default-image

বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও প্রাণবন্ত পরিবেশে দুদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী এবং জাতীয় শিশু দিবস উদ্‌যাপন করা হয়েছে। দূতাবাসের এ অনুষ্ঠানে শিশু-কিশোরেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ব্রাসিলিয়াসহ ব্রাজিলের সব বড় শহরে লকডাউন এবং নৈশকালীন কারফিউ চলছে। সব জনসমাবেশও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সীমিত পরিসরে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উদ্‌যাপন করা হয়।

১৬ মার্চ বিকেল পাঁচটায় দূতাবাস প্রাঙ্গণে শুরু হওয়া মূল অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে বাংলাদেশি শিশুরা বাংলাদেশ এবং বঙ্গবন্ধুর ওপর চিত্রাঙ্কন করে। এ ছাড়া শিশু-কিশোরেরা বঙ্গবন্ধুর ওপর আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতাতেও অংশ নেয়। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বের শুরুতেই চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স সামিয়া ইসরাত রনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিশু-কিশোরদের সঙ্গে নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াতের পর বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধের সব শহীদ, ১৫ আগস্টে নির্মম হত্যাকাণ্ডে নিহত বঙ্গবন্ধু পরিবারের সব শহীদ, মহান ভাষা আন্দোলনসহ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী সবার আত্মার মাগফিরাত এবং বাংলাদেশের ক্রম-অগ্রসরমাণ আর্থসামাজিক উন্নয়নের অব্যাহত অগ্রযাত্রা কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়। এরপর বঙ্গবন্ধুর ওপর নির্মিত একাধিক ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়। উপস্থিত সুধীবৃন্দ প্রদর্শিত ভিডিও চিত্রগুলো মুগ্ধতার সঙ্গে উপভোগ করেন।

বিজ্ঞাপন

দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে অনুষ্ঠিত আলোচনা পর্বে দূতাবাসের কর্মকর্তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ উপহার দেওয়ার জন্য বঙ্গবন্ধুকে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন।

চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স সামিয়া ইসরাত রনি তাঁর সমাপনী বক্তব্যে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কর্মময় জীবন এবং আমাদের স্বাধিকার আন্দোলনে তাঁর ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং অপরিমেয় অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

অনুষ্ঠানের শেষ অংশে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স সমবেত শিশুদের সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের কেক কাটেন। এরপর চিত্রাঙ্কন পর্বে অংশ নেওয়া সব শিশুর মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

১৭ মার্চ সকাল ১০টায় দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং বঙ্গবন্ধুর ওপর নির্মিত একাধিক আলেখ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। কোভিড-১৯ পরিস্থিতির উন্নতি হলে বৃহৎ পরিবেশে আরও আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানগুলো আয়োজন করা হবে বলে দূতাবাস আশাবাদী। বিজ্ঞপ্তি

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন