ব্রিসবেনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্যাপন

বিজ্ঞাপন
default-image

‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি।’

২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষা ও বাঙালিদের এক বিশেষ অর্জন। ভাষাশহীদদের মহান আত্মত্যাগ যেমন বাংলা ভাষাকে পৃথিবীর বুকে স্বীকৃতি দিয়েছে, তেমনি উৎসাহ দিয়েছে পৃথিবীর নানা ভাষাভাষী মানুষকে তাদের নিজস্ব ভাষা চর্চা করার। আর তাই তো হাজার মাইল দূরে বসেও ২১ ফেব্রুয়ারি ভোলা যায় না, ভোলা যায় না মায়ের ভাষায় কথা বলতে পারা কতটা শান্তির আর সৌভাগ্যের! মাতৃভূমিতে এই শান্তি আসে উত্তরাধিকার সূত্রে। কিন্তু যারা প্রবাসী, তাদের জীবনে এই শান্তি আর সৌভাগ্য এমনি এমনি আসে না। এর জন্য প্রচুর কাঠখড় পোড়াতে হয়।

default-image

প্রবাসী বাঙালি শিশুদের বাংলা ভাষা শেখানো বেশ কঠিন কাজ। আর শিখে গেলেও তাতে আবেগের লেশ থাকে নিতান্তই কিঞ্চিৎ। ভাষার মাঝে আবেগ ও অনুভূতির প্রয়োগ হয় সেই ভাষাভাষীর সংস্কৃতি এবং উৎসব থেকে। আর বাঙালি সংস্কৃতির বিভিন্ন উৎসবগুলোই বাংলা ভাষার আবেগ, অনুভূতি ও প্রাণ।

default-image

প্রবাসের মাটিতে বাঙালি শিশুদের বাংলা ভাষার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার গুরুদায়িত্বটি অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেন শহরে দীর্ঘদিন থেকে পালন করে আসছে ব্রিসবেন বাংলা ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুল। ভাষা শিক্ষায় পূর্ণ প্রাণের সঞ্চারে বিভিন্ন উৎসব ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের পাশাপাশি তারা প্রতিবছর যথাযথ মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে থাকে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম ছিল না।

default-image

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ৮ মার্চ ব্রিসবেনের রোবেলি ডোমেইনের বিশাল পার্কল্যান্ডে অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ব্রিসবেন বাংলা ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুলের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অন্যান্য শিশুদের পরিবেশনাও ছিল মনোমুগ্ধকর। আয়োজনে বাংলাদেশি ছাড়াও অন্যান্য ভাষার শিল্পীরা তাঁদের নিজ নিজ মাতৃভাষায় ভাষা ও সংস্কৃতি তুলে ধরেন। পাশাপাশি দিনব্যাপী মুখরোচক দেশীয় খাবারের স্টলে ছিল ক্রেতাদের ভিড়।

default-image

সন্ধ্যার আলো–ঝলমলে পরিবেশে শুরু হয় লাইভ সংগীতের মনোমুগ্ধকর অনুষ্ঠান। এ পর্বে কুইন্সল্যান্ডের জনপ্রিয় বাংলাদেশি শিল্পীদের গান দর্শক শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। লাইভ সংগীতের এই আয়োজন সম্পূর্ণভাবে স্থানীয় প্রতিভাবান বাংলাদেশি কণ্ঠ ও যন্ত্রসংগীতশিল্পীদের অংশগ্রহণে মঞ্চস্থ হওয়ায় তা ছিল অভিনব এবং অন্যান্য আয়োজনের থেকে ব্যতিক্রম। অস্ট্রেলিয়ার বহু বিচিত্র সংস্কৃতির এই দেশে অনুষ্ঠানের এই সর্বশেষ অংশে যেন অব্যক্ত এক বাণী ধ্বনিত হলো ‘আমার কমিউনিটি, আমার গর্ব’।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন