default-image

কানাডীয় কবি, ঔপন্যাসিক, সাহিত্য সমালোচক, প্রাবন্ধিক ও পরিবেশবিদ মার্গারেট অ্যাটউডের পরিচয় বিশ্বজোড়া। ৭৬ বছর বয়সী বর্ষীয়ান এই লেখকের সাহিত্য জগতে বিচরণ অনেক বর্ণিল। আনুষ্ঠানিক প্রাপ্তিযোগও অনেক। বুকার পুরস্কার (ক্যাটস আই ১৯৮৭), কানাডীয় গভর্নর জেনারেল অ্যাওয়ার্ড (দ্য হ্যান্ডমেইডস টেইল ১৯৮৫), আর্থার সি ক্লার্ক অ্যাওয়ার্ডসহ (দ্য হ্যান্ডমেইডস টেইল) আরও অনেক অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। হার্ভার্ড থেকে শুরু করে পৃথিবীর ১৯টি নামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সম্মানজনক ডিগ্রিপ্রাপ্ত এই লেখক ২০০১ সালে কানাডার ওয়াক অব ফেমে অভিষিক্ত হন। কানাডার সর্বোচ্চ সম্মানজনক অর্ডার অব কানাডা প্রাপ্তিও ঘটেছে তার। উল্লেখ করার বিষয় হচ্ছে, মার্গারেট অ্যাটউড একজন ক্রিটিক্যালি এক্লেইমড লেখক হওয়ার পাশাপাশি, তার বইও কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বেস্ট সেলার।
লেখালেখির পাশাপাশি মার্গারেট অ্যাটউড একজন সংগঠক ও অ্যাকটিভিস্ট। কানাডাসহ সারা পৃথিবীর লেখকদের জন্য নানান প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ও রাইটার্স অব কানাডার প্রতিষ্ঠাতা। তিনি গ্রিফিন পোয়েট্রি পুরস্কারের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি। অ্যাটউড একজন অত্যন্ত সক্রিয় পরিবেশবাদীও। রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় এই লেখক কানাডার পরিবেশবাদী রাজনৈতিক দল গ্রিন পার্টির একজন সমর্থক ও এই দলের কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব এলিজাবেথ মের একনিষ্ঠ ভক্ত।

default-image


মার্গারেট অ্যাটউড গত ৫০ বছর ধরে রচনা করেছেন অসংখ্য উপন্যাস (১৭), কাব্যগ্রন্থ (২০), ছোট গল্প (১০), শিশু সাহিত্য (৭), অ্যানথলজি (৫) ও নন ফিকশন সাহিত্য (১০)। তার লেখার মূল উপজীব্য কানাডীয় পরিচয় নির্মাণ, নারীবাদ, পরিবেশ, প্রাণী ও মানুষ ইত্যাদি।

default-image

সারা পৃথিবীতে অত্যন্ত আলোচিত এই কানাডীয় জীবিত কিংবদন্তিসম ও প্রবাদপ্রতিম লেখককে ঘিরে তার ভক্ত, পাঠক, অনুরাগীদের আগ্রহের অন্ত নেই। গত ১ ডিসেম্বর মঙ্গলবার পুরো কানাডা জুড়ে বিস্তৃত বইয়ের চেইন স্টোর চ্যাপ্টার-ইনডিগো-কোলসের টরন্টোর কুইন্সওয়ে শাখার উদ্যোগে এক ইভেন্টের আয়োজন করা হয়। যেখানে মার্গারেট অ্যাটউড নিজে উপস্থিত থেকে তার রচিত বইয়ে স্বাক্ষর করেন পুরো সন্ধ্যা জুড়ে। শুধুমাত্র বইয়ের স্বাক্ষর প্রত্যাশীদের জন্যই ইভেন্টটি উন্মুক্ত ছিল। মার্গারেট অ্যাটউডকে এক নজর দেখার আগ্রহ থেকেই হাজির হই সেই বৃষ্টি ও দুর্যোগ আবহাওয়াপূর্ণ সন্ধ্যায় টরন্টোর কুইন্সওয়ের চ্যাপ্টারে। সেদিন তিনি মূলত তার সদ্য প্রকাশিত দ্য হার্ট গোজ লাস্ট বইটিতে স্বাক্ষর করবেন বলে কথা থাকলেও, তার অন্য রচনাতেও স্বাক্ষর করবেন বলে জেনেছি। আমার আগ্রহ তার লেখা ছোটগল্পে। ফলে ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত তার প্রথম ছোট গল্পের বই ড্যান্সিং গার্ল ওই স্টোর থেকে কিনে নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ি লেখকের পাঠক-ভক্তদের সুদীর্ঘ সারিতে। প্রায় ঘণ্টা দুই পরে গিয়ে পৌঁছানো যায় তার কাছে। বইতে স্বাক্ষর করিয়েই এক সুযোগে তাকে ধন্যবাদ জানাই বাংলাদেশের লেখক-ব্লগার হত্যার প্রতিবাদে স্বাক্ষর করায় ও সহমর্মিতার জন্য। আর সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলাম বাংলাদেশের কবি পারভেজ চৌধুরীর বাংলায় অনূদিত তার দুটি কবিতা। অনুবাদক ও আমার পারস্পরিক আগ্রহে এবং অনুবাদকের অনুমতিক্রমেই তুলে দিই তার হাতে অনূদিত দুটি কবিতা। এই কবিতা দুটো যে আবার বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিতব্য কানাডার সমকালীন কবিতা' নামক একটি কাব্যগ্রন্থেও ঠাঁই পেতে যাচ্ছে শীঘ্রই, তাও বলি। তাকে জানান দিই শুধু কানাডীয় বাংলাদেশিরাই নন, সুদূর বাংলাদেশেও তার পাঠক আছে।

default-image


সত্যি কথা বলতে, কানাডীয় এই প্রতিষ্ঠানতুল্য বিশাল মাপের লেখক ও অ্যাকটিভিস্ট মার্গারেট অ্যাটউডকে দেখার সুযোগ আমি কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে চাইনি। আর তাই শীতের সেই সন্ধ্যায়, উইকডেতে, কর্মক্লান্তির পরও, বৃষ্টি মাথায় করে চলে গিয়েছিলাম তার দুর্লভ সান্নিধ্য পেতে। সে দিনের সেই দেখা করবার মুহূর্তগুলো অক্ষয় হয়ে থাকবে বহুকাল।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন