default-image

বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকমের বই লেখা হয়েছে, হচ্ছে ও হবে। কিন্তু সাংবাদিক এবিএম মূসার লেখা দুই মলাটের বইটা বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিত্বের এমন সব দিকে আলোকপাত করেছে, যেগুলো সাধারণত কেউ আলোচনায় আনেন না সচরাচর। বইটির ফ্ল্যাপে লেখা আছে, ‘একেবারে ঘরোয়া আটপৌরে ভাষায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের নানা দিক এই বইয়ে এমনভাবে তুলে ধরা হয়েছে, এক কথায় যাকে বলা যায় অতুলনীয়।’ ছোট এই বই অনুচ্ছেদ আকারে লেখা। আরও সহজ করে বললে, বিভিন্ন সময়ের লেখকের লেখা কলামের বই আকারে আত্মপ্রকাশ। বইয়ের শুরুতেই আছে আবদুল গাফফার চৌধুরীর বিশাল ভূমিকা। এরপর আছে লেখকের কথা ‘আমার কথা’ শিরোনামে, তারপর আছে ১১টি অনুচ্ছেদ। এ ছাড়া আছে কিছু আলোকচিত্র। লেখকের দুই দশক ধরে বিভিন্ন দৈনিক ও সাময়িকীতে প্রকাশিত কিছু কলাম, প্রবন্ধ না নিবন্ধের সংকলন বইটি। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লিখতে গিয়ে সবাই ‘জনগণের অবিসংবাদিত নেতা’, ‘সাহসী এক সিংহপুরুষ’ এসব বিষয়ে লিখেছেন কিন্তু এর বাইরেও বঙ্গবন্ধু ছিলেন ‘শ্যাখ সাহেব’, ‘শ্যাখের পোলা’ আবার কারও কাছে শুধু ‘মুজিব ভাই’ বা ‘নেতা’।

লেখক বঙ্গবন্ধুকে সম্বোধন করতেন ‘মুজিব ভাই’। তাই বইটিতে বঙ্গবন্ধুর অন্য গুণাবলির চেয়ে লেখকের দেখা মুজিব ভাইয়ের ব্যক্তিত্বের প্রতি আলোকপাত করা হয়েছে। লেখক শুরু করেছেন একটা লাইন দিয়ে, ‘হিমালয়ের পাদদেশে দাঁড়িয়ে ওপরে তাকিয়ে সর্বোচ্চ পর্বতমালার উচ্চতা মাপা যায় না।...তবে গজ-ফিতা দিয়ে হিমালয়সদৃশ শেখ মুজিবুর রহমানের শারীরিক উচ্চতা অনুমান করা গেলেও তাঁর ব্যক্তিত্বের দৃঢ়তা অথবা হৃদয়ের বিশাল ব্যাপ্তি কোনো মানদণ্ড দিয়ে মাপা অথবা দাঁড়িপাল্লায় ওজন করা সম্ভব ছিল না।’ আবদুল গাফফার চৌধুরী, ফয়েজ আহমদ এবং লেখককে বঙ্গবন্ধু একসঙ্গে দেখলেই বলতেন, ‘এই রে সারছে! আপদ, বিপদ আর মুসিবত একসঙ্গে। কী জানি কী ফ্যাসাদে ফেলবে।’ বঙ্গবন্ধু পরিচিত-অপরিচিত সবার জন্যই ছিলেন এমন দিলখোলা। লেখকের ভাষায়, ‘সত্যিই বঙ্গবন্ধুকে যারা বুঝেছিল, শুধু তারাই বাঙালিকে চিনেছিল, বাংলাদেশকে ভালোবাসতে পেরেছিল।’ অনেকেই ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রশাসনিক দক্ষতা বা দূরদর্শিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কিন্তু লেখক কয়েকটা উদাহরণের মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছেন বঙ্গবন্ধু ঠিক কতখানি দক্ষ ছিলেন।

লেখক বঙ্গবন্ধুর সাত মার্চের ভাষণকে মার্কিন গণতন্ত্রের পথনির্দেশক আব্রাহাম লিংকনের গেটিসবার্গ ভাষণ, ব্রিটিশ জাতির সংকটকালে উইনস্টন চার্চিলের যুদ্ধকালীন একটি বেতার ভাষণের সঙ্গে তুলনা করেছেন। গেটিসবার্গ ভাষণে আব্রাহাম লিংকন বলেছিলেন, ‘এ নিউ নেশন’-এর কথা, ‘এ নিউ বার্থ অব ফ্রিডম’-এর কথা। আর চার্চিল তাঁর ভাষণে বলেছিলেন, হিটলারের ফ্যাসিস্ট আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে। তিনি দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়েছিলেন ‘শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে যুদ্ধ করতে’। সাতই মার্চের ভাষণ শুধু একটি ঘোষণা নয়, ছিল স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ ঘোষণা। এই ভাষণ বঙ্গবন্ধু শুরু করেছিলেন অতি ধীরেসুস্থে, পরে একসময় চরমে পৌঁছেছেন। শুরুতে তিনি একটা ইতিহাস বিবৃত করেছেন, বিদ্যমান রাজনৈতিক পটভূমি ব্যাখ্যা করেছেন। তারপর প্রস্তুতির কথা বলেছেন। সবশেষে একটি আহ্বান দিয়ে বক্তব্য শেষ করেছেন

একবার জার্মান দূতাবাসের প্রেস সচিব মি. ব্রেমের আমন্ত্রণে জার্মানি সফরের আমন্ত্রণপত্রে বঙ্গবন্ধুর অনুমতি আনতে গেলে বঙ্গবন্ধু সেটাতে লেখেন, ‘দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে আপনাদের বিদেশযাত্রার অনুমতি দিতে পারলাম না বলে আমি দুঃখিত।’ এরপর লেখক এমপি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর নিজ এলাকায় কাজ করার জন্য একটা গাড়ির জন্য আবেদনপত্র নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু সেখানে লেখেন, ‘জীবনে কখনো কোনো অন্যায় আবদার প্রশ্রয় দিই নাই, ভবিষ্যতেও দিব না। আপনার প্রার্থনা মঞ্জুর করিতে পারিলাম না বলিয়া দুঃখিত।’ বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে লেখক তাঁর শেষ সাক্ষাতের স্মৃতির কথাও লিখেছেন। ১৪ আগস্ট পড়ন্ত বেলায় দেখা করতে গিয়েছিলেন লন্ডনের ‘সানডে টাইমস’-এর আমন্ত্রণে একটা সেমিনারে যোগ দিতে যাওয়ার প্রাক্কালে। আবেদনটি শুনে বঙ্গবন্ধু বিষণ্ন কণ্ঠে বললেন, ‘চলে যেতে চাস, যা ফিরে এলে নিশ্চয় দেখা হবে।’ বঙ্গবন্ধুর রঙ্গরস করে কথা বলার ক্ষমতা ছিল একেবারেই স্বভাবজাত, এমনকি উনি অন্যের গলা নকল করে গল্প শোনাতে ভালোবাসতেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি অনুযায়ী উপস্থিত বুদ্ধি দিয়ে যেকোনো ঘটনার মধ্যেই উনি কৌতুকের উপাদান খুঁজে নিতেন। এ ছাড়া সবার সঙ্গে নিজের পরিবারের সদস্যদের মতো একেবারেই আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

বঙ্গবন্ধুর পাশাপাশি এই বইয়ে এসেছে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সাদামাটা জীবনপ্রণালি। এসেছে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক গুরু মাওলানা ভাসানীর কথা, এসেছে সব সময়ের প্রেরণাদায়িনী সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছার কথা, এসেছে বঙ্গবন্ধুর সন্তানদের অনাড়ম্বর জীবনযাপনের কথা, এসেছে বঙ্গবন্ধুর অন্তরঙ্গ বন্ধু এবং পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের আইনজীবী সিরাজুল হক এবং তাঁর ছেলে আনিসুল হকের কথা। বইটায় সংক্ষিপ্ত পরিসরে বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিজীবনের খণ্ডিত ছায়া পাওয়া যায়। বেগম ফজিলাতুন্নেছার কথা বলতে গিয়ে লেখক বলেছেন, উনি 'ফার্স্ট লেডি' হতে চাননি। বহু বছর আগে স্বামীর সঙ্গে গ্রাম্য বধূর যে লেবাসটি পরে এসেছিলেন, গণভবন বা বঙ্গভবনে এসে তা ছাড়তে চাননি। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের অধিকাংশ সময় কেটেছে জেলখানায় জেলখানায়। সেই সময় শক্ত হাতে সংসারের হাল ধরে এগিয়ে নিয়েছেন বেগম ফজিলাতুন্নেছা একাই। বলা হয়ে থাকে, শুধু ফজিলাতুন্নেছার টানে বঙ্গবন্ধু গণভবনের সুরক্ষিত কামরা ছেড়ে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে ফিরে আসতেন কর্মক্লান্ত দিনের শেষে। কারণ, বেগম ফজিলাতুন্নেছা একদিনে যেমন ছিলেন তাঁর প্রেরণাদায়িনী আবার অন্যদিকে ছিলেন রাজনৈতিক পরামর্শকও। সবচেয়ে অবাক করার ব্যাপার হচ্ছে, এই আটপৌরে অন্তঃপুরবাসিনী মানুষটা বাড়ির চার দেয়ালের বাইরে না গিয়েও কীভাবে যেন পড়তে পারতেন বাংলাদেশের মানুষের মনের কথা।

বেগম মুজিবের সাদাসিধে জীবনের বর্ণনা দিতে গিয়ে লেখক লিখেছেন তাঁর সব সময়ের সঙ্গী ছিল একটা পিতলের পানের বাটা। ওনাকে একবারই মাত্র একটা রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছিল। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে এসেছেন। তাঁর সম্মানে রেসকোর্স ময়দানে নির্মিত হয়েছিল ‘ইন্দিরা মঞ্চ’। বঙ্গবন্ধু বহু খোশামোদ করে ওনাকে সেই অনুষ্ঠানে নিয়ে গিয়েছিলেন কিন্তু বেগম মুজিব তাঁর পানের বাটাটা নিতে ভুল করেননি। সেই প্রথম কাতান শাড়ি পরে কোথাও গেছেন তাই একহাতে সামলাচ্ছেন শাড়ি আর অন্য হাতে ধরে আছেন সেই পিতলের পানের বাটা। যাতে লোকজন না দেখতে পায়, তাই সেটা কাপড়ের আড়াল করার চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। এটা দেখে বঙ্গবন্ধু মৃদুস্বরে ধমকে উঠে বলেছিলেন, ‘ওটা আবার নিয়ে আসলা ক্যান?’ আগরতলা ষড়যন্ত্রের মামলা চলছে ক্যান্টনমেন্টে। এর মধ্যেই আইয়ুব খান পাকিস্তানে একটা গোলটেবিল বৈঠক ডাকেন তখন সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের বিষয়ে আলোচনার জন্য এবং বঙ্গবন্ধুকে প্রস্তাব দেওয়া হয়, তিনি যেন প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বৈঠকে যোগ দেন। সে সময় বেগম মুজিব বঙ্গবন্ধুকে একটা খবর পাঠালেন, ‘হাতে বঁটি নিয়ে বসে আছি, প্যারোলে মুচলেকা দিয়ে আইয়ুবের দরবারে যেতে পারেন; কিন্তু জীবনে ৩২ নম্বরে আসবেন না।’ প্রকৃতপক্ষে বেগম মুজিব স্বামীর প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত না থেকেও দেশে কী ঘটছে, জনগণ কী ভাবছে, তার খবরাখবর রাখতেন কিন্তু বাঙালি জাতির মুক্তিদাতার স্ত্রী শক্তিদায়িনী, প্রেরণাদায়িনী মহিলার স্থান কেন বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় থাকবে না, তা নিয়ে লেখক আক্ষেপ করেছেন।

