বিজ্ঞাপন

মাঝে বেশ কয়েক দিন দেখা নেই ইয়াসমিনের। হঠাৎ একদিন বেশ কিছু প্যাকেট হাতে আমার বারান্দার দরজায় টোকা দিল, বলল আপা আমার ছেলের জন্য কিছু জিনিস আছে এতে; মনিবের বাসায় রাখা নিষেধ, তাই আপনার কাছে রেখে গেলাম। পরে এসে নিয়ে যাব। এভাবে ইয়াসমিনের দেশে যাওয়ার দিন যত ঘনিয়ে আসতে লাগল, অসংখ্য জিনিস জমতে থাকল আমার বাসায়, যার বেশির ভাগই খাদ্যদ্রব্য। কী নেই তার ভেতর—বিস্কুট, চকলেট, পাউরুটি সব আছে। শত বলেও বোঝানো গেল না, সামনের মাস আসতে আসতে পাউরুটি, জুস এসব নষ্ট হয়ে যাবে। মায়ের মন বলে কথা—যা দেখে তাই ছেলের জন্য নিতে ইচ্ছা হয়। একদিন বলে, ‘আপা এ দেশ থেকে বিরিয়ানি কীভাবে নিব? ছেলে খেতে চায়, বিদেশের বিরিয়ানির গল্প শুনেছে অনেক, তাই মার কাছে বিরিয়ানি খাওয়ার বায়না।’

দেখতে দেখতেই ইয়াসমিনের দেশে যাওয়ার দিন এসে গেল। সকাল সকাল আমার বাসায় এসে তার সব জিনিস সে নিয়ে গেল। এসব বিশাল লাগেজেও আটবে কি না, আমি চিন্তিত হলাম। হাতে ছেলের জন্য দোকান থেকে কেনা অ্যারাবিক বিরিয়ানির প্যাকেট। অশ্রুসিক্ত নয়নে আমাকে জড়িয়ে ধরে বিদায় নিল সে। আকাশের দিকে তাকিয়ে আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করলাম, সুস্থভাবে সে যেন শিশুটির কাছে পৌঁছাতে পারে। দুই বছর পর মা, ছেলের দেখা হবে, কী অভাবনীয় সুন্দর দৃশ্য! আমি দূর থেকে কল্পনায় মা, ছেলের সেই মধুর মিলন দেখতে পেলাম।

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন