default-image

মানবসভ্যতার এক আমূল পরিবর্তন সৃষ্টি হয়েছে, চিরাচরিত নিয়মে উৎসবে আয়োজনে সব সময় মানুষকে একত্র হওয়ার রেওয়াজ প্রচলিত থাকলেও করোনাভাইরাস সব এলোমেলো করে দিয়েছে। সামাজিক জীব মানুষকে দিয়েছে সামাজিক দূরত্ব (ব্যক্তিগত)। তাই ঈদের নামাজে বিপুল মানুষের সমাগম হওয়ার কারণে বিশ্বব্যাপী ঈদের নামাজ আদায়ে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে পর্তুগালে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বাংলাদেশের মতোই খোলা আকাশে ঈদের নামাজ আদায় করেন, পর্তুগালের রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রাজধানী লিসবনের প্রায় সব মসজিদ কমপ্লেক্সে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়। লিসবন কেন্দ্রীয় মসজিদে দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয় লিসবন মেট্রোপলিটন এলাকার অডিভেলাসে। অডিভেলাসে মুসলিম কমিউনিটির আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) জামে মসজিদের উদ্যোগে এই জামাতের আয়োজন করা হয় অডিভেলাস উচ্চমাধ্যমিক স্কুল মাঠে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ২ মিটার দূরত্বে নিজস্ব জায়নামাজ নিয়ে এবং মাস্ক পরে মুসল্লিরা ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেন। পর্তুগাল সরকারের বিভিন্ন নেতা, পুলিশ, দমকলকর্মী, উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, অডিভেলাস মুসলিম কমিউনিটির প্রেসিডেন্ট ড. আশফাক তৈয়ব, মুফতি শেখ জাবির, আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) জামে মসজিদের বাংলাদেশি প্রবাসী ইমাম শাহেদ আহমেদ এবং অডিভেলাস মিউনিসিপ্যালটির প্রেসিডেন্ট হুগো মার্তিন্স উপস্থিত ছিলেন।

হুগো মার্তিন্স এই অঞ্চলের তথা পুরো পর্তুগালের মুসলমানদের ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানান। মুসলিম কমিউনিটির প্রেসিডেন্ট ড. আশফাক তৈয়ব বর্তমান মহামারির প্রেক্ষাপটে খোলা আকাশের নিচে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করতে পেরে আবেগ অনুভূতি প্রকাশ করেন এবং বিশ্বের সব নির্যাতিত মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করেন। ঈদুল আজহার জামাত মুফতি শেখ জাবির আহমেদের ইমামতিতে সম্পন্ন হয়। তিনি পর্তুগাল তথা বিশ্বের সব মুসলমানের জন্য এবং এই মহামারিমুক্ত সুন্দর পৃথিবীর জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ঈদুল আজহার জামাতে প্রায় ১ হাজার ২০০ লোকের সমাগম হয়।

default-image

অপর দিকে পর্তুগালের বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত পর্তু শহরে বাংলাদেশ কমিউনিটি পর্তুর কেন্দ্রীয় মসজিদ হজরত হামজা (র.) জামে মসজিদে দুটি ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়। কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুসল্লিরা ঈদের জামাত আদায় করেন। জামাতে বাংলাদেশ কমিউনিটি অব পর্তুর প্রেসিডেন্ট শাহ আলম কাজল প্রবাসী বাংলাদেশিদের কঠোর নিয়মের মাঝে সুন্দরভাবে নামাজ আদায়ের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং পর্তুগাল সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি পর্তুগালে বাংলাদেশি প্রবাসীদের ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানান।

পর্তুগালে বরাবর সব সময়ই খোলা আকাশের নিচে প্রবাসীরা ঈদের নামাজ পড়তে অভ্যস্ত, তবে বর্তমানে উদ্ভূত প্রতিবন্ধকতার মধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ঈদের নামাজ আদায় করতে পারায় অত্যন্ত আনন্দিত। পর্তুগাল সরকার এবং ঈদের জামাত আয়োজনে যাঁরা শ্রম দিয়েছেন তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তবে লিসবনের বাংলাদেশ অধ্যুষিত মারতিম মুনিজ এলাকায় কেন্দ্রীয় অঞ্চল হওয়ার কারণে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না পাওয়ায় কোনো ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি।

নামাজ শেষে প্রবাসীরা ঈদুল আজহার দ্বিতীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশ কোরবানির জন্য ছুটে যান এবং স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পশু কোরবানি করেন। কোরবানি করা পশুর গোশত বন্ধুবান্ধব আত্মীয়স্বজনের মধ্যে রীতি অনুযায়ী বিলি বণ্টন করেন এবং যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে আনন্দ আড্ডায় মেতে ওঠেন। করোনা মহামারিতে ঈদুল আজহা প্রবাসীদের মনে ভয় কাটিয়ে অনেকটা স্বস্তি এবং আনন্দের উদ্রেক করেছে, যা পরবর্তী দুঃসময় মোকাবিলায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

*সমাজকর্মী ও লেখক

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0