default-image

বঙ্গবন্ধুর তিন ছেলের কথা এসেছে বেশ বিস্তারিত আকারে। কারণ, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যার পর সবচেয়ে বেশি কুৎসা ছড়ানো হয় তাঁর ছেলেদের কর্মকাণ্ড নিয়ে। ব্যাপারটাকে অনেকটা ব্যক্তিগত চরিত্র হননও বলা যেতে পারে। তাই হয়তো-বা লেখক ইচ্ছে করেই ওনার ছেলেদের কর্মকাণ্ডের বিশদ বিবরণ তুলে ধরেছেন। কামাল, জামালের পর ছোট ছেলের নাম কেন রাসেল রাখা হলো, এই বিষয়ে মজা করে বঙ্গবন্ধুকে প্রশ্ন করেছিলেন লেখক—কামাল-জামালের সঙ্গে মিল রেখে ছোট ছেলের নাম দামাল রাখতে। এই প্রশ্ন শুনে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘তোর ভাবিকে জিজ্ঞেস কর। আমি তো জেলে জেলেই কাটালাম, কে কখন এল, কার নাম কী রাখা হলো, জানতাম নাকি?’ রাসেলের কোনো ধরনের বিশেষ নিরাপত্তা ছাড়াই একা একা স্কুলে যাওয়াটা লেখককে বিস্মিত করেছিল। আর অবসরে বড় বোনের বাসা পর্যন্ত একা একাই সাইকেল চালিয়ে চলে যাওয়া ছিল তার দৈনন্দিন কাজের অংশ। বঙ্গবন্ধুর মেজ ছেলে জামালের বিষয়ে বলা হয়েছে, তিনি ছিলেন মুখচোরা, লাজুক প্রকৃতির। সর্বদা পশ্চিম কোণের একটা ছোট ঘরে পড়াশোনা করতে দেখা যেত কিন্তু সেই জামালই মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বাড়ি থেকে পালিয়ে ভারতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন এবং সাহসিকতার পরিচয় রাখেন।

বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে কামাল ছিলেন একেবারেই অন্য ধাঁচের। রাজনীতি তাঁর মোটেও ভালো লাগত না। সারাক্ষণ ক্রীড়া, শিল্প, সাহিত্য, সংগীত—এসব নিয়ে থাকতেন। উনিও মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ভারতে গিয়ে প্রশিক্ষণ নেন। পরবর্তী সময়ে তাঁকে নিযুক্ত করা হয় মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়কের এডিসি পদে। যুদ্ধ শেষে কামাল তাঁর দূরদৃষ্টি দিয়ে বুঝেছিলেন, সদ্য স্বাধীন নিঃস্ব দেশে যুদ্ধফেরত তরুণদের সবার রাতারাতি কর্মসংস্থান করা যাবে না। তখন তিনি তরুণ যুবাদের নিয়ে গঠন করলেন বাংলাদেশের প্রথম ব্যান্ড দল যাতে করে তারা কোনো খারাপ কাজে জড়িয়ে না পড়েন। এ ছাড়া যাঁরা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অঙ্গন আর গানের সংস্কৃতিতে আগ্রহী নন, তাঁদের আকৃষ্ট করলেন খেলার জগতে। প্রতিষ্ঠা করলেন আবাহনী ক্রীড়া চক্র। শেখ কামালের রাজনীতিতে বিন্দুমাত্র আগ্রহ ছিল না কিন্তু একবারই তাঁকে নির্বাচনী প্রচারে দেখা গিয়েছিল। বঙ্গবন্ধু লেখককে জোর করে নির্বাচনে দাঁড় করিয়ে দিলে উনি কী করবেন, বুঝতে পারছিলেন না। তখন শেখ কামালকে বঙ্গবন্ধু রাজি করান লেখকের নির্বাচনী এলাকায় যাওয়ার ব্যাপারে। তিনি একটা খোলা জিপে দাঁড়িয়ে নির্বাচনী এলাকার মধ্যে দিয়ে গেলেন আর এলেন। তাঁকে দেখার জন্য রাস্তার দুপাশে মানুষ দাঁড়িয়ে গেল। সবার মুখে একটাই কথা ‘শ্যাখের পোলারে দেখতে যায়।’ শেখ কামাল জনগণের সালাম নিলেন আর হাত নেড়ে নেড়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে গেলেন।

বঙ্গবন্ধুর কথা বলতে গিয়েই অবশ্যম্ভাবীরূপে উঠে এসেছে তাঁর রাজনৈতিক গুরু মাওলানা ভাসানীর কথা। মাওলানা ভাসানীর সম্বন্ধে লেখক বলেছেন, ‘একদিন যাঁর পদভারে এ দেশের মাটি কম্পিত হতো, যাঁর মুখে খামোশ শব্দটি উচ্চারিত হলে ইসলামাবাদের মসনদ কেঁপে উঠত, সেই মাওলানা ভাসানীকে এ দেশের মানুষ ভুলে যেতে বসেছে।...মাওলানা ভাসানী না হলে আওয়ামী লীগ হতো না, শহীদ সোহরাওয়ার্দী ভারত থেকে পাকিস্তানে আসতেন না...এমনই অনেক কিছু হতো না, যদি না এই ক্ষণজন্মা পুরুষটির নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হতো।...বস্তুত সারা জীবন এই মানুষটি বিতর্কিত থেকেছেন।’ শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন মাওলানা সাহেবের আদরের ‘মজিবর’। মাওলানা সাহেব সব সময়ই বলতেন, ‘আমার মজিবর’ না থাকলে এটা হতো না, ওটা করতে পারতাম না। শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন আওয়ামী লীগের তৃতীয় কাতারের নেতা, কিন্তু তাঁর মধ্যেই ভাসানী দেখতে পেয়েছিলেন ভবিষ্যতের দাবদাহের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ, যে আগুন ছড়িয়ে গেল সবখানে। কালের স্রোতে দুজনের পথ দুদিকে বেঁকে গেলেও যোগাযোগটা ছিল। চরম বিপদের মুহূর্তে বঙ্গবন্ধু স্মরণ করতেন তাঁর প্রিয় মাওলানা সাহেবকে। মাওলানা সাহেবের নেতৃত্বেই বাংলাদেশের মানুষ ‘জেলের তালা ভাঙব/শেখ মুজিবকে আনব' স্লোগান দিয়ে তাঁকে আগরতলার মিথ্যা মামলা থেকে মুক্ত করে এনেছিলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধুকে প্রথম দেখায় জড়িয়ে ধরে মাওলানা সাহেব কেঁদে বলেছিলেন, ‘মজিবর, তুমি বেঁচে এসেছ?’ বাহাত্তর সালে এক টিভি সাক্ষাৎকারে মাওলানা সাহেব বলেছিলেন, ‘মজিবরের বিপদ এখনো কাটেনি।’ তিন বছরের মাথায় সেটা সত্যি হয়েছিল। একবার আওয়ামী লীগের ছেলেরা মাওলানা সাহেবকে অপমান করার চেষ্টা করলে বঙ্গবন্ধু উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘তারা পেয়েছে কী? কতটুকু জানে তারা মাওলানা সম্পর্কে।’

এরপর এসেছে সাতই মার্চের ভাষণ প্রসঙ্গ। লেখক বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণকে মার্কিন গণতন্ত্রের পথনির্দেশক আব্রাহাম লিংকনের গেটিসবার্গ ভাষণ, ব্রিটিশ জাতির সংকটকালে উইনস্টন চার্চিলের যুদ্ধকালীন একটি বেতার ভাষণের সঙ্গে তুলনা করেছেন। গেটিসবার্গ ভাষণে আব্রাহাম লিংকন বলেছিলেন, ‘এ নিউ নেশন’-এর কথা, ‘এ নিউ বার্থ অব ফ্রিডম’-এর কথা। আর চার্চিল তাঁর ভাষণে বলেছিলেন, হিটলারের ফ্যাসিস্ট আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে। তিনি দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়েছিলেন ‘শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে যুদ্ধ করতে’। সাতই মার্চের ভাষণ শুধু একটি ঘোষণা নয়, ছিল স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ ঘোষণা। এই ভাষণ বঙ্গবন্ধু শুরু করেছিলেন অতি ধীরেসুস্থে, পরে একসময় চরমে পৌঁছেছেন। শুরুতে তিনি একটা ইতিহাস বিবৃত করেছেন, বিদ্যমান রাজনৈতিক পটভূমি ব্যাখ্যা করেছেন। তারপর প্রস্তুতির কথা বলেছেন। সবশেষে একটি আহ্বান দিয়ে বক্তব্য শেষ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অতীত থেকে বর্তমানে এল, তারপর ভবিষ্যতের দৃঢ় প্রত্যয়ের ঘোষণা ‘জয় বাংলা’। তাই সাতই মার্চের ভাষণ পড়তে হবে, বিশ্লেষণ করতে হবে আবেগ দিয়ে নয়।

default-image

বঙ্গবন্ধুর বিশাল হৃদয়ের পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে লেখক লিখেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে আলোচনায় কখনো ব্যক্তি মুজিবকে পরিচিত করানো হয় না। জাতির পিতা শেখ মুজিব, স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিব, রাজনীতিবিদ ও একটি জাতিসত্তার প্রবক্তা, একটি স্বাধীন দেশের রূপকার, ব্যর্থ বা সফল প্রশাসক শেখ মুজিব আলোচিত হন, সমালোচিত হন, কিন্তু ব্যক্তি মুজিব, আমাদের মুজিব ভাই এবং জনগণের শ্যাখ সাব সেভাবে আলোচিত হন না।’ বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে এসেছিলেন বলেই অনেক স্বাধীনতাবিরোধী ক্ষমা পেয়েছিলেন। আসলে বঙ্গবন্ধু তাঁর চরম শত্রুরও সংসারের খবর নিতেন। বন্দিদশা থেকে ফিরেই তিনি প্রথমে সাংবাদিকদের খবর নিয়েছিলেন। একজন পাকিস্তানি সাংবাদিক যে সব সময় বঙ্গবন্ধুর সব কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করতেন, বঙ্গবন্ধু নিজ উদ্যোগে তাঁকে খুঁজে বের করে পাকিস্তানে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন, কারণ তখন পর্যন্ত পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃত দেয়নি। তাই বাংলাদেশ থেকে সরাসরি পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ ছিল না।

বঙ্গবন্ধুর নেতা হওয়া নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, ‘শেখের মাথায় কিছু নাই, মুখের জোরে রাজনীতি করে গেল।’ এসব ঢালাও মন্তব্যের জবাবে লেখক লিখেছেন, ‘এ দেশে নেতা হওয়ার জন্য একটিমাত্র বস্তু অতীব প্রয়োজন। তা হচ্ছে হৃদয়। বিরাট এক হৃদয়ের অধিকারী হতে হবে। আর সে জন্য থাকতে হবে একটা বড়সড় ওজনদার কলিজা।’ অবশ্য বঙ্গবন্ধুর চরিত্রের সবচেয়ে দুর্বল দিকও ছিল তাঁর নরম কলিজা। যে যত সমালোচনাই করুক, একটা বিষয় খুবই স্পষ্ট ছিল সেটা হচ্ছে, একটা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে বঙ্গবন্ধু ছাড়া অন্য কেউ পুনর্গঠিত করতে পারতেন না। বঙ্গবন্ধুর মতো পৃথিবীর আর কোনো নেতা শূন্য কোষাগার নিয়ে কোনো রাষ্ট্রের হাল ধরেননি। বঙ্গবন্ধুর সরকার হাল না ধরলে দেশের বিবদমান পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নিত, সে কথা খুব কমই আলোচিত হয়। তিনি একটা সম্ভাব্য গৃহযুদ্ধের হাত থেকে দেশকে বাঁচিয়েছিলেন। ভারতীয় সেনাদের ফেরত পাঠিয়েছিলেন। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, কেন তিনি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন? আসলে তিনি সমগ্র বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষকে একটি পরিবার মনে করতেন। নিজে ছিলেন সেই পরিবারের প্রধান। পরিবারে সবাই ছিল তাঁর স্বজন, আপনজন, আত্মার আত্মীয়। আসলে বঙ্গবন্ধুর মতো করে এত বলিষ্ঠ উচ্চারণে আর কেউ জনগণকে ভালোবাসার কথা বলতে পারতেন কি?

বঙ্গবন্ধুর কথা বলতে গিয়েই অবশ্যম্ভাবীরূপে উঠে এসেছে তাঁর রাজনৈতিক গুরু মাওলানা ভাসানীর কথা। মাওলানা ভাসানীর সম্বন্ধে লেখক বলেছেন, ‘একদিন যাঁর পদভারে এ দেশের মাটি কম্পিত হতো, যাঁর মুখে খামোশ শব্দটি উচ্চারিত হলে ইসলামাবাদের মসনদ কেঁপে উঠত, সেই মাওলানা ভাসানীকে এ দেশের মানুষ ভুলে যেতে বসেছে।...মাওলানা ভাসানী না হলে আওয়ামী লীগ হতো না, শহীদ সোহরাওয়ার্দী ভারত থেকে পাকিস্তানে আসতেন না...এমনই অনেক কিছু হতো না, যদি না এই ক্ষণজন্মা পুরুষটির নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হতো।...বস্তুত সারা জীবন এই মানুষটি বিতর্কিত থেকেছেন।’ শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন মাওলানা সাহেবের আদরের ‘মজিবর’। মাওলানা সাহেব সব সময়ই বলতেন, ‘আমার মজিবর’ না থাকলে এটা হতো না, ওটা করতে পারতাম না

বঙ্গবন্ধুর ক্যারিশমাটিক চরিত্রের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক ছিল তাঁর অসাধারণ স্মৃতিশক্তি। বাংলার যেকোনো প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে যে কেউ দেখা করতে এলেই বলতেন, ‘আরে তুই অমুক গ্রামের অমুকের পোলা না? তোর দাদা কেমন আছে? সেই ছোট্ট বোনটির বিয়ে হয়েছে?’ লেখকের নিজ জেলা ফেনীর মরহুম রুহুল আমিনকে বঙ্গবন্ধু অনেক স্নেহ করতেন। ভুসির ব্যবসা করতেন বলে বঙ্গবন্ধু তাঁকে ভুসি বলেই সম্বোধন করতেন। একবার একটা তদবির নিয়ে লেখকের সঙ্গে ৩২ নম্বরে এলে বঙ্গবন্ধু তাঁকে জড়িয়ে ধরে ‘ওরে আমার ভুসি এসেছে’ বলে হইচই শুরু করলেন। এরপর ভুসি মাখনের মতো গলে গেলেন, তদবিরের কথা বেমালুম ভুলে গেলেন। দেশে ফেরার পর বিবিসির সাংবাদিক ডেভিড ফ্রস্ট তাঁর সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য ঢাকা এলে জিজ্ঞেস করেছিলেন, (হোয়াট ইজ ইওর স্ট্রেংথ?) আপনার সবচেয়ে বড় শক্তি কী? বঙ্গবন্ধু জবাব দিয়েছিলেন, (মাই পিপল)। আমার জনগণ।’ তার পরের প্রশ্ন, (হোয়াট ইজ ইওর উইকনেস?) ‘আপনার সবচেয়ে বেশি দুর্বলতা কী?’ বঙ্গবন্ধু উত্তর দিয়েছিলেন, (মাই লাভ ফর মাই পিপল।) ‘আমার জনগণের জন্য ভালোবাসা।’ শেখ মুজিবুর রহমানই একমাত্র জাতির জনগণের নেতা, যিনি গর্বের সঙ্গে এমনটি বলতে পারতেন।

বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যার পর তাঁর বিচার নিয়ে চলেছে দীর্ঘসূত্রতা। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের রায়ের পর লেখক লিখেছিলেন, ‘খুনের বিচার হয়েছে, হত্যার বিচার হয়নি।’ আর এই বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে শুরু থেকেই জড়িত ছিলেন আইনজীবী সিরাজুল হক আর তাঁর সন্তান আনিসুল হক। একবার লেখক আনিসুল হককে জিজ্ঞেস করেছিলেন এই বিষয়ে। উত্তরে তিনি বলেছিলেন, এই বিষয়টা বিচারকাজকে বিলম্বিত করত, কারণ বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যা আসলে ‘কতিপয় বিপথগামী সেনাসদস্য’ করেননি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা ছিল আন্তর্জাতিক রাজনীতির কূটচালের একটি অংশ। বঙ্গবন্ধুর হত্যা রহস্যের যদি কেউ উদ্যোগ নেন, তাহলে তাঁকে এর আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট অবশ্যই বিবেচনায় আনতে হবে। ক্রিস্টোফার হিচেনস-এর লেখা ‘দ্য ট্রায়াল অব হেনরি কিসিঞ্জার’ বইয়ে কিছুটা আলোকপাত করা হয়েছে। হিচেনসের বইয়ের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘কিসিঞ্জার একজন বদমায়েশ, দুষ্কৃতকারী ও একজন খুনি—এ রৌগ, এ ক্রিক অ্যান্ড এ মার্ডারার।’ ক্রিস্টোফারের অনেক আগে লিফৎশুলজ বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্র ও বিভিন্ন মহলের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে লেখালেখি করেছেন। প্রথম ‘আনফিনিশড রেভল্যুশন’ বইটিতে তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেনানী কর্নেল তাহেরের ফাঁসি ও বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্য কাহিনি বর্ণনা করেছেন। লরেন লিফৎশুলজ ছাড়াও একাত্তরের বাংলাদেশে নিযুক্ত আমেরিকান কনসাল জেনারেল আর্চার ব্লাডের ‘দ্য ব্রুটাল বার্থ অব বাংলাদেশ’ বইয়ে এর উদ্ধৃতি রয়েছে।

কিসিঞ্জার যখন বাংলাদেশে এসেছিলেন, তখনই মার্কিন দূতাবাসে একটি রহস্যজনক বৈঠক হয়েছিল। স্টেট ডিপার্টমেন্টে সাবেক সিআইএ-প্রধানের সাক্ষ্য থেকে আরও যে বক্তব্য বেরিয়ে এসেছে, তা হলো, এই বৈঠকের ব্যাপারে বঙ্গবন্ধুকে অবহিত করা হয়েছিল। কিসিঞ্জার ঢাকা থাকাকালেই আমেরিকান দূতাবাসে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল অথবা তার বীজ বপন করা হয়েছিল। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, ইউরো শাখার তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট টমাস হ্যামবার্গার লেখকের সঙ্গে এক সাক্ষাতে বলছিলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের আভাস অন্য বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের কূটনীতিকেরা পেয়েছিলেন।’ তাঁর জানামতে, আরও অনেক দেশের কূটনীতিকের সঙ্গে হত্যাকারীরা কথা পর্যন্ত বলেছিল। কু ব্যর্থ হলে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আশ্বাস চেয়েছিল। যেসব দেশ আলোচনায় আসে তার মধ্যে এক নম্বরে ছিল পাকিস্তান। পরবর্তী সময়ে লেখকের সঙ্গে পাকিস্তান ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মিনহাজ বার্নারের কথা হয়, যাঁর ভাই মিরাজ মোহাম্মদ ছিলেন জুলফিকার আলী ভুট্টোর একান্ত সচিব। বার্নার বলেন, ১৫ আগস্ট ভোর ছয়টার (বাংলাদেশ সময় সাতটা) ভুট্টো উল্লসিত কণ্ঠে মিরাজকে বঙ্গবন্ধু হত্যার খবরটি টেলিফোন করে দিয়েছিলেন। তখন লেখক ও মিনহাজ বার্নার দুজনই আলোচনা করেছিলেন সেদিন এত ভোরে এমন একটি সংবাদ পেলেন কী করে?

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সত্যিকার অর্থেই ছিলেন নিজেই একটা প্রতিষ্ঠান, যার বুক ভরা ছিল বাংলাদেশের মানুষের জন্য নিঃস্বার্থ ভালোবাসা কিন্তু তাঁকে নিয়ে বা তাঁর কর্মকাণ্ড নিয়ে সেই অর্থে কোনো গবেষণা চোখে পড়ে না। বঙ্গবন্ধুর মাথায় সব সময়ই চিন্তা ঘুরপাক খেত, কীভাবে এই জাতির মানুষকে শোষণের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করবেন। ওনার কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলবে। বর্তমান সময়ে এসে ওনার অনেক সিদ্ধান্তকেই অপরিপক্ব আবেগঘটিত মনে হতে পারে কিন্তু আমরা ভুলে যাই যুদ্ধবিধ্বস্ত সদ্যোজাত একটা দেশের কথা। যে দেশের সরকারি কোষাগারে কোনো টাকা ছিল না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নিশ্চিত করার জন্য কোনো সুসংবদ্ধ পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। প্রশাসনে ছিলেন না কোনো অভিজ্ঞ লোক, এমনকি ছিলেন না কোনো প্রশাসনিক কাঠামো। শুধু একটি ভৌগোলিক সীমানা, একটি মানচিত্র, গর্ব করার মতো একটা ইতিহাস আর একটা পতাকা নিয়ে যাত্রা শুরু একটি জাতির। সেই জাতির নেতৃত্বে ছিলেন একজন সর্বজনমান্য জননেতা, যাঁর ওপর দায়িত্ব ন্যস্ত হয়েছিল সেই অগোছালো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনার। দেশটির নাম বাংলাদেশ, নেতার নাম শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু বলতেন, ‘একটি ইউনিয়ন কাউন্সিল চালানোর অভিজ্ঞতা নেই, এদের নিয়ে আমাকে সাড়ে সাত কোটি মানুষের দেশ চালাতে হচ্ছে, এ কথাটি কেউ বুঝতে চায় না।’

*মো. ইয়াকুব আলী, মিন্টো, সিডনি, অস্ট্রেলিয়া

বিজ্ঞাপন
দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন