বিজ্ঞাপন

আমরা দুজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, ইরাক, সোমালিয়া, মিয়ানমারের মাস্টার্স এবং পিএইচডি শিক্ষার্থীরা জামাতে শরিক হয়েছিলেন। নিজে থেকেই ঈদের নামাজের আগে খেজুর আর নামাজ শেষে মালয় মিষ্টি ‘কুকিজ রায়া’ দিয়ে ভাইদের আপ্যায়ন করলাম। একসঙ্গে জামাতে নামাজ আদায় করতে পেরে সবাইকে অনেক খুশি হতে দেখলাম। প্রবাসজীবন সবাইকে একসূত্রে গেঁথে দিয়েছে। কোলাকুলি না করলেও অনেকেই সেলফি তুলেছিলেন। মাস্ক পরে সেলফি তোলার অন্য রকম এক অভিজ্ঞতা হলো।

ঈদের নামাজের পড়ে ভারতীয় আর পাকিস্তানি ভাইদের সঙ্গে মিলে শুরু হলো ঈদের খাবারের আয়োজন। দেশের ঈদের খাবারের সঙ্গে অনেকটা মিল হওয়ায় আমরা রান্না শুরু করলাম মোরগ বিরিয়ানি আর সঙ্গে ঈদের দিনের মূল আকর্ষণ সেমাই তো ছিলই। রাতের জন্য রান্না হলো রুটি এবং বাটার চিকেন। একসঙ্গে মিলেমিশে রান্না করার মজাই আলাদা ছিল। আমাদের সঙ্গে মিয়ানমারের ভাই জারনি শরিক হয়েছিলেন। রান্নার মূল দায়িত্ব তাঁকেই দেওয়া হয়েছিল। জারনি ভারতীয় আর আরব ঘরানার রান্নাতে বেশ পারদর্শী। অনেকেই তাঁদের দেশের ঈদের দিনের আমেজ নিয়ে আলোচনা করলাম রান্নার ফাঁকে।

এদিকে ভার্সিটি থেকে সকালের নাশতায় মালয় খাবার রেন্দাং আর লেমাং দেওয়া হয়েছিল। সেটাও খেয়ে দেখা হলো। দুপুর গড়িয়ে গেলে যখন নিজের রুমে ফিরে গেলাম, তখন বুকের মধ্যে একটা শূন্যতা অনুভব করলাম। বাবা-মাকে ফোন দিলাম নিজের ইমোশনকে নিয়ন্ত্রণে রেখে। দুই বোনের সঙ্গেও কথা হলো। ঈদের খাবারের ছবি শেয়ার করলাম। প্রবাসজীবনের ঈদে কাছে থাকে না আপনজন, সেই শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়। তাই বলে ঈদ পালন তো আর থেমে থাকে না। নিজেদের মতো উদ্‌যাপন করে অন্য রকম একটা ঈদ কাটালাম।

শিগগিরই করোনা মহামারি কেটে যাবে, দেশে ফিরে আবার মুক্ত বাতাসে ঈদগাহে ঈদের নামাজ পড়ে সবার সঙ্গে কোলাকুলি করতে পারব, এ দোয়াই করা হলো। ভালো থাকুক সব প্রবাসী, ভালো থাকুক বিশ্বের সব মানুষ।

লেখক: ইমরান, পিএইচডি গবেষক (রিসার্চ ফেলো), ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স মালয়েশিয়া (USM), পেনাং।

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন