default-image

মিশিগানে সিম্ফনি ক্লাবের উদ্যোগে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো উদ্‌যাপিত হয়েছে বর্ষামঙ্গল উৎসব। ‘বৃষ্টির জলে স্নাত হোক বিবেক’ স্লোগান শীর্ষক এ উৎসবে অংশগ্রহণের জন্য মিশিগানে বসবাসরত বাঙালিদের মধ্যে যথেষ্ট আগ্রহ দেখা গেছে। সম্প্রতি এ উৎসব আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠান শুরু হয় বিকেল আটটায়। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের শিল্পী সবিতা তরাৎ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বর্ষার একটি আগমনী গান গেয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। বর্ষা নিয়ে একটি প্রবন্ধ পাঠ করেন অদিতি বর্ণা। এরপর ছিল বর্ষা ঋতুকে বরণ, বর্ষা বন্দনা, বর্ষা নিয়ে কথামালা, পঞ্চ কবির গান এবং শিশু–কিশোরদের গান ও নৃত্য। শিশু–কিশোরদের নৃত্যের তালিম দেন ভারতের কোরিওগ্রাফার বৈশালী দেব মৌ।

default-image

গানের ফাঁকে ফাঁকে বর্ষা নিয়ে কবিতা আবৃত্তি করেন মিশিগানে বসবাসরত কবি–সাহিত্যিকেরা। শুধু নারীদের অংশগ্রহণে পরিবেশিত হয় নাটক ‘রজকিনি চণ্ডীদাস’। নাটকটি বেশ প্রশংসিত হয়।

বাংলা ও বাঙালি কমিউনিটির জন্য কাজ করেন, এমন একজন ব্যক্তিকে প্রতিবছর সিম্ফনি ক্লাবের পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়। এবার ক্লাবের পক্ষ থেকে কমিউনিটি নেত্রী হেনা দাশকে উত্তরীয় পরিয়ে ও সদ্য ফোটা একতোড়া গোলাপ দিয়ে তাঁকে সম্মান জানানো হয়।

default-image

অনুষ্ঠানে আরও ছিল কলকাতার জনপ্রিয় শিল্পী সুমন সরকারের একক সংগীতানুষ্ঠান। তিনি বর্ষার একটি গানের মাধ্যমে তার পরিবেশনা শুরু করেন। এরপর তিনি বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় শিল্পীদের গাওয়া সত্তর, আশি ও নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় গানগুলো পরিবেশন করেন। তার গানে মুগ্ধ ও বিমোহিত হন সব দর্শক ও শ্রোতা। অনেককে পেয়ে বসে নস্টালজিয়ায়।

সবশেষে ছিল আকর্ষণীয় র‍্যাফল ড্র। অদিতি বর্ণা ও পূজার সাবলীল উপস্থাপনায় অনুষ্ঠান হয়ে ওঠে সুন্দর ও প্রাণবন্ত। উপস্থিত সবাইকে ক্লাবের পক্ষ থেকে নৈশভোজে আপ্যায়িত করা হয়।

default-image

মিশিগান থেকে প্রকাশিত একমাত্র বাংলা পত্রিকা ‘বাংলা সংবাদ’–এর সম্পাদক ইকবাল হোসাইন ফেরদৌস অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটি তাঁর পত্রিকার ওয়েবসাইট থেকে সরাসরি সম্প্রচার করেন। এতে মিশিগানসহ দেশ–বিদেশের অনেকেই বর্ষামঙ্গল অনুষ্ঠানটি সরাসরি দেখতে পান ও উপভোগ করেন।

আয়োজকেরা বলেন, আমাদের যে উদ্দেশ্য ছিল এখানে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের শিশু-কিশোরদের মধ্যে বাংলা ও বাঙালির কৃষ্টি, ইতিহাস–ঐতিহ্য ইত্যাদি তুলে ধরা। এ ছাড়া প্রবাসে বাঙালিরা যেসব অনুষ্ঠান করেন, তাতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রবীণেরা থাকেন উপেক্ষিত। তাঁদের সম্মান জানানোর বিষয়টি এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা সূচনা করতে পেরেছি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন