বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

একসময় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে পছন্দের জায়গাজুড়ে কেবল কলকাতার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থাকলেও গত কয়েক বছরে পরিবর্তন এসেছে সে জায়গাতেও।
কেবল বাংলাদেশের নয়, খোদ কলকাতার সঙ্গেই খাদ্যাভ্যাস, সংস্কৃতি ও ভাষার বিস্তর তফাত এ অঞ্চলের। একসময় শুধু চিকিৎসাসেবার উদ্দেশ্যেই এ শহরে আনাগোনা ছিল বাংলাদেশিদের। শিক্ষার্থীদের অভিমত, বেঙ্গালুরুর আবহাওয়া, পরিবেশ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা ও ঝঞ্ঝাটহীন সুষ্ঠু নাগরিক যাপনই মূলত শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করে।
ভারত সরকারের বহুল পরিচিত ও সম্মানজনক শিক্ষাবৃত্তি আইসিসিআর ছাড়াও এসআই শিক্ষাবৃত্তি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষাবৃত্তি, এমনকি নিজস্ব খরচেও শিক্ষার্থীরা পড়তে আসছেন এই শহরে। অনার্স, মাস্টার্সসহ মূলত ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে শিক্ষার্থী বেশি এ শহরে। প্রতি শিক্ষাবর্ষে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী আসেন বেঙ্গালুরুর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। সেই তালিকায় এগিয়ে আছে আচারিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, জেইন কলেজ, বেঙ্গালুরু ইউনিভার্সিটি ও অন্যান্য।

ভিন ভাষা, ভিন সংস্কৃতি, ভিন্ন স্বাদের খাবার অন্য রকম অনুভূতি জাগালেও কখনো না কখনো নিজ ভাষার, নিজ দেশের সংগতেই শান্তি খুঁজে ফেরেন এখানকার শিক্ষার্থীরা।

default-image

নিজের দেশ, নিজের সংস্কৃতির উৎসব–আয়োজনের বিষয় মাথায় রেখে এখানেও আছে ‘বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব কর্ণাটক (বিসাক)’ নামের একটি সংগঠন। ঈদ, পূজা, পয়লা বৈশাখসহ দেশীয় নানা উৎসবে বেশ সরব এ সংগঠন। নিজেদের ফেসবুক পেজেও বেশ সক্রিয় বিসাক।

বেঙ্গালুরু শহরে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা শিক্ষার্থীরা ছোটখাটো ঘরোয়া আয়োজনে একত্র হন। ঘর ছেড়ে দূরে থাকা শিক্ষার্থীরা সাময়িক সময়ের জন্য হলেও পেয়ে যান ঘরোয়া আমেজ আর নিজ ভাষায় কথা বলার অবাধ সুখ। এ ছাড়া নিজ নিজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতো করে আয়োজন করেন মিলনমেলার। বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা কলেজের নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বেশ উল্লেখযোগ্য। কেবল সাংস্কৃতিক অঙ্গনেই নয়, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা দেশের পতাকা উজ্জ্বল করছেন একাডেমিক ফলাফলেও। মেধা তালিকায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও বেশ নজরকাড়া। করোনা মহামারির এ সময় ঘর ছেড়ে দূরে এই শিক্ষার্থীরাই ছিলেন একজন আরেকজনের ছায়া হয়ে।

ঘর ছেড়ে দূরে অন্য সংস্কৃতি, অন্য যাপনে বেঁচেও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা চেষ্টা করছেন নিজেদের একাত্মতা ধরে রেখে নিজেদের সংস্কৃতি, নিজেদের আচার–আচরণ অন্যদের মধ্যে ফুটিয়ে তুলতে। দূর দেশে থেকেও খানিকটা দেশীয় আচার–উৎসব আর প্রাণ খুলে নিজের ভাষায় কথা বলতে পারা, এটুকুই তো চাওয়া...

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন