ভাবে এই দেশি মেয়েটি একটু আলাদা কেন? ওর কথা বলা, হাঁটাচলা, বেশভূষা সবকিছু যেন অন্য বাঙালি মেয়ের মতো নয়। অথবা চৈতালীর দিকে তাকিয়ে কি ও নিজের মেয়ের কথা ভাবে? প্রয়োজনের তাগিদে মেয়েটির লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে, তা না হলে ওর মেয়েও তো এক দিন বিএ, এমএ পাস করে চৈতালীর মতোই হতে পারত। তবে চৈতালীকে নিয়ে ওর কৌতূহলের শেষ ছিল না এবং নানাভাবে তা প্রকাশও পেয়েছে। যেমন
‘আফার বয়স কত?’
‘বিএ, এমএ ফাস কইরা লাইসে?’
‘আফায় অফিসো যায়?’
‘আফারে বিয়া দিতেইন না?’
এ রকম আরও অনেক অনেক কৌতূহলী প্রশ্ন।

default-image

আমার মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাড়িতে আজ দোয়া হবে। বাবুর্চি দিয়ে বড় বড় ডেকচিতে রান্না হচ্ছে। এতিমখানায় খাবার পাঠানো হবে, মিসকিন খাওয়ানো হবে আর আমরা ভাইবোন, কাছের আত্মীয়স্বজন ও কাজের লোকজন সবাই সেই সিন্নির খাবার খাব। ফাতেমা সকালে কাজে এলে আমি ওকে দাওয়াত করলাম ওর স্বামী–বাচ্চাদের নিয়ে দুপুরে যেন আমাদের এখানে খেতে আসে। কথাটা শুনে খানিকক্ষণ ও আমার মুখের দিকে চেয়ে রইল। আমি কিছু বুঝতে পারলাম না। একটু পরে বলল,
‘শরম না খালাম্মা?’

আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে ওর মুখের পানে চেয়ে রইলাম। পরে বুঝতে পারলাম ও ভেবেছে আমি ওকে মিসকিন হিসেবে দাওয়াত করছি। ব্যাপারটা বুঝতে পেরে আমি বললাম,
‘আরে না না, তোমাকে আমি আমার ঘরের লোক হিসেবে দাওয়াত করলাম।’ সেই সঙ্গে আরও কাকে কাকে দাওয়াত করেছি, তা–ও বললাম। এবারে মনে হলো এই দাওয়াতের ব্যাপারে সে কিছুটা সহজ হলো। গৃহবধূর এই আত্মসম্মানবোধ আমায় চমৎকৃত করেছে।

প্রতিদিন সকালে ফাতেমা এসে আমাকে ঘুম থেকে জাগায়। ও ওর মতো কাজ করে যায়। আমি আমার মতো বিছানা তৈরি করে হাত–মুখ ধুয়ে নাশতা করি। প্রতিদিন আমি ওকে নাশতা খেতে সাধাসাধি করি আর প্রতিদিনই ও একই জবাব দেয়,
‘না গো খালাম্মা, নাশতা খাইতামনা, বাত খাইয়া আইসি।’

কখনো কোনো খাবার বা ফলমূল দিতে চাইলেও নিতে চাইত না। এখানেও ওর আত্মসম্মানবোধ কাজ করত কি না, সেটা আমি আজও বুঝতে পারিনি। তবে কাজের ফাঁকে ফাঁকে আমার বিছানার চাদর, বেডকভার, শাড়ি, সালোয়ার–কামিজ ইত্যাদি বেশ আগ্রহ নিয়ে দেখত এবং বলত,
‘খালাম্মা, ফুরান চাদ্দর থাকলে আমারে দিয়েন।’

আবার কখনো বলত,
‘খালাম্মা, আফার ফুরান সাজুনি–গুজুনি থাকলে দিয়েন মাইয়াডার লাইগ্যা।’
অর্থাৎ, মেকআপ, আইলাইনার, লিপস্টিক ইত্যাদি। এতে করে ওর শৌখিন মনেরও কিছুটা পরিচয় আমি পাই।

আমি বিদেশে ফিরে যাওয়ার সপ্তাহ দুয়েক আগে ঢাকায় বেশ গরম পড়ে গিয়েছিল। ফাতেমা তখন প্রতিদিন একটা বড় বোতল পানি ভরে নিয়ে আসত আমার ফ্রিজে রাখার জন্য। একদিন আমায় জিজ্ঞেস করল,
‘খালাম্মা, আফনে যাওনের বেলা ফ্রিজডা কি বেইচ্যা লাইবেন? বেচলে আমিওই রাখতাম।’

default-image

ও জানতে চাইছে আমি যাওয়ার সময় আমার ফ্রিজটা বিক্রি করে দিয়ে যাব কি না, তাহলে ও কিনবে। আমি জবাব দিলাম,
‘না না, বিক্রি করব না, আমি তো আবার আসছি ফিরে কয় মাস পর।’

ওর প্রশ্নটা আমায় একটু ভাবিয়ে তুলল। ফাতেমার মতো একজন গৃহকর্মী ফ্রিজ কেনার কথা ভাবছে? আর সব গৃহকর্মীও কি ওরই মতো এ রকম ভাবে? যদি তা–ই হয়, তাহলে বাংলাদেশের প্রগতির এই তো একটি সুন্দর নমুনা। ভাবতেও ভালো লাগল গৃহকর্মীদেরও স্ট্যান্ডার্ড অব লিভিং আজ কত উন্নত। ওরাও চায় আমাদেরই মতো জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য ও আনন্দ উপোভোগ করতে এবং তার জন্য প্রচেষ্টাও ওদের কম নয়। লেখাপড়া করে, পরিশ্রম করে ওরাও সমাজের আকাঙ্ক্ষিত মধ্যবিত্ত বা অন্তত নিম্নমধ্যবিত্তের জায়গাটুকু করে নিতে চায়। আমি সত্যিই মুগ্ধ!

আমি যে ফ্ল্যাটটিতে থাকি, সেটা সদ্য তৈরি করা। নতুন ভবনের পাঁচতলায় আমার বাস। ছিমছাম ছোট্ট ফ্ল্যাটটি বাবা–মায়ের দেওয়া উপহার। আমার মায়ের হাতে লাগানো নারকেল, সুপারির গাছগুলো আজও দাঁড়িয়ে আছে, যেন এক প্রত্যয় নিয়ে। আমি যখন ওদের পানে চাই, মনে হয় কে যেন আমার এ দুটি চোখে ভালোলাগার কাজল পরিয়ে দেয়। বারান্দার গ্রিল ছুঁয়ে নারকেলগাছের পাতা যখন মৃদুমন্দ হাওয়ায় আমায় ছুঁয়ে যায়, তখন মায়ের কথা মনে পড়ে যায়। বুঝি, নীরবে মা এসে আমায় কত কী বলে আদর করে যান। এক বিকেলে বারান্দায় বসে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে নারকেলগাছের পাতার ফাঁকে এক টুকরো নীল আকাশ খুঁজে পেলাম। প্রকৃতির সেই রূপের অবগাহনে কখন যে একটু একটু করে সন্ধ্যা নামছিল, বুঝতেই পারিনি। একটু পরে ঝিরিঝিরি বাতাসে রাতের আকাশে দেখা দিল পূর্ণিমার চাঁদ। নারকেলগাছের পাতার ফাঁকের সেই চাঁদের অপূর্ব দৃশ্যতে আমি যখন বিভোর, ঠিক সেই সময় হঠাৎ দরজায় বেল। এ সময়ে কে হতে পারে? উঠে গিয়ে দরজার পিপহোল দিয়ে দেখি ফাতেমা।

বিজ্ঞাপন

দরজা খুলে একটু অবাক হয়ে বলি,
‘কী ব্যাপার ফাতেমা, তুমি? সব ঠিক আছে তো?’
আমি জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে ওর দিকে চেয়ে রইলাম। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ফাতেমা হাউমাউ করে কেঁদে দরজায় সামনে বসে পড়ল।

‘কী হয়েছে? বলবে তো কিছু?’
তাড়াতাড়ি ওকে ভেতরে নিয়ে এসে বসিয়ে এক গ্লাস পানি হাতে দিয়ে বললাম,
‘এটা খাও আর শান্ত হও, তারপর বলো কী হয়েছে?’

কিছুক্ষণ পর একটু শান্ত হয়ে চুপ করে বসে রইল। আমি কয়েকবার জানতে চেষ্টা করলাম কী হয়েছে? কোনো উত্তর না দিয়ে চুপ করে বসে রইল আরও কিছুক্ষণ। আমি আর পীড়াপীড়ি করলাম না। বেশ খানিকক্ষণ পর উঠে দাঁড়িয়ে আস্তে করে বলল,
‘খালাম্মা অহনকা যাই।’
আমি বললাম,
‘আচ্ছা এসো।’

পরদিন সকালে সে নিয়মিতই কাজে এল। যেন কিছুই হয়নি গতকাল সন্ধ্যায়। আমি অবাক হয়ে ভাবতে বসলাম, ব্যাপারটা কী? দিন যায় আপন গতিতে। ফাতেমাও রোজ সকালে কাজে আসে, তবে আগের মতরা আর উচ্ছল হয়ে গল্প করে না। দেখে মনে হয় বিষণ্নতার একটা ছায়া ওকে আষ্টেপৃষ্ঠে ঘিরে আছে। আমিও আর কোনো দিন জানতে চাইনি সে রাতের কথা। এরই মধ্যে আমার প্রবাসে ফেরার দিনও ঘনিয়ে এল। আমি যাওয়ার প্রস্তুতি করছি, এমন সময় একদিন কাজের শেষে ওকে আমার শোবার ঘরে ডেকে এনে কিছু পুরোনো শাড়িকাপড়, বিছানার চাদর, চৈতালীর কিছু প্রসাধনসামগ্রী, সালোয়ার–কামিজ, জুতো ইত্যাদি দিচ্ছিলাম, এমন সময় আচমকা বলে উঠল,
‘খালাম্মা আফনের লগে দুইডা কতা কইতাম চাই।’
আমি বললাম,
‘বলো কী বলবে।’
সে তখন বলল,
‘হেই দিন যে আমি কাইন্দা–কাইট্যা আফনের কাছে আইছিলাম, শরমে কইতাম ফারি নাই।’

default-image

তারপর যা বলল, শুনে আমি সত্যি হতবাক! সবিস্তারে বলল আমায় সেদিনের সেই পুরো ঘটনা। কেমন করে সেদিন সে রুখে দাঁড়িয়েছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে। কেমন করে জ্বেলেছিল প্রতিবাদের তীব্র আগুন। আমি পুরো ঘটনাটা শুনে একরকম বাক্‌রুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। অশিক্ষিত বঙ্গ নারীর এই তেজ আর সাহস দেখে আমি অভিভূত এবং গর্বে আপ্লুত।

আমাদের মানবজীবনে কখনো কখনো অনেক বেদনাময় ও লজ্জার ঘটনা ঘটে যায়, যার জন্য মানুষ দুঃখিত ও লজ্জিত হয় এবং অপমানিত বোধ করে। কিন্তু সামাজিক সম্মান ও মর্যাদা হারানোর ভয়ে সে তা অন্য কারও কাছে প্রকাশ করতে পারে না। যদিও বর্তমান সমাজে এ ধরনের ক্ষেত্রে একজন মনোবিজ্ঞানীর সাহায্য পাওয়া সম্ভব হয়, কিন্তু ফাতেমাদের মতো সমাজে সেটা একান্তই অবাস্তব। তাই এই সময় নিজের পরিচিত গণ্ডির বাইরে যদি সে কাউকে বিশ্বাস করে তার মনের কথাগুলো বলতে পারে, তাহলে পরিস্থিতিটা কিছুটা সহজ করা সম্ভব হয় আর তখন সেটা হয় অত্যন্ত ফলপ্রসূ। তাহলে তাকে এই মর্মবেদনা অন্তরে পুষে রেখে একদিন এই পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিয়ে চলে যেতে হয় না। ফাতেমা সেদিন ঠিক তা–ই করেছিল আমাকে বিশ্বাস করে।

তাই ফাতেমার সেই ঘটনা একান্তই তার ব্যক্তিগত চরম এক রাগ–অভিমান আর লজ্জার কারণ ছিল বলে আমি তার গোপনীয়তা রক্ষার্থে আমার পাঠকদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারলাম না বলে দুঃখিত। তবে তার সেদিনের সেই দুঃখ আর কান্না রাখার জন্য অন্য কোথাও না গিয়ে শুধু আমারই কাছে ছুটে এসেছিল। আমার প্রতি ওর এই গভীর বিশ্বাস আমাকে বিমুগ্ধ করেছে। একান্ত ব্যক্তিগত ঘটনাটি প্রাণ খুলে আমার কাছে বলতে যদিও প্রথমে ওর দ্বিধা ছিল, কিন্তু পরে বলতে পেরে সে অনেক হালকা বোধ করেছিল। আমি অবাক হয়ে শুনলাম। আরও অবাক হলাম, পুরো ঘটনাটা বলার সময় এক ফোঁটা চোখের জল সে ফেলেনি। বুঝি, রাগ–দুঃখ–লজ্জা–অপমান আর ঘৃণায় ওর রুদ্ধ কান্না বিষবাষ্প হয়ে উবে গিয়েছিল।

*জাহান সৈয়দ মিনা, ওকভিল, অন্টারিও, কানাডা।

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন