default-image

যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সিংহভাগ বসবাস করেন ইস্ট লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে। বিলেতে বাংলাদেশিদের আন্দোলন–সংগ্রাম আর নানা ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী টেমস নদীর কূলঘেঁষা এ বারা। এখানকার স্থানীয় কিংবা বাংলাদেশি রাজনীতিতে সব সময় সরগরম থাকে এই বারা। বাংলাদেশ থেকে আসা যেকোনো কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক কিংবা রাজনীতিবিদ যুক্তরাজ্যে আসলে ব্রিকলেন বা বাংলা টাউন না ঘুরে যান না। কিন্তু বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির প্রভাবে বছরব্যাপী লকডাউনের কারণে সবকিছুই ছিল নীরব। তবে টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়রপদ্ধতি থাকবে কি না, এ নিয়ে ৬ মে একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে সীমিত লকডাউনের মধ্যেও টাওয়ার হ্যামলেটসের রাজনীতি ফিরেছে আগের ভূমিকায়। তবে তা মাঠের চেয়ে অনলাইনে বেশি সক্রিয়। প্রতিদিনই পক্ষে–বিপক্ষে চলছে প্রচার প্রচারণা।

১৯৬৫ সালের ১ এপ্রিল লন্ডন শহরের টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল সৃষ্টি হলেও এ বারায় মেয়র পদে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১০ সালের ২১ অক্টোবর। তার আগে কাউন্সিলরদের ভোটে মেয়ররা নির্বাচিত হলেও মেয়রের কোনো নির্বাহী ক্ষমতা ছিল না। ২০১০ সাল থেকে গত ১০ বছরে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে পরপর চারবার মেয়র পদে সরাসরি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও আগামী নির্বাচনে মেয়র পদে জনগণের সরাসরি ভোট দেওয়ার অধিকার থাকবে কি না, তা নিয়ে ৬ মে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে একটি গণভোট। এই ভোটের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে মেয়র পদের ভবিষ্যৎ। ব্রিটেনের মূলধারার প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি ও বিরোধী দল লেবার পার্টিও চায় না টাওয়ার হ্যামলেটসে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে মেয়র নির্বাচিত হোক। তবে টাওয়ার হ্যামলেটসের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাবেক মেয়র লুৎফর রহমান ও তাঁর দল এস্পায়ার পার্টি মেয়র পদে জনগণের সরাসরি ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এই নির্বাচনকে সামনে রেখে দীর্ঘদিন রাজনীতি থেকে দূরে থাকা লুৎফুর রহমানও সক্রিয় ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। গত ২৭ এপ্রিল ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি মেয়রপদ্ধতি রাখার পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন এবং সাংবাদিক ও কমিউনিটি ব্যক্তিত্বদের প্রশ্নের জবাব দেন। লুৎফুর রহমান তাঁর বক্তব্যে মেয়রের জবাবদিহি জনগণের হাতে রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একজন মেয়র যখন জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন, তখন সেই মেয়রকে তাঁর কাজের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। কিন্তু কাউন্সিলরদের ভোটে নির্বাচিত কাউন্সিল লিডার জনগণের মুখাপেক্ষী নন। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জনগণকে ব্যতিরেকে তাঁরা কয়েকজন মিলে সিদ্ধান্ত নেন। তা ছাড়া বারার উন্নয়ন ও বাজেট প্রণয়নে মেয়রের নির্বাহী ক্ষমতা থাকায় উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।

এদিকে লেবার পার্টির কাউন্সিলর সাবিনা আক্তার টাওয়ার হ্যামলেটসকে দ্বিতীয় বাংলাদেশ আখ্যায়িত করে লিখিত বক্তব্যে বলেন, মেয়রপদ্ধতির চেয়ে কাউন্সিলপদ্ধতি আরও বেশি গণতান্ত্রিক। কারণ, মেয়রপদ্ধতিতে এক ব্যাক্তির হাতে ক্ষমতা বেশি থাকার ফলে কাউন্সিলরদের ভূমিকা কম কার্যকর হয়। একজন মেয়র চার বছরের জন্য নির্বাচিত হন। কিন্তু কাউন্সিলররা চাইলে একজন কাউন্সিল লিডারকে প্রতিবছর বদলাতে পারেন। মেয়রব্যবস্থা জনগণের প্রতি আস্থা জাগ্রত করে না এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ কম অংশগ্রহণমূলক করে তোলে।

তবে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের বর্তমান স্পিকার আহবাব চৌধুরী মেয়রাল সিস্টেম নিয়ে ৬ মে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমি স্পিকার হিসেবে “হ্যাঁ” বা “না” কোনো মন্তব্য করতে পারি না। আমাকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হয়।’

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন