default-image

কথায় আছে, মানুষের মধ্যে সম্পর্ক নাকি খাবারে সুমধুর হয়। বাংলাদেশের খাবারের বৈচিত্র্য, তৈরি, পরিবেশন আর আন্তরিকতায় যে সব সময় এগিয়ে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আর আমরা বাংলাদেশিরা অতিথিপরায়ণ হিসেবে পরিচিত হচ্ছি বিশ্বজুড়ে। বিদেশের মাটিতে আমরা বাংলাদেশের পরিচয় দিই আমাদের সংস্কৃতির এই প্রধান অংশ দিয়েই। আর তা হলো আমাদের বৈচিত্র্যময় খাবার। বিদেশিদেরও আমাদের খাবারের প্রতি আছে ব্যাপক আগ্রহ। বিদেশ বলতে আপাতত এখানে জাপানকেই বলছি।

default-image

জাপানিদের বাংলাদেশি খাবারের প্রতি প্রচণ্ড আকর্ষণের কথা বলছি, ইংরেজিতে যাকে বলে ক্রেভিং। আর বাংলাদেশি কারি হলে সে তো কথাই নেই। সেটা চিকেন হোক, বিফ কিংবা ফিশ, যা-ই হোক না কেন! কারির প্রতি তাদের প্রীতি একটু বেশিই বোধ করি। সেটা বারবার করে খেলেও মনে হয় একটুও কমে না। জাপানিরা বাংলাদেশি খাবারকে আরও জানতে চায়। জানতে চায় আরও ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের খাবারের সন্ধান। জানতে চায় আমাদের ধর্ম, আমাদের সংস্কৃতিকে আরও কাছ থেকে।

default-image

জাপান চায় বাংলাদেশের সঙ্গে সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনকে আরও দৃঢ় করতে। আর তারই মাধ্যম হিসেবে জাপান-বাংলাদেশ আড্ডার কিছু সদস্যের ব্যবস্থাপনায় আয়োজন করা হয় এই অনুষ্ঠানের, যার নামকরণ করা হয় ‘বেশতো বাঙালি’। মাহে রমজানের ইফতার সংস্কৃতিকে এবং বাংলাদেশের ভিন্ন স্বাদের খাবারকে তুলে ধরতে, টোকিওতে জাপানি ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রচেষ্টায়, সঙ্গে ‘মজা কাটারিং’-এর তৈরি খাবারের যৌথ উদ্যোগে ছোট্ট পরিসরে সে প্রয়াস পেয়েছে।

default-image

আগত জাপানি অতিথিদের সামনে মাহে রমজানের ইফতারের খাবারের ভিন্নতা ও বাঙালি মুসলিম সংস্কৃতির কিছুটা তুলে ধরা হয়েছে। ইফতারিতে যেমন আমাদের মুড়ি, ছোলা, পেঁয়াজি ছাড়া চলেই না, সেই ছোলা, পেঁয়াজি, বেগুনি, মুড়ি, খেজুর, আরও ফলফলাদি দিয়ে সাজানো প্লেট পরিবেশন করা হয়েছে যেমন করা হয় বাংলাদেশে। মসজিদের মাগরিবের আজানের ব্যবস্থা নেই বলে ঘড়ি ধরে নির্দিষ্ট সময়ে একসঙ্গে ইফতার শুরু করা, ইফতারির পর একসঙ্গে নামাজ আদায় করা, নামাজের ধরন, নিয়ম কানুনের সঙ্গে জড়িত অনুশাসনগুলো জাপানিরা স্বাগত জানিয়েছে এবং একাত্ম হয়ে সেগুলো পালনের চেষ্টা করেছে। জাপানিদের অন্য সংস্কৃতিকে কাছ থেকে জানতে চাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষার মূল্যায়নে স্বল্পপরিসরে এই ছিল আমাদের ক্ষুদ্র প্রয়াস।

default-image

এই আয়োজনে রাতের খাবারে রাখা হয় আমাদের দেশীয় খাবার। ঘরোয়া খাবার ভাত, ডাল, সবজি ভুনা থেকে শুরু করে পোলাও, ডিমের শাহি কোর্মা, গরুর মাংস ভুনা, মুরগির মাংস ভুনা, মিষ্টি, হালুয়া, সেমাই ও শাহি বোরহানিসহ আরও অনেক কিছু। সব খাবারেরই স্বাদ কিছুটা করে হলেও চাখানোর চেষ্টা করা হয়েছে জাপানিদের। খাবার ছাড়াও বাংলাদেশি সংস্কৃতিকে অন্যভাবে পরিচিতি দিতে রাখা হয়েছে ক্রিয়েটিভ কর্নার। সেখানে তুলে ধরা হয়েছে জলরঙে আঁকা গ্রাম-বাংলার দৃশ্যায়ন আর অনেক ফটোগ্রাফ। পরিচিতি দেওয়া হয়েছে আমাদের কুটিরশিল্পকে। নকশিকাঁথা, কুশি কাঁটায় তোলা কুশন কাভার ও ওয়ালম্যাট প্রদর্শন করা হয়েছে।

default-image

বাংলাদেশি হিসেবে এই ভিনদেশে আমরা আমাদের সংস্কৃতিকে ধারণ করে আছি। ভিনদেশিদের সঙ্গে হৃদ্যতা বৃদ্ধির স্বার্থে তাঁদের কাছে আমাদের সংস্কৃতিকে পৌঁছে দেওয়ার এমন উদ্যোগকে ভবিষ্যতে এগিয়ে নিতে জাপান-বাংলাদেশ আড্ডা এমন অনুষ্ঠান প্রতি মাসে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় ভিন্ন বাংলাদেশিদের সঙ্গে আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে, যা জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের মেলবন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে বলে আশা করা যায়।

default-image


...

কোহিনূর কেয়া: শিক্ষার্থী, টোকিও ইউনিভার্সিটি অব এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি, জাপান।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0