বিজ্ঞাপন

বিদেশিদের জন্য বেশ কিছু ক্যাটাগরির ভিসা সরবরাহ করে কুয়েত সরকার। এর মধ্যে আমাদের বাংলাদেশিদের কাছে দুই ক্যাটাগরির ভিসা বেশ জনপ্রিয়। এক. ১৮ নম্বর ক্যাটাগরির ভিসা ও দুই. ২০ নম্বর ক্যাটাগরির ভিসা।

এবার আসি, ২০ নম্বর, যা খাদেম ভিসা নামে অধিক পরিচিত, তা নিয়ে কিছু বিভ্রান্তির খোলামেলা আলোচনা নিয়ে। খাদেম মানে হচ্ছে সেবক অর্থাৎ যিনি সেবা প্রদান করেন এমন ব্যক্তি। মধ্যপ্রাচ্যে আরবীয়দের ঘরের সব ধরনের কাজের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে এক ধরনের বিশেষ ভিসার অনুমোদন করা হয়, যাকে ‘খাদেম ভিসা’ বলা হয়। খাদেম ভিসা আবার বিভিন্ন ক্যাটাগরির হতে পারে। যেমন গাড়িচালক, তাব্বাক (রাঁধুনি), দেওয়ানিয়ার কাজ (টি-বয়) ও ঘরের অন্যান্য কাজ।

কুয়েতে খাদেম ভিসা নিয়ে বহুদিন ধরে অবৈধ ব্যবসা চলে আসছে। এটা দুভাবে হয়ে থাকে।

default-image

১.
ঘরের কাজের (সব ধরনের কাজ হতে পারে) কথা বলে দালালেরা খাদেম ভিসায় আসতে ইচ্ছুক লোকজনের কাছ থেকে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। যেখানে প্রকৃত সত্য হচ্ছে, কুয়েত সরকার নতুন আইনে বাংলাদেশিদের জন্য খাদেম ভিসা মাত্র ১৯৬ দিনারে (বাংলা ৫৫ হাজার টাকা) সরবরাহ করছে, তাও সেটা কফিল/মালিক সরকারকে পরিশোধ করে ভিসা ইস্যু করতে হবে। এ ক্ষেত্রে খাদেম ভিসায় আসা ব্যক্তিকে শুধু টিকিট, মেডিকেল বা নিজ দেশের ভিসা প্রসেসিং প্রক্রিয়ার সব খরচ বহন করতে হয় বা অনেক ক্ষেত্রে কফিল/মালিক নিজেই সব খরচ দেন। এক কথায়, খাদেম সম্পূর্ণ ফ্রিতে আসতে পারেন।

বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে হতে পারে। তবে নতুনদের ক্ষেত্রে ৬০ থেকে ১২০ দিনার যা বাংলাদেশের ১৫ থেকে ৩২ হাজার টাকার মধ্যেই অধিকাংশ বেতন নির্ধারিত হয় এবং মালিকের সঙ্গে আগে থেকেই প্রতিশ্রুতি থাকলে তা প্রতিবছর বৃদ্ধি করতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে এসব খাদেমের মালিকের গণ্ডির বাইরে কাজ করার কোনো সুযোগ থাকে না।

২.
দালালেরা খাদেম ভিসায় আসতে ইচ্ছুক লোকজনের কাছে ফ্রি ভিসার নাম করে একেকটি ভিসা প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকায় বিক্রি করে, যেখানে কুয়েতিদেরও সম্মতি থাকে। উল্লেখ্য, ফ্রি ভিসা নামে কোনো ভিসা কুয়েতে প্রচলন নেই। এই ভিসাগুলো এই শর্তে নেওয়া হয়, কফিল বা মালিক তাঁর খাদেমকে কুয়েতে নিয়ে আসার পর তাঁকে দিয়ে ঘরের কাজ করানো হবে না, খাদেম তাঁর মর্জিমতো বাইরে যেকোনো কাজ করবেন। সে ক্ষেত্রে প্রতিবছর আকামা বা সিভিল আইডি নবায়নের জন্য একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ কুয়েতি দিনার কফিলকে বা মালিককে পরিশোধ করতে হয়। যদিও সাধারণত আকামা নবায়ন কফিল সম্পূর্ণ ফ্রিতে করে দেন, তবুও কফিলরা যেহেতু ফ্রি ভিসার নাম করে অবৈধভাবে তাঁদের খাদেমদের বাইরে কাজ করার সুযোগ দিচ্ছেন এবং একটা অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করছে, যা আইনের পরিপন্থী। সেই হিসেবে আকামা নবায়নের সময় তাঁরা খাদেমদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ গ্রহণ করেন। কেউ চাহিদামতো অর্থ দিতে অস্বীকার করলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হিসেবে বাড়ি থেকে পলায়নের মামলা দিয়ে দেওয়া হয় বা অনেক সময় বাড়িতে ডেকে এনে মারধরের ঘটনাও ঘটে। মামলার পর সেই খাদেম হয়ে যান আইনিভাবে সম্পূর্ণ অবৈধ বসবাসকারী। কারণ, ইতিমধ্যে তাঁর মালিক তাঁকে পলায়নের মামলা দিয়ে দিয়েছেন।

আবার বৈধ খাদেম আকামাধারীরা যদি মালিকের কাজ ছাড়া বাইরে অন্য কোনো কাজ করা অবস্থায় পুলিশের কাছে ধরা পড়েন, তবে কফিল ও খাদেম উভয়েরই আইনি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তবে যদি বৈধ আকামা বা সিভিল আইডি থাকে তখন বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কফিল পুলিশি ঝামেলা মেটাতে সক্ষম হন। কিন্তু নতুন আইনে কোনো খাদেম বাইরে কাজ করা অবস্থায় ধরা পড়লে কফিলদের আইনি ঝামেলা পোহাতে হয় বিধায় খাদেম আকামাধারীরা বাইরে কাজ করা অবস্থায় পুলিশের কাছে ধরা পড়লে কফিল তাঁকে ছাড়াতে যান না। এ ক্ষেত্রে সেই খাদেমের পরিণাম হয় ভয়াবহ। আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোজা নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়৷ কিন্তু এ সবকিছুর মাঝেও এই অবৈধ সিস্টেম চলে আসছে বছরের পর বছর।
এসব সমস্যার মূল কারণ ভিসা সম্পর্কে ধারণা না থাকা। খাদেম ভিসায় আসার আগে সবকিছু যাচাই-বাছাই করে না নেওয়া। এ জন্য ভবিষ্যতে বাংলাদেশিরা কুয়েত বা মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো দেশে এই ক্যাটাগরির ভিসায় আসার ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